পাবিপ্রবির স্বাধীনতা হল

বিজ্ঞপ্তির ৮ মাসেও বরাদ্দ দেয়নি প্রশাসন, রাজনৈতিক প্রভাবে সিট দখলের অভিযোগ ‎

০১ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫২ AM
পাবিপ্রবির স্বাধীনতা হল

পাবিপ্রবির স্বাধীনতা হল © টিডিসি সম্পাদিত

‎পাবনা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পাবিপ্রবি) স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আট মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো নতুন করে আবাসিক আসন বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। হল প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে বৈধভাবে সিটের অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরা আবাসন সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এদিকে, বরাদ্দ না হওয়া ফাঁকা আসনগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাব ও সুবিধার ভিত্তিতে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের অবস্থানের অভিযোগও করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা।
‎
‎সংশ্লিষ্ট কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ কয়েকজন সিনিয়র শিক্ষার্থী তাঁদের অনুসারী জুনিয়রদের হলের বিভিন্ন কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এ নিয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মী ও সিনিয়র শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন তাঁরা।
‎
‎শিক্ষার্থীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নিয়মতান্ত্রিকভাবে সিট বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকলেও হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। অন্যদিকে, আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ ছাড়াই শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ফাঁকা আসনে অবস্থানের কারণে নিয়ম মেনে আবাসিকতা পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা শিক্ষার্থীরা বঞ্চিত হচ্ছেন।
‎
‎খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত এপ্রিল মাসে স্বাধীনতা হলে সিট বরাদ্দের লক্ষ্যে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। হল প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, সে সময় প্রায় ৮০টি ফাঁকা আসন শনাক্ত করে বরাদ্দের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা ছিল, মে মাসের প্রথম সপ্তাহেই নতুন শিক্ষার্থীদের আবাসিকতা দেওয়া সম্ভব হবে। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়নি।
‎
‎এর আগে  সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সিস্টেম ডেভেলপমেন্টের কারণে আটকে থাকার বিষয়টি উঠে আসে। তবে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও বরাদ্দ কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছে।
‎
‎এদিকে, গত ২৯ অক্টোবর রাতে স্বাধীনতা হলের বিভিন্ন কক্ষে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী গিয়ে কোন কোন আসন ফাঁকা রয়েছে, তা আবাসিক শিক্ষার্থীদের কাছে জানতে চান বলে অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি তাঁদের অনুসারী কয়েকজন জুনিয়র শিক্ষার্থীকে বিভিন্ন কক্ষে থাকার ব্যবস্থা করে দেওয়ার অভিযোগও করেছেন আবাসিক শিক্ষার্থীরা। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, হলের এ ও বি ব্লকের বেশ কয়েকটি কক্ষের ফাঁকা আসনে ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
‎
‎নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ে আমরা বর্তমানে সবচেয়ে সিনিয়র ব্যাচগুলোর একটি। অথচ দুঃখজনক বিষয় হলো, এখনো হলে বৈধভাবে সিট পাচ্ছি না। আমরা আশায় আছি, দ্রুত অ্যালটমেন্ট দেওয়া হলে সিট পাব। কিন্তু হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখছি না। আমাদের জুনিয়র অনেক শিক্ষার্থী রাজনৈতিক সুবিধায় অবৈধভাবে বিভিন্ন সিটে অবস্থান করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ এ বিষয়ে প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি চোখে পড়ছে না।’
‎
