আগামী ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। তিনি বলেন, পরীক্ষা শুরু হওয়ার ২৫ মিনিট পূর্বে প্রশ্নের সেট কোড ঘোষণা করা হবে। সে অনুযায়ী নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট/দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তার উপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও পুলিশ কর্মকর্তার স্বাক্ষরে প্রশ্নপত্রের প্যাকেট বিধি মোতাবেক খুলতে হবে।
আসন্ন এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত বৈঠক শেষে শিক্ষামন্ত্রী সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘নকলমুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষায় এবার প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না বলে আশা করছি।’
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক জিয়াউল হকসহ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিতি ছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস-সংক্রান্ত গুজব কিংবা এ কাজে তৎপর চক্রগুলোর কার্যক্রমের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ নজরদারি জোরদার করবে। প্রশ্নপত্র ফাঁস কিংবা পরীক্ষার্থীদের কাছে উত্তর সরবরাহে জড়িত ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসন কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’
তিনি বলেন, ‘এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সুষ্ঠু, সুন্দর ও নকলমুক্ত পরিবেশে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে আগামী ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। যেহেতু আমরা বিশেষ কোনও ব্যবস্থা নিতে পারছি না, তাই এবার সব ধরনের কোচিং বন্ধ থাকবে।’
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, ‘নানা ধরনের কোচিং আছে। যেহেতু একই জায়গায় বিভিন্ন ধরনের কোচিং থাকে, অনেকে অসাধু উপায়ে নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও কোচিং করিয়ে থাকে। এরকম দেখা গেছে। তাই আমরা সব কোচিং বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উল্টাপাল্টা প্রশ্ন পরীক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়ায় পরীক্ষা নিয়ে বিভিন্ন সমালোচনা হয়েছে। এ বিষয়ে এবার নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদাভাবে আসন বিন্যাস করা হয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ থেকে সারাদেশের পরীক্ষা মনিটরিং করা হবে।
এছাড়া পরীক্ষা শুরুর ৩০ মিনিট পূর্বে সকল পরীক্ষার্থীকে আবশ্যিকভাবে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করে আসন গ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোন পরীক্ষার্থী এর পর পরীক্ষা কেন্দ্রে আসলে রেজিস্ট্রারে নাম, ক্রমিক নং ও বিলম্বের কারণ উল্লেখ করতে হবে। বিলম্বে আসা পরীক্ষার্থীদের তালিকা প্রতিদিন কেন্দ্র সচিব সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে অবহিত করবে।
কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ব্যতীত পরীক্ষা কেন্দ্রে অন্য কেউ মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার করতে পারবেন না। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত ছবি তোলা ও ইন্টারনেট ব্যবহারের সুবিধাবিহীন একটি সাধারণ ফিচারফোন ব্যবহার করতে পারবেন। অননুমোদিত ফোন বাইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারকারীগণের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
ট্রেজারী/থানা হতে প্রশ্নপত্র গ্রহণ ও পরিবহন কাজে নিয়োজিত কর্মকর্তা-শিক্ষক-কর্মচারীগণ কোন ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না এবং প্রশ্নপত্র বহন কাজে কালো কাঁচযুক্ত মাইক্রোবাস বা এরূপ কোন যানবাহন ব্যবহার করা যাবে না।
উল্লেখ্য, এ বছর আটটি সাধারণ ও মাদরাসা এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৩০৯ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেবে। তার মধ্যে সাধারণ আটটি বোর্ডের অধীনে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০, মাদরাসা বোর্ডের অধীনে ৭৮ হাজার ৪৫১ ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৫ পরীক্ষার্থী রয়েছে। সারাদেশে মোট ৯ হাজার ৮১টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশ নেবে। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে ২ হাজার ৫৮০ কেন্দ্রে।