নীতিমালা লঙ্ঘন করে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ থেকে বঞ্চিতের অভিযোগ শাবিপ্রবি শিক্ষকের

৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৭ PM
প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিতের অভিযোগ শাবিপ্রবি শিক্ষকের

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক থেকে বঞ্চিতের অভিযোগ শাবিপ্রবি শিক্ষকের © টিডিসি ফটো

প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রাপ্তির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কর্তৃক প্রণীত নীতিমালা লঙ্ঘন করে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ তুলেছেন শাবিপ্রবির বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও বিভাগের বর্তমান প্রভাষক সানজিদা আক্তার। তিনি ২০২১ সালে স্কুল অব লাইফ সায়েন্সেস অনুষদভুক্ত শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম হিসেবে ইউজিসি মেধাবৃত্তি পান।               

শনিবার (৩১ অক্টোবর) শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় (শাবি) প্রেসক্লাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি  এই অভিযোগ করেন।              

তিনি বলেন, ২০২০ সালে আমি ৩.৯২ পেয়ে স্নাতক পাস করি। ২০২২ সালে বিভাগ থেকে আমাকে মনোনয়ন দিয়ে ডিন অফিসে চিঠি পাঠানো হয়। ফলে আমি জানতাম আমার মনোনয়ন ইউজিসিতে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু ২০২৬ সালের ১৮ জুন ইউজিসি থেকে প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক প্রার্থী পুনঃযাচাই-সংক্রান্ত চিঠিতে অন্য একজনের নাম ও একটি নির্দিষ্ট নম্বর দেখতে পাই।          

বিষয়টি নিয়ে প্রাক্তন বিভাগীয় প্রধানকে জানালে তিনি বলেন, ২০২৫ সালে সাবেক উপ-উপাচার্যের নেতৃত্বে একটি সভায় আমার এবং আমার একজন সহপাঠির সিজিপিএ সমান হওয়ায় এবং কোর্সের প্রকৃত প্রাপ্ত নম্বর পাওয়া যাচ্ছিল না বলে একটি নির্দিষ্ট গাণিতিক ফ্যাক্টর ব্যবহার করে নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে।   

ইউজিসির নীতিমালায় অনুযায়ী,  সিজিপিএ সমান হলে কোর্স ভিত্তিক প্রকৃত নম্বর দেখতে হবে। যদি প্রকৃত নম্বরও সমান হয় তাহলে এইচএসসি ও এসএসসির ফলাফল দেখে মনোনয়ন দিতে হবে। নীতিমালায় কোন ফ্যাক্টরের কথা বলা হয়নি।          

তিনি অভিযোগ করে বলেন, প্রকৃত নম্বর সংগ্রহে একাধিকবার পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরে গেলেও তা পাননি। পরে বিভাগের সহযোগিতায় ৬৩টি কোর্সের মধ্যে ৪৫টির নম্বর সংগ্রহ করেন, যেখানে তিনি অন্য প্রার্থীর চেয়ে ৪০.২৫ নম্বরে এগিয়ে রয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের নম্বর সংরক্ষণে ঘাটতির দায় তাঁকে কেন নিতে হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি আরও বলেন, কোন নীতিমালার ভিত্তিতে গাণিতিক ফ্যাক্টর প্রয়োগ করা হয়েছে এবং প্রকৃত নম্বর না পাওয়ার বিষয়টি কেন ইউজিসিকে জানানো হয়নি? 

