গোবিপ্রবির কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফেরদৌস © সংগৃহীত
মরণব্যাধি ব্লাড ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই করছেন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) কৃষি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. মো. গোলাম ফেরদৌস। কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হলেও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠেননি তিনি। ক্যানসার-পরবর্তী নানা জটিলতায় নিয়মিত চিকিৎসা নিতে হচ্ছে তাকে। আগামী দিনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে প্রয়োজন প্রায় ২৫ লাখ টাকা।
জানা যায়, ২০২৪ সালের মার্চে ড. গোলাম ফেরদৌসের শরীরে ব্লাড ক্যানসার শনাক্ত হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরে ভারতের কলকাতার টাটা মেডিকেল সেন্টারে তার বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট সম্পন্ন হয়। এরপর থেকে চিকিৎসকদের নিয়মিত তত্ত্বাবধানে রয়েছেন তিনি।
এরই মধ্যে গত ২৬ জুন ২০২৬ নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন ড. গোলাম ফেরদৌস। পরে তাকে ভারতের টাটা মেডিকেল সেন্টারে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা ১৪ দিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ৮ দিন তাকে আইসিইউতে থাকতে হয়। এ চিকিৎসায় প্রায় ১২ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
ড. গোলাম ফেরদৌস জানান, চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আগামী ছয় মাস প্রতি মাসে একটি করে আইভিআইজি ইনজেকশন নিতে হবে। প্রতিটি ইনজেকশনের মূল্য প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার টাকা। ছয়টি ইনজেকশনের জন্যই প্রয়োজন হবে প্রায় ১২ লাখ ২৪ হাজার টাকা। এর বাইরে নিয়মিত ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শসহ অন্যান্য চিকিৎসা ব্যয় রয়েছে। সব মিলিয়ে আগামী দিনের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে অন্তত ২৫ লাখ টাকা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: ছিনতাইকারীর হেঁচকা টানে চোখের সামনে শিক্ষিকা স্ত্রীর মৃত্যু, ঘটনার হৃদয়বিদারক বর্ণনা স্বামীর
দীর্ঘদিনের চিকিৎসা, বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট এবং সর্বশেষ নিউমোনিয়ার চিকিৎসায় ইতোমধ্যে বিপুল অর্থ ব্যয় হয়েছে। ফলে আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়েছে তার পরিবার। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে ঋণের বোঝায় জর্জরিত পরিবারটির পক্ষে এত বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ অবস্থায় ড. গোলাম ফেরদৌসের পরিবার প্রধানমন্ত্রী, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), শিক্ষা মন্ত্রণালয়, দেশের সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলভুক্ত প্রতিষ্ঠান, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশনসহ দেশ-বিদেশের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান ব্যক্তিদের কাছে মানবিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছে।
ড. গোলাম ফেরদৌস বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কৃতিত্বের সঙ্গে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। ২০১৮ সালে তিনি গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। পরে ২০২১ সালে সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতি পেয়ে সুনামের সঙ্গে শিক্ষকতা করে আসছেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ বেতার ও বাংলাদেশ টেলিভিশনের উন্নয়নমূলক অনুষ্ঠানে উপস্থাপক হিসেবেও কাজ করেছেন।
আর্থিক সহায়তা পাঠানোর মাধ্যম
নাম: ড. মো. গোলাম ফেরদৌস, ব্যাংক: অগ্রণী ব্যাংক লিমিটেড, জিএসটিউ শাখা, গোপালগঞ্জ, সঞ্চয়ী হিসাব নম্বর: ০২০০০১২৭৯৭৩৮৩, বিকাশ (ব্যক্তিগত): ০১৭১২-৭৯৪২০৩।