ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী স্বাগত মন্ডল অর্ঘ্যের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে মানববন্ধন © টিডিসি ছবি
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী স্বাগত মন্ডল অর্ঘ্যের ওপর হামলার প্রতিবাদ ও ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবিতে মানববন্ধন করেছেন বিভাগটির শিক্ষার্থীরা।
রোববার (২৩ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচির শুরুতে ফার্মেসি বিভাগের সাধারণ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে অবস্থান নেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে গিয়ে মানববন্ধন করেন।
মানববন্ধন চলাকালে শিক্ষার্থীদের হাতে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। এসব প্ল্যাকার্ডে হামলার বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং দোষীদের শাস্তির দাবি তুলে ধরা হয়।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একজন শিক্ষার্থীর ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান।
জানা গেছে, গোবিপ্রবি ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনের নেতৃত্বে অর্ঘ্যর উপরে হামলা করা হয়। পরে ঘটনাটি আইন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। যেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হেনস্তার শিকার হন গোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সজিবুর রহমান ও সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল হাসান।
এদিকে ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ঘটনার বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি পালনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তব্যকালে শিক্ষার্থীরা বলেন, তারা কোনো পক্ষপাতমূলক তদন্ত চান না; বরং ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা চান। একই সঙ্গে ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আহসান আহমেদ সৌরভ বলেন, ঘটনাটি ইতোমধ্যে তদন্তের জন্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে সঠিক তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এতে ব্যর্থ হলে তিনি পদত্যাগ করবেন। তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে তথ্য-প্রমাণ যাচাই করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।