‎২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘হল প্রশাসনের উচিত অতি দ্রুত শূন্য আসনগুলো যোগ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে বরাদ্দ দেওয়া। প্রশাসনের দীর্ঘসূত্রতার কারণে আমরা যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও বৈধভাবে হলে উঠতে পারছি না। অথচ দেখা যাচ্ছে, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত অনেক জুনিয়র শিক্ষার্থী দীর্ঘদিন ধরে হলে অবস্থান করছেন। এ বিষয়ে হল প্রশাসনের কার্যকর কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। কিছুদিন আগেও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী আমাদের ফ্লোরসহ বিভিন্ন ফ্লোরের কক্ষে কক্ষে গিয়ে শূন্য আসনের খোঁজ নিয়েছেন। আমি মনে করি, এ ধরনের ঘটনা হল প্রশাসনের দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতারই বহিঃপ্রকাশ। আমরা চাই, দ্রুত স্বচ্ছ ও নিয়মতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় শূন্য আসনগুলো বরাদ্দ দেওয়া হোক এবং যোগ্য শিক্ষার্থীদের আবাসন নিশ্চিত করা হোক।’
‎
‎নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাধীনতা হলের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের এক আবাসিক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমাদের পরীক্ষা শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে হল ছেড়ে আমি বাসায় চলে এসেছি। কিন্তু সার্টিফিকেট না তোলার কারণে এখনো আমার নামেই সিট রয়েছে। আমি চেয়েছিলাম, আমার বিভাগের কোনো জুনিয়র কিছুদিন আমার সিটে থাকুক। কিন্তু শুনলাম, আমাকে না জানিয়েই আমার সিটে অন্য বিভাগের এক জুনিয়রকে তুলে দিয়েছেন অন্য কেউ।’
‎
‎শিক্ষার্থীদের দাবি, দ্রুত সিট বরাদ্দের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে প্রকৃত আবেদনকারী ও যোগ্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্বচ্ছ নিয়মে আবাসিকতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বরাদ্দের অপেক্ষায় থাকা আসনগুলোতে অননুমোদিতভাবে অবস্থানের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা। শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, হল প্রশাসনের পক্ষ থেকে যথাসময়ে সিট বরাদ্দ না দেওয়ার কারণেই বিভিন্ন ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরা এভাবে আসন দখলের সুযোগ পাচ্ছেন।
‎
‎এ বিষয়ে স্বাধীনতা হলের প্রভোস্ট মো. আল ফাহাদ ভূঁইয়া বলেন, ‘ছাত্রদল, ছাত্রশিবির কিংবা ইনকিলাব মঞ্চ কোনো সংগঠনেরই বৈধতা নেই হলের কক্ষে কক্ষে গিয়ে খালি আসন যাচাই করার। মূলত একটি কারিগরি জটিলতার কারণে আমি এখনো আসন বরাদ্দ দিতে পারছি না।
‎
‎স্বাধীনতা হলের গণরুমে থাকা ১১ জন শিক্ষার্থীর নতুন আবাসিক ঠিকানা হিসেবে জুলাই ৬ হল নির্ধারিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জুলাই ৬ হলে তাদের আবাসনের ব্যবস্থা না হওয়ায় এই ১১ জনের বিষয়টি এখনো সুরাহা হয়নি। ফলে তাদের আবাসন সমস্যার সমাধান না হওয়া পর্যন্ত স্বাধীনতা হলে নতুন করে আসন বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি প্রায় এক মাস আগেই জুলাই ৬ হলের প্রভোস্টকে জানানো হয়েছে। তিনি বিষয়টি দেখছেন। এই জটিলতা নিরসন হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসন বরাদ্দ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
‎
‎এ ছাড়া অনেক শিক্ষার্থী আসন বাতিলের আবেদন না করেই ক্যাম্পাস ছেড়েছেন। এর ফলে যেসব আসন খালি রয়েছে, সেগুলোতে এভাবে জুনিয়র শিক্ষার্থীরা উঠে যাচ্ছেন। তবে আমি আশা করছি, নতুন করে আর কেউ অবৈধভাবে হলে অবস্থান করতে পারবেন না।’
‎

জামায়াত নেতা আখতারুজ্জামানের জামিন
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
দুই কলেজে ৫ শিক্ষার্থী, পাস করেনি কেউ—একটিতে ৩ জনের ৭ শিক্ষ…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
বকেয়াসহ নতুন পে স্কেলে আজ থেকে বেতন পাবেন সরকারি চাকরিজীবীর…
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
সংসার সামলে ১৫ বছর পর পড়াশোনায় ফিরে জিপিএ-৫ পেলেন রীতি
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
৩০ হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরির দাবিতে গাজীপুরে মহাসড়ক অবরোধ, …
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬
এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের পে-স্কেল নিয়ে ফের বার্তা শিক্ষামন্ত্রীর
  • ০১ নভেম্বর ২০২৬