কম বরাদ্দ আর শিক্ষক স্বল্পতাই গবেষণা খাতের বড় বাঁধা

০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:০২ PM

© টিডিসি ফটো

গোপালগঞ্জে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বশেমুরবিপ্রবি) প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্দেশ্য ছিলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে পঠন-পাঠনসহ গবেষণার সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টি। তবে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর প্রায় ১০ বছর পার হলেও বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও দেশের গবেষণা খাতে কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে পারেনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা মনে করছেন, গবেষণা খাতে কম বরাদ্দ এবং শিক্ষক স্বল্পতা এক্ষেত্রে প্রধান বাঁধা। তাছাড়া কয়েকজন শিক্ষক অভিযোগ করেন, বেশিরভাগ সময় বরাদ্দকৃত টাকা বছরের শেষ সময়ে দেয়া হয়, যা তাদের গবেষণা কর্মের ওপর প্রভাব ফেলে।

এ বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির সায়েন্স অনুষদের ডিন ড. মো: আব্দুর রহিম খান বলেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার জন্য যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় সেটি পর্যাপ্ত নয়। এত স্বল্প অর্থে গবেষণা সম্পন্ন করা অত্যন্ত কঠিন। আমি মনে করি, অধিক সংখ্যক গবেষণায় অপর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে কম সংখ্যক গবেষণাপ্রকল্পে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া উচিত এবং যাদেরকে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হবে তারা প্রকৃতপক্ষেই কাজ করতে পারবে কিনা সেটিও নিশ্চিত হওয়া উচিত। এটি করা হলে প্রতিবছর আমরা বেশ ভালো কিছু গবেষণাকার্য পাবো।

একই সমস্যা উল্লেখ করে বশেমুরবিপ্রবির জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. এম.এ সাত্তার বলেন, গবেষণার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত পরিমাণ অর্থ নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই স্বল্প। অনেক সময় দেখা যায় ভালো মানের একটি জার্নালে আর্টিকেল প্রকাশের জন্য যে পরিমাণ ফি জমা দিতে হয় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একেকটা গবেষণায় ওই পরিমাণ অর্থও বরাদ্দ দেয়া হয় না। এছাড়া আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ল্যাব সংকট এবং অধ্যাপক সংকট রয়েছে। নতুন গবেষকদের জন্য নেই কোনো ট্রেনিং এর ব্যবস্থাও। এর ফলে নতুন যোগদান করা শিক্ষকদের জন্য ভালো মানের গবেষণা করা তুলনামূলক কঠিন হয়ে গেছে।

শিক্ষক স্বল্পতার বিষয় উল্লেখ করে ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো: শাহজাহান বলেন, আর্থিক স্বল্পতা ছাড়াও আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার ক্ষেত্রে আরেকটি বড় চ্যালেঞ্জ হলো শিক্ষক সংকট। গবেষণার জন্য একজন শিক্ষককে অনেক সময় দিতে হয়। কিন্তু বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক না থাকায় শিক্ষকদের বেশিরভাগ সময়ই ক্লাস, পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত থাকতে হয় এবং তারা গবেষণা কার্যে পর্যাপ্ত সময় দিতে পারেন না।

এসকল সমস্যার বিষয়ে বশেমুরবিপ্রবির উপাচার্য প্রফেসর ড. এ. কিউ. এম মাহবুব বলেন, এখানে যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় সেটি প্রকৃতপক্ষেই অনেক কম। এ বছর থেকে আমরা বিষয়টি পরিবর্তনের চেষ্টা করবো। বেশি সংখ্যক গবেষণায় কম অর্থ বরাদ্দ না দিয়ে নীতিমালার মাধ্যমে যারা ভালো গবেষক তাদেরকে গবেষণাকার্যে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়ার চেষ্টা করা হবে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদন-২০১৮ অনুযায়ী বশেমুরবিপ্রবিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত ১:৪০।

আর বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১৫-১৬ অর্থ বছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থ বছর পর্যন্ত বশেমুরবিপ্রবির গবেষণা খাতে মোট ১৫০টি গবেষণা প্রকল্পের বিপরীতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ১ কোটি ২৭ লাখ ২৫ হাজার টাকা।

প্রজেক্ট ভেদে একেকটি গবেষণার জন্য ৩০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। তবে বেশিরভাগ গবেষণার ক্ষেত্রেই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকা।

অ্যাসিস্ট্যান্ট এক্সিকিউটিভ নিয়োগ দেবে বিএসআরএম গ্রুপ, আবেদ…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
নানাকে বানালেন বাবা, মুক্তিযোদ্ধা কোটায় ভর্তি হওয়ার চেষ্টা
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সমস্যায় জর্জরিত পাবিপ্রবির গণতন্ত্র হল, ভোগান্তিতে শিক্ষার্…
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
পাল্টাপাল্টি অবস্থানে শিক্ষার্থী-ছাত্রদল, থমথমে রুয়েট
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
চোরাচালান মামলায় চীনা নাগরিকসহ তিন আসামি কারাগারে 
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬
শিক্ষকদের এপ্রিলের বেতনের প্রস্তাব পাঠানো নিয়ে যা বলছে মাউশি
  • ২৭ এপ্রিল ২০২৬