আজকের এই দিনে একযোগে যেভাবে বিশ্ববিদ্যালয় চারটির জন্ম হয়েছিল

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:২৫ PM
চার বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো

চার বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

দেশের চারটি সরকারি প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আজ ১ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার)। দিবসটি উপলক্ষে আলাদাভাবে কর্মসূচি পালন করছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো। এই চারটি বিশ্ববিদ্যালয় হলো-চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট), খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট), রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এবং ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট)। ২০০৩ সালের এই দিনে আলাদা আইনে বিশ্ববিদ্যালয় চারটি অনুমোদন লাভ করে।

দিবসটি উপলক্ষে চার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেই আনন্দ র‍্যালি, আলোচনা সভা, সেমিনারসহ নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাবেক শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে এসব কর্মসূচি বর্ণিল হয়ে উঠেছে।

ডুয়েটের প্রতিষ্ঠার ইতিহাস তুলে ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইকবাল বলেন, ডুয়েটের পথচলা শুরু হয়েছিল ১৯৮০ সালে কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিং, ঢাকা হিসেবে। ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মোচন করার প্রয়াসে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তোলেন।

তিনি বলেন, পরবর্তীতে ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং ১৯৮৬ সালে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা নামে রূপান্তরিত হয়। শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের দীর্ঘদিনের দাবি ও আন্দোলনের ফলে ২০০৩ সালের পহেলা সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে স্বায়ত্তশাসিত বিআইটি, ঢাকা পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।

চার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার আইন

রুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস. এম. আবদুর রাজ্জাক বলেন, আজ রুয়েটের ৬২ বছরের গৌরবময় পথচলায় পদার্পণ করেছে। দীর্ঘ পথচলায় রুয়েটের শিক্ষা, গবেষণা ও উন্নয়নে অংশগ্রহণকারী সবার প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানাই। বিশেষ করে মহীয়সী নারী বেগম খালেদা জিয়া, যার সময়ে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয় রুয়েট। 

তিনি আরও বলেন, সরকার গবেষণা খাতে জিডিপির ২ শতাংশ বরাদ্দের উদ্যোগ নিয়েছে এবং আগামী বছরে আরও বাড়বে প্রত্যাশা করছি। রুয়েটসহ দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর গবেষণা ও উদ্ভাবনে ইউজিসি সবসময় পাশে থাকবে প্রত্যাশা করছি। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, সাবেক শিক্ষার্থী সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই রুয়েট পরিবার এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী দিনেও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এ প্রতিষ্ঠানকে আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যেতে আমরা কাজ করে যাব।

চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং উন্নয়ন করে কমপক্ষে এশিয়া মানে নিয়ে যেতে চাই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা গবেষণা নিশ্চিত করতে চাই। আশার কথা এই যে, আমরা সব উদ্যোগে বর্তমান সরকারসহ সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন পাচ্ছি।

২০০৩ সালের এই দিনে বিআইটি ভেঙে চার প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) ছিল বাংলাদেশের একটি স্বায়ত্তশাসিত সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯৮৬ সালের ১ জুলাই ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউটস অব টেকনোলজি (বিআইটি) অধ্যাদেশ, ১৯৮৬’ (অধ্যাদেশ নং: XXI, ১৯৮৬) এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এটি ছিল দেশের অষ্টম পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটি বাংলাদেশের চারটি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে নিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) পর এটি ছিল বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠিত বিশেষায়িত কারিগরি শিক্ষা-সম্পর্কিত বিশ্ববিদ্যালয়। বিআইটির শাখাগুলো ছিল: বিআইটি, চট্টগ্রাম; বিআইটি, রাজশাহী; বিআইটি, খুলনা এবং গাজীপুরের বিআইটি, ঢাকা।

বিআইটি অধ্যাদেশের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার ২০০৩ সালে এই প্রতিষ্ঠানগুলোকে পৃথক চারটি বিশ্ববিদ্যালয়ে রুপান্তর করা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

দেশের প্রথম ৭ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও অনুমোদনের তারিখ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) ১৯৬৮ সালে চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১ সেপ্টেম্বরও ২০০৩ সালে এটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে বর্তমান চুয়েট নাম ধারণ করে।

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ১৯৬৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এর প্রকৌশল অনুষদের অধীনে খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১ সেপ্টেম্বর ২০০৩ সালে বিআইটি থেকে উন্নীত করে এবং নাম পরিবর্তিত করে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় রাখা হয়।

ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট) ১৯৮০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ হিসেবে ঢাকার তেজগাঁওয়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠানটিকে ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ নামকরণ করা হয়। ১৯৮৬ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটির নাম ছিল বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি, ঢাকা। এরপর ডুয়েট নামে যাত্রা করে প্রতিষ্ঠানটি।

রুয়েট
রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রকৌশল বিদ্যাপীঠ হিসেবে ‘রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়’ নামে প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের অধীনে ১২২ জন শিক্ষার্থী নিয়ে যাত্রা শুরু করে।

পরবর্তীতে প্রশাসনিক জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা কাটাতে ১৯৮৬ সালে দেশের চারটি প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়কে নিয়ে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি) প্রতিষ্ঠা করা হয়। তবে বিআইটি কাঠামোও প্রত্যাশিত স্বায়ত্তশাসন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে না পারায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিআইটি, রাজশাহী পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়ে ‘রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ (রুয়েট) নামে আত্মপ্রকাশ করে।

ডুয়েট
ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর (ডুয়েট) দেশের অন্যতম সরকারি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৮০ সালে ঢাকার তেজগাঁওয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরের বছর, ১৯৮১ সালে এর নাম পরিবর্তন করে ‘ঢাকা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ করা হয়।

১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), ঢাকা’ নামে রূপান্তরিত হয়। এ নামে ২০০৩ সাল পর্যন্ত কার্যক্রম পরিচালনার পর ১ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে আইন পাসের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত হয়ে ‘ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, গাজীপুর’ নামে আত্মপ্রকাশ করে।

চুয়েট
১৯৬৮ সালে ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), চট্টগ্রামে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ‘চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে চলছে চুয়েট।

কুয়েট
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) প্রতিষ্ঠার ইতিহাস বেশ পুরোনো। ১৯৬৭ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অনুষদের অধীনে ‘খুলনা ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠানটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ৩ জুন তৎকালীন সরকারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠানটি নতুনভাবে কার্যক্রম শুরু করে। এরপর একাডেমিক কার্যক্রম ও গবেষণার সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে ১৯৮৪ সালে এটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে ‘বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), খুলনা’ নামে রূপান্তরিত হয়।

সময়ের সঙ্গে প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষার চাহিদা এবং গবেষণার পরিধি বাড়তে থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিআইটি, খুলনাকে উন্নীত করে ‘খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ (কুয়েট) নাম দেওয়া হয়।

‘গোল্ডেন জিপিএ-৫’ প্রাপ্তদের ল্যাপটপ দেবে সরকার
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
এইচএসসি পাসেই ৫০ সেলস অ্যান্ড মার্কেটিং অফিসার নেবে মিনিস্ট…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমবার জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিব…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
‘ম্যাডামের মেসেজে হা হা রিঅ্যাক্ট’—সনদ আটকে দিল বিশ্ববিদ্যা…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বিএনপি নেতার বাড়িতে গুলি, অস্ত্রসহ ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
উৎপাদন জটিলতায় বাংলাদেশে এলএনজি রপ্তানি বাতিলের মেয়াদ বাড়াল…
  • ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