‘ভাইয়া থাকতে ওটাই আমার বুয়েট হলে শেষ যাওয়া’

‘ভাইয়া থাকতে ওটাই আমার বুয়েট হলে শেষ যাওয়া’
শেরে বাংলা হল, আবরার ফাহাদ ও আবরার ফাইয়াজ  © ফাইল ফটো

ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতার হাতে খুন হওয়া বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদ বেঁচে থাকাকালীন গত বছরের এই দিনে শেষ বারের মতো তার হলে গিয়েছিলেন আবরারের ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ। বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) যা নিয়ে সামাজিক যোগযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্টাটাস দিয়েছেন ফাইয়াজ।

ফেসবুকের ওই স্ট্যাটাসে ফাইয়াজ লিখেছেন, গত বছর সেপ্টেম্বরেরে ২৪ তারিখে বাংলাদেশ এবং আফগানিস্তানের মধ্যে ফাইনাল খেলা ছিলো। খেলা দেখার জন্য ভাইয়ার হলে গিয়েছিলাম। বিকেলে যাওয়ার পরপরই ভাইয়া আমাকে পলাশীতে নিয়ে যায় বার্গার খাওয়ার জন্য। এরপর হলে এসে আমাকে ল্যাপটপ আর চাবি দিয়ে টিউশনি করাতে চলে যায়।

যাওয়ার সময় বলেছিল; থাক আমি তাড়াতাড়িই চলে আসব। রাতে এখানেই থাকিস যাওয়ার দরকার নাই। সেদিন আমার বাসাতেও কেউ ছিলো না। সেদিন রুমে শুধু আমি আর মিজান (আসামী) বাদে কেউ ছিলো না। সেও বার বার জিজ্ঞেস করছিলো খেলা শুরু হলো কিনা। বাইরে যাওয়ার আগে আমাকে বলল; থাকো আমি একটু পরই আসছি।

কিন্তু বৃষ্টির জন্য সেদিন আর খেলা শুরু হয় না। ভাইয়া বার বার কল দিয়ে বলছিলো রাস্তায় খুব জ্যাম। একটু দেরী হচ্ছে তাই। কিন্তু হঠাৎ কি যেন মনে হয় রাত ৯টার দিকে আমি চলে আসি।

ভাইয়া ফিরেই ফোন দেয়, ‘‘তুই কোথায়? চলে গেছিস নাকি?। কি দরকার এর মধ্যে যাওয়ার! একা একা ভয় পাবি না থাকতে? চলে আসেক না হয় আবার’’। কিন্তু বাইরে বৃষ্টি হওয়ায় তা আর হয়নি। এটাই ভাইয়া বেঁচে থাকতে ওর হলে শেষ যাওয়া। তারপরই ভাইয়া ২৭ তারিখ কুষ্টিয়া চলে আসে।

প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৭ই অক্টোবর ভোররাতে বুয়েটের শেরে বাংলা হল থেকে আবরার ফাহাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয় । এর পরপরই বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামে।

আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় সব মিলিয়ে ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ১৩ নভেম্বর চার্জশিট তৈরি করে ঢাকার গোয়েন্দা পুলিশ। আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ছাত্র বিক্ষোভ হয়। এই হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে সমাজের নানা শ্রেণী-পেশার মানুষও সোচ্চার হয়েছে।

সে প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বা বুয়েট কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন এবং ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।


মন্তব্য

সর্বশেষ সংবাদ