আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম ও আবরার ফাহাদ © ফাইল ফটো
আজ মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। গত বছরের ৬ অক্টোবর রাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র ও তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আবরারকে ছাত্রলীগের এক নেতার কক্ষে নিয়ে নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়।
সন্তান নির্মম হত্যার শিকার হওয়ার পর থেকে প্রতিটি দিন দুঃসহ যন্ত্রণায় কাটছে আবরারের মা-বাবার। এক বছরেও সন্তান হারানোর শোক সহ্য করতে পারছেন না তারা।
মেধাবী শিক্ষার্থীর কথা স্মরণ করে তার বাবা বরকত উল্লাহ বলেন, “এই এক বছরে প্রতিটি মুহূর্তে ছেলে হারানোর কথা মনে করে প্রতিটি দিন কাঁদে তার মা। প্রতিটি রাতে কান্নাকাটি করে ঘুমায়। এমন কোনও দিন নেই কাঁদে না তার মা। ছেলের শোকে মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আবরারের মা আবরার ফাহাদের মা রোকেয়া বেগম বলেন, ‘আজ আমার ছেলে বেঁচে থাকলে এ সময় আমার কাছে থাকতো। করোনায় তো বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ছিল। তাকে আমি পছন্দমতো রান্না করে খাওয়াতে পারতাম।’ নানান কথা মনে করে প্রতিটি মুহূর্তে ছেলের জন্য কান্নাকাটি করে।”
বরকত উল্লাহ আরও বলেন, ‘আসামিরা আমার ছেলেকে ছয় ঘণ্টা ধরে আমানবিকভাবে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যা করে। সভ্য জগতে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে না। এই ঘটনাটি আদিম যুগের বর্বরতার মতো। সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো জায়গায় এরকম ঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। আমি এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সব আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি মৃত্যুদণ্ড আশা করি।’
জানা গেছে, আবরারের বাবা বরকত উল্লাহ একটি এনজিওতে চাকরি করেন। আর আবরারের ছোট ভাই ফায়াজ আবরার এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করেন।