করোনার প্রভাব
© ফাইল ফটো
করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ হয়ে এলোমেলো হয়ে গেছে পুরো শিক্ষাপঞ্জি। এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা অনির্দ্দিষ্টকালের বন্ধের পর এবার এসএসসি ও সমমানের ফল যথাসময়ে প্রকাশিত হচ্ছে না। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এ ফল প্রকাশ হওয়ার কথা ছিল। যথাসময়ে এ ফল প্রকাশিত না হওয়ায় পিছিয়ে যাবে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও। নির্দ্দিষ্ট সময়ে ফল প্রকাশিত না হওয়ায় এক ধরণের অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে ২০ লাখেরও বেশি ফলপ্রত্যাশী।
জানা যায়, চলতি বছরের ৩ ফেব্রুয়ারি দেশের তিন হাজার ৫১২টি কেন্দ্রে একযোগে শুরু হয় এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, যাতে অংশ নেন ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী। ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত এসএসসি ও কারিগরির তত্ত্বীয় এবং ১ মার্চ পর্যন্ত দাখিলের তত্ত্বীয় বিষয়ের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। আর ব্যবহারিক পরীক্ষা ২৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৫ মার্চের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়।
শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে, গত এক যুগ ধরেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যেই ফল প্রকাশ করা হয়। সেই হিসাবে মে মাসের প্রথম সপ্তাহে এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশ হওয়ার কথা; কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে যথাসময়ে প্রকাশিত হচ্ছে না এসএসসির ফল।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ২৬ মার্চ থেকে সবকিছু বন্ধ হওয়ার পর মাঝপথে এসে এসএসসির নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্নোত্তরের অপটিক্যাল মার্ক রিডার (ওএমআর) শিট দেখা স্থগিত করে শিক্ষা বোর্ডগুলো। এছাড়া রচনামূলক উত্তরপত্র দেখায়ও সমন্বয় করতে পারছে না তারা। তবে নানা ধরনের প্রস্তুতি হিসেবে অভিভাবকদের মোবাইল ফোন নম্বর সংগ্রহ করছে একাধিক বোর্ড; কিন্তু কবে ফল প্রকাশ করা সম্ভব হবে তা বলতে পারছে না বোর্ডগুলো।
আন্ত:শিক্ষা বোর্ড সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হক বলেন, মানুষ ঘর থেকে বের হতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে তাড়াহুড়া করে এসএসসির ফল প্রকাশের সুযোগ নেই। গত ২৬ মার্চ সব কিছু বন্ধ হওয়ার আগেই আমাদের ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মাঠপর্যায়ে আমরা নিয়মিত খোঁজ রাখছি। পরীক্ষকরা খাতা দেখে প্রধান পরীক্ষকদের কাছে জমা দিয়েছেন।
তিনি বলেন, রচনামূলক অংশের দেড় কোটি ওএমআর আমাদের স্ক্যানিং করতে হবে, যার ৪০ লাখ এখনো বাকি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অর্থাৎ অফিস খুললে, যানবাহন চললে আগে আমাদের হাতে খাতা পৌঁছতে হবে। এরপর যদি ডাবল শিফটে কাজ করি তাতেও স্ক্যানিং শেষ করে নৈর্ব্যক্তিকের নম্বরের সঙ্গে নম্বর সমন্বয় করতে ১৫ দিন লাগবে। ফলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার ১৫ দিন পর আমরা এসএসসির ফল প্রকাশ করতে পারব।’
তিনি আরও বলেন, এইচএসসির ক্ষেত্রেও একই অবস্থা। যেদিনই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে সেদিনই পরীক্ষার শুরু করার সুযোগ নেই। সেখানেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ১৫ দিন সময় হাতে রেখে রুটিন প্রকাশ করা হবে।
গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। প্রথমে শিক্ষা মন্ত্রণালয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের বিপক্ষে থাকলেও ১৬ মার্চ মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের আলোকে ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে। পরে ছুটির মেয়াদ ৯ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। করোনার প্রাদুর্ভাব না কমায় আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত তৃতীয় দফায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২৫ এপ্রিলের পর যেহেতু শিক্ষাপঞ্জি অনুসারে রোজা ও ঈদের ছুটি রয়েছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ঈদ পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকছে। এরপর চিন্তা ছিল ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার; কিন্তু দেশে যেভাবে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তাতে ঈদের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও ১৫-২০ দিন অবস্থা পর্যবেক্ষণ না করে অভিভাবকরা তাঁদের সন্তানদের স্কুল-কলেজে পাঠাবেন না। ফলে ঈদের পরও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা দিন দিন ক্ষীণ হয়ে আসছে।