তিনি বলেন,  এই বিষয়ে ইউজিসির একজন কর্মকর্তার সঙ্গে আমি আলোচনা করেছি। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের নম্বর সংরক্ষিত না থাকার বিষয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন।           

তিনি বলেন , উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলে তিনি আমাকে জানান কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তিনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।  

এ বিষয়ে ২০২৬ সালের ৯ আগস্ট ইউজিসি চেয়ারম্যানের কাছে বিস্তারিত লিখিত অভিযোগ করি। পরবর্তীতে ৩১ অক্টোবর নির্ধারিত অভিযোগের সময়সীমার মধ্যে পুনরায় ইউজিসিতে চিঠি ও ইমেইলের মাধ্যমে অভিযোগ জানিয়েছি।            

তিনি বলেন, আমি চাই নীতিমালা অনুযায়ী প্রকৃত একাডেমিক রেকর্ডের ভিত্তিতে স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সংগত পুনর্মূল্যায়ন করা হোক। 

এ বিষয়ে বায়োকেমিস্ট্রি এন্ড মলিকুলার বায়োলজি (বিএমবি) বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল শোয়েব বলেন, ‘‘তাকে প্রথম মনোনয়ন দিয়েছিল আমি সেটি সম্পর্কে অবগত ছিলাম। এখন ইউজিসিতে পুনঃযাচাইয়ের জন্য শুনেছি সানজিদা আক্তার অভিযোগ জানিয়েছেন। তাই আমি এখন এই বিষয়ে আর কিছু বলতে চাচ্ছি না। এটা এখন ইউজিসি যাচাই করবে। সকল কোর্সের নম্বর বিভাগে থাকে না। অনেকগুলো নন-মেজর কোর্স থাকে। সকল কোর্সের নম্বর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক দপ্তরের পাওয়া যেতে পারে। ”

এ বিষয়ে জানতে ভারপ্রপ্ত রেজিস্ট্রার কালাম আহমেদ চৌধুরীকে মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তার সাড়া মিলেনি। পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. মাহবুব হোসইন বলেন,  এখানে আমাদের কোন কিছু করার নেই। বিভাগ থেকে যেভাবে ডাটা এন্ট্রি করে সেভাবে আমাদের কাছে ডাটা সংরক্ষিত থাকে।    

এ বিষয়ে জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মো. ফারুক মিয়া বলেন, 'তার প্রাথমিক মনোনয়নের বিষয়ে আমি অবগত নই। ওই সময় আমি ডিনের দায়িত্বেও ছিলাম না।'

তিনি আরো বলেন, 'তাদের দুজনের সিজিপিএ সমান। সকল কোর্সের প্রকৃত নম্বরও বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ছিল না। এ অবস্থায় কমিটির সকলে মিলে একটি স্ট্যান্ডার্ড ফলো করে একটি রেজাল্ট বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করা হয় হয়। সেখানে সেমিস্টারভিত্তিক ফলাফল বিশ্লেষণসহ অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই-বাছাই করে দুই প্রার্থীর তুলনামূলক অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ কার নাম ইউজিসিতে পাঠিয়েছে সেটা আমি জানি না।’

জানতে চাইলে উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, 'এই বিষয়ে আমার নিয়োগের আগেই একটা কমিটি করা হয়েছিল। আমি নিয়োগ পাওয়ার পর সানজিদা আক্তার আমার কাছে এসেছিলেন। আমি এটি পুনরায় যাচাইয়ের ডিনের কাছে ফরওয়ার্ড করেছি। উনারা আবার যাছাই করেছে ইউজিসির গাইডলাইন অনুযায়ী। সেটিই আমরা ইউজিসিতে পাঠিয়েছি।'

শ্রীলংকাকে হারিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজে চ্যাম্পিয়ন পাকিস্তান
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
তিনবার অস্ত্রোপচারের পরও দমে যাননি, জিপিএ-৫ পেলেন শান্তা, স…
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন দৃষ্টিশক্তিহীন মৌমি
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতে কত জিপিএ লাগবে, দেখে নিন একনজরে
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
নীতিমালা লঙ্ঘন করে ‘প্রধানমন্ত্রী স্বর্ণপদক’ থেকে বঞ্চিতের …
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬
‘আওয়ামী লীগ যা করেছিল সেই জায়গায় ছাত্রদল-যুবদল বসেছে, শুধু …
  • ৩১ অক্টোবর ২০২৬