নবীনদের পদচারণে মুখর গোবিপ্রবি ক্যাম্পাস: স্বপ্ন, প্রত্যাশা আর নতুন পথচলার গল্প

২৮ জুলাই ২০২৬, ০১:৫০ PM
সাইমুম ফেরদৌস ওহী, নীলিমা হক হীরা, সজিব হোসেন ও তানহা আমিন রাহা

সাইমুম ফেরদৌস ওহী, নীলিমা হক হীরা, সজিব হোসেন ও তানহা আমিন রাহা © সংগৃহীত

উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে হাজারো শিক্ষার্থীর জীবনে বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্পণ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ, নতুন বন্ধুত্ব আর অজানা সম্ভাবনার হাতছানিতে প্রতিটি ক্যাম্পাসই হয়ে ওঠে স্বপ্ন বুনার এক উন্মুক্ত প্রাঙ্গণ। গুচ্ছের দীর্ঘ ভর্তি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা যখন গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) শ্রেণিকক্ষে প্রথম পা রাখলেন, তখন তাদের চোখে ছিল উচ্ছ্বাস, কৌতূহল আর অসংখ্য প্রত্যাশা। দক্ষিণাঞ্চলের এই বিদ্যাপীঠকে ঘিরে কী ভাবছেন তারা? কেমন লাগছে নতুন ক্যাম্পাস, শিক্ষক, পরিবেশ ও বিশ্ববিদ্যালয় জীবন? ভবিষ্যৎ নিয়ে কী স্বপ্ন দেখছেন তারা? নবীন শিক্ষার্থীদের এমনই অনুভূতি, প্রত্যাশা ও ক্যাম্পাস ভাবনা তুলে ধরেছেন চারজন শিক্ষার্থী।

‘বিশ্ববিদ্যালয় এক নতুন স্বপ্নের ঠিকানা’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী সাইমুম ফেরদৌস ওহী বলেন, ‘এই ক্যাম্পাসে আমার আজকের এই পদার্পণ এর পেছনে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। সেই রাত ৩টা পর্যন্ত জেগে থেকে পড়াশোনা করা, ভর্তি পরীক্ষার তুমুল প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে এই ক্যাম্পাসে আসা। এই পুরোটা পথে আমার আম্মু এবং শিক্ষকদের পাশে পেয়েছি।  স্কুল-কলেজের গণ্ডি পেরিয়ে, দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে আজ এখানে। দীর্ঘদিনের সেই ক্