এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বসেরা ৪০ টিমকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন চুয়েটের ‘টিম চুয়েট সি’

১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২২ PM
যুক্তরাষ্ট্রে এসিআই মর্টার প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা চুয়েটের চার শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে এসিআই মর্টার প্রতিযোগিতায় বিশ্বসেরা চুয়েটের চার শিক্ষার্থী © সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বের সেরা ৪০টি দলকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থীদের দল ‘টিম চুয়েট সি’। প্রতিযোগিতাটির সামগ্রিক বিভাগে শীর্ষস্থান অর্জনের পাশাপাশি দলটি অর্থনৈতিক বিভাগে দ্বিতীয় এবং পরিবেশগত বিভাগে চতুর্থ স্থান লাভ করেছে।

আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত এই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা গত ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টায় অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের জমা দেওয়া প্রতিবেদন যাচাই-বাছাইয়ের পর নির্বাচিত সেরা ৪০টি দল মূল পর্বে অংশ নেয়।

সফল চার সদস্য
মূল পর্বে চুয়েটের প্রতিনিধিত্ব করেন খন্দকার ফাহাদ আলম, স্বরূপ চন্দ্র মোদক, তানজিম মুশাররাত তুশিন ও সুমাইয়া বিনতে মান্নান। দলের অনুষদ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ও এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েটের অনুষদ উপদেষ্টা ড. জি এম সাদিকুল ইসলাম।

এছাড়াও দলটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন সানিউল হক, রূপম পোদ্দার, মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ এবং এস এম আমীর হামজা মাহমুদ মাহাদী।

নিজের অনুভূতি ব্যক্ত করে স্বরূপ চন্দ্র মোদক বলেন, আমরা সবাই অনেক আনন্দিত। দীর্ঘ দুই থেকে তিন মাস ধরে আমরা যে পরিশ্রম করে আসছি, অবশেষে তার সফলতা পেয়েছি। এ জন্য প্রথমেই মহান সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা জানাই। এরপর কৃতজ্ঞতা জানাই আমার বাবা-মায়ের প্রতি, যারা আমাকে এখানে আসার সুযোগ করে দিয়েছেন। পাশাপাশি আমার সহপাঠী, অগ্রজ ও অনুজ ভাইদের প্রতিও আমি আন্তরিকভাবে কৃতজ্ঞ। যেকোনো সমস্যায় অগ্রজ ভাইদের কাছ থেকে অনেক সহযোগিতা পেয়েছি। একইভাবে আমার সহপাঠীরাও প্রতিটি ধাপে পাশে থেকে আমাকে সহায়তা করেছেন।

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করলে বোঝা যায়, আমাদের সামর্থ্য কতটা। আমরা যে অনেক কিছু করতে সক্ষম, তা এখানে এসে নতুন করে উপলব্ধি করেছি। তবে দুঃখের বিষয়, সব সময় আমরা যথেষ্ট সুযোগ পাই না। এখানে আমাদের অগ্রজ ভাইয়েরা বলেছেন, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। তারা যদি পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা পান, তাহলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন।

দলটির উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে আমাদের এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার- চুয়েট আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয়সহ বিভিন্ন স্থানে মোট ছয়টি পুরস্কার অর্জন করেছে। তবে সেগুলোর সবই ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতায়। গত বছর মালয়েশিয়ায় আমাদের দল চতুর্থ স্থান অর্জন করে, সেটি ছিল সশরীরে অংশগ্রহণ। আমেরিকার মাটিতে সশরীরে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে আমাদের শিক্ষার্থীরা ভালো করবে, এটি ছিল আমাদের অনেক দিনের স্বপ্ন। সেই স্বপ্ন নিয়েই দলটি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছিল। এখন তারা চ্যাম্পিয়ন হয়েছে। এটি শুধু আমাদের জন্য নয়, চুয়েট ও সারা বাংলাদেশের জন্য গৌরবের। আমরা আশা করি, এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েটের এই সাফল্যের ধারা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ভারসাম্যের কঠিন পরীক্ষা
প্রতিযোগিতায় মর্টারের বিভিন্ন বৈশিষ্ট্য মূল্যায়ন করা হলেও সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার ওপর। মূল্যায়নে মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ বরাদ্দ ছিল প্রবাহক্ষমতার জন্য এবং ২০ শতাংশ স্থিতিশীলতার জন্য। এছাড়া কার্বন নিঃসরণের পরিমাণের জন্য ১০ শতাংশ, অর্থনৈতিক সাশ্রয়িতার জন্য ৫ শতাংশ এবং বাকি ১৫ শতাংশ নির্ধারিত হয় প্রতিবেদনের মানের ভিত্তিতে।

