বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর বন্ধ © সংগৃহীত
হঠাৎ করেই থমকে গেছে দুই বাংলার মানুষের চলাচল। কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই বেনাপোল-পেট্রাপোল স্থলবন্দর দিয়ে যাত্রী পারাপার বন্ধ করে দেওয়ায় সীমান্তজুড়ে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি ও অনিশ্চয়তা। বিশেষ করে চিকিৎসা, ব্যবসা ও জরুরি প্রয়োজনে ভারতে যাত্রা করা শত শত বাংলাদেশি এখন আটকা পড়ে দিশেহারা অবস্থায় দিন পার করছেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ২৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিতব্য বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ। তবে হঠাৎ এমন নিষেধাজ্ঞা জারির ফলে বেনাপোল চেকপোস্টের নো-ম্যান্স ল্যান্ড ও ইমিগ্রেশন এলাকায় জমে গেছে ভিড় নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
সোমবার সকাল থেকে পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন বাংলাদেশ থেকে যাওয়া যাত্রীদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয়। এতে সীমান্ত পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা বহু মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েন। অনেকে চিকিৎসার জরুরি অ্যাপয়েন্টমেন্ট, আবার কেউ ব্যবসায়িক কাজ কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা নিয়ে সীমান্তে এসে বিপাকে পড়েছেন।
আটকে পড়া যাত্রীদের মধ্যে যশোরের শার্শা উপজেলার ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী আব্দুল হালিম ক্ষোভ ও গভীর হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আজ কলকাতায় ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট ছিল। চিকিৎসার ধারাবাহিকতার জন্য এই সময়টা আমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। গতকালও আমি সীমান্ত ও যাতায়াত পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজ নিয়েছি, কিন্তু কেউই কোনো স্পষ্ট তথ্য দেয়নি। সকালে এসে দেখি হঠাৎ করেই বর্ডার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এখন আমি কোথায় যাব, কীভাবে চিকিৎসা নেব তা ভেবে দিশেহারা হয়ে পড়েছি। আমার মতো অনেক রোগী আছেন যারা নিয়মিত চিকিৎসার জন্য সীমান্ত পারাপারের ওপর নির্ভরশীল। এমন হঠাৎ সিদ্ধান্তে আমরা চরম দুর্ভোগে পড়েছি, কেউ যেন আমাদের কথা ভাবছে না।
বেনাপোল কাস্টমস ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং (সিঅ্যান্ডএফ) এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক জানান, ভারতের পক্ষ থেকে আগে কোনো ধরনের লিখিত বা আনুষ্ঠানিক নোটিশ দেওয়া হয়নি। হঠাৎ করেই যাত্রী চলাচল বন্ধ করে দেওয়ায় প্রায় ৩০০-এর বেশি যাত্রী বেনাপোলে আটকা পড়েছেন, যাদের বড় একটি অংশ চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাচ্ছিলেন।
এ বিষয়ে বেনাপোল ইমিগ্রেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বলেন, পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন আমাদের মৌখিকভাবে জানিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে ২৯ এপ্রিল ভোটগ্রহণ উপলক্ষে ২৭ এপ্রিল থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত নিরাপত্তার স্বার্থে যাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। তবে এখনো পর্যন্ত আমরা কোনো লিখিত নির্দেশনা পাইনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
যদিও যাত্রী চলাচল বন্ধ রয়েছে, তবে বেনাপোল-পেট্রাপোল বন্দর দিয়ে পণ্যবাহী ট্রাকের চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে আপাতত বড় ধরনের কোনো প্রভাব পড়েনি।
এদিকে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা বলছেন, নির্বাচনের সময় সীমান্তে কড়াকড়ি নতুন কিছু নয়। তবে পূর্ব ঘোষণা ছাড়া হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য চরম মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। তারা মনে করেন, এ ধরনের সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে অন্তত ৭২ ঘণ্টা আগে উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে নোটিশ দেওয়া উচিত ছিল।
কবে নাগাদ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়ে পেট্রাপোল কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো সময় জানায়নি। তবে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন, ৩০ এপ্রিল ভোটগ্রহণ শেষ হলে ১ মে থেকে যাত্রী পারাপার আবার স্বাভাবিক হতে পারে।