উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম © সংগৃহীত
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ইঞ্জিনিয়ারিং অফিসের প্লাম্বিং সহকারী মো. ইকবাল হোসেন রাজু গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাকে দেখতে হাসপাতালে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এ সময় তার সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থীও ছিলেন।
জানা যায়, মো. ইকবাল হোসেন রাজু ৩০ (অক্টোবর) চুয়েটে পানির লাইনে কাজ করা অবস্থায় বিল্ডিংয়ের উপর হতে ইট পড়ে পায়ের হাঁড় ভেঙ্গে যায়। বর্তমানে সার্জিস্কোপ হাসপাতাল ইউনিট-২ তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। হাসপাতালে গিয়ে উপাচার্য কর্তব্যরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তিনি মো. ইকবাল হোসেনের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন।
দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক জানান, দুর্ঘটনায় তার পায়ের হাড় ভেঙে গিয়েছে এবং তাৎক্ষণিক তার অপারেশন করা হয়েছে। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতালে ইকবাল হোসেনের দেখভালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেকজন সহকর্মী অবস্থান করছেন।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দাপ্তরিক দায়িত্ব পালনকালে দুর্ঘটনার শিকার প্লাম্বিং সহকারী মো. ইকবাল হোসেন রাজুকে হাসপাতালে দেখতে গিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। গতকাল শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে নগরীর কাতালগঞ্জের সার্জিস্কোপ হাসপাতাল (ইউনিট-২)-এ চিকিৎসাধীন আহত ওই কর্মচারীকে দেখতে যান তিনি। বন্ধের দিন হওয়ায় এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী ও কর্মচারীবৃন্দ উপাচার্যের সাথে উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্ববিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দুপুরে চুয়েট ক্যাম্পাসে পানির সরবরাহ লাইনে জরুরি সংস্কার কাজ করছিলেন প্লাম্বিং সহকারী ইকবাল হোসেন। কাজ করার একপর্যায়ে পার্শ্ববর্তী একটি ভবনের তিন তলার ওপর থেকে অসাবধানতাবশত একটি ইট খসে তার পায়ের ওপর পড়ে। এতে তার পায়ের হাড় মারাত্মকভাবে ভেঙে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ অবস্থায় উদ্ধার করে তাকে উদ্ধার করে অবিলম্বে নগরীর ওই বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম সেখানে দায়িত্বরত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সাথে দীর্ঘ সময় ধরে আলোচনা করেন এবং আহত কর্মচারীর অস্ত্রোপচার ও সার্বিক চিকিৎসার অগ্রগতির খোঁজ নেন। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, ইটের আঘাতে পায়ের হাড় মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে তাকে পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের আশা, সঠিক থেরাপি ও বিশ্রামের মাধ্যমে আগামী ৬ সপ্তাহের মধ্যে ভাঙা হাড়ের ক্ষত অনেকটাই নিরাময় সম্ভব হবে। বর্তমানে হাসপাতাল কেবিনে চিকিৎসাধীন রাজুর পরিচর্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সহকর্মী সার্বক্ষণিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।
হাসপাতাল কক্ষে চিকিৎসাধীন রাজু ও তার স্বজনদের সাথে কুশল বিনিময়কালে গভীর সমবেদনা জানান চুয়েট উপাচার্য। এ সময় তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, “চুয়েট প্রশাসন কোনো অবস্থাতেই তার কর্মচারীদের একা ছেড়ে দেবে না। পুরো চুয়েট পরিবার ইকবাল হোসেনের পাশে রয়েছে। তার দ্রুত আরোগ্য ও সুচিকিৎসার জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হবে।” পরিদর্শন শেষে উপাচার্য ড. শেখ শরীফুল আলম আহত প্লাম্বিং সহকারীর আশু সুস্থতা, রোগমুক্তি ও সার্বিক আরোগ্য কামনা করেন এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুস্থ হয়ে পুনরায় ক্যাম্পাসের কর্মমুখর পরিবেশে ফিরে আসার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন।
এর আগে, ২৭ অক্টোবর চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল (ইইই) বিভাগের অফিস সহায়ক সাইফুল রহমান ভাইরাসজনিত সংক্রমণে গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে দেখতেও নগরীর সিএসসিআর হাসপাতালে গিয়েছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।