দলের সদস্যরা জানান, প্রবাহক্ষমতা ও স্থিতিশীলতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য তৈরি করাই ছিল তাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। মর্টারকে বেশি প্রবাহক্ষম করতে গেলে অনেক সময় এর স্থিতিশীলতা কমে যায়, আবার স্থিতিশীলতা বাড়াতে গিয়ে প্রবাহক্ষমতা ব্যাহত হতে পারে। তাই একটি বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে অন্যটির আপস না করে সর্বোত্তম সমন্বয় খুঁজে বের করাই ছিল মূল কাজ। এই সমন্বয় খুঁজতে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষাগারে চলেছে একের পর এক পরীক্ষামূলক মিশ্রণ। পরিবর্তন করা হয়েছে মিশ্রণের বিভিন্ন অনুপাত এবং পরীক্ষা করা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের অ্যাডমিক্সচার। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ করে ধাপে ধাপে এগিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা।

পরিবেশগত প্রভাব কমাতে এবং মর্টারকে আরও ব্যয়সাশ্রয়ী করতে বিশেষ নজর দেওয়া হয় সম্পূরক সিমেন্টীয় উপাদান ব্যবহারের ওপরও। অর্থাৎ কেবল কার্যকারিতার দিক থেকে নয়, পরিবেশ ও খরচ এই উভয় দিক বিবেচনায় নিয়েই তৈরি হয়েছিল চূড়ান্ত মিশ্রণ।

যেভাবে যাচাই করা হয় মর্টার
প্রতিযোগিতার মূল পর্বে প্রবাহক্ষমতা যাচাই করা হয় এসিআই নির্ধারিত একটি বিশেষ ছাঁচের মাধ্যমে। মর্টার সেই ছাঁচ কত দ্রুত পূরণ করতে পারে, তার ভিত্তিতেই মূল্যায়ন করা হয় এর প্রবাহক্ষমতা।

অন্যদিকে স্থিতিশীলতা যাচাইয়ে দেখা হয় তলানি জমা ও উপাদান পৃথকীকরণ। নির্দিষ্ট পরিমাণ মর্টার একটি পরিমাপক চোঙে রেখে পর্যবেক্ষণ করা হয় মিশ্রণের উপাদানগুলো কতটা আলাদা হয়ে যায়। পৃথকীকরণ যত কম হয়, মর্টার তত বেশি স্থিতিশীল বলে বিবেচিত হয়।

ধারাবাহিক সাফল্যের নতুন অধ্যায়
২০১৮ সালে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার-চুয়েট প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এ পর্যন্ত বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ছয়টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। তবে সেসব সাফল্য ছিল অনলাইনভিত্তিক প্রতিযোগিতায়। এবারই প্রথম সরাসরি অংশগ্রহণ করে বিশ্বচ্যাম্পিয়নের মুকুট জিতল চুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) একটি অলাভজনক আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান। যা কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারে বৈশ্বিক মানদণ্ড, কোড ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান তৈরি ও প্রচার করে থাকে। বর্তমানে বিশ্বের ১২০টির বেশি দেশে ৩৫ হাজারের বেশি সদস্য নিয়ে কাজ করছে সংস্থাটি, যার সদর দপ্তর যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানে অবস্থিত।

মাদ্রাসায় এতিম শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সাবেক ছাত্রদল নেতা মাহবু…
  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬
ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ট্রেইনিশিপের সুযোগ, মাসিক বৃত্তি-ভ্রমণ…
  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬
প্রেমিকের বাইক চালাচ্ছিলেন প্রেমিকা, অতঃপর...
  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬
১০০ একরের পুরো ক্যাম্পাসকে সৌরবিদ্যুতের আওতায় আনার পরিকল্পন…
  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬
তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড দিলেন…
  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বসেরা ৪০ টিমকে পেছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন চুয…
  • ১৫ অক্টোবর ২০২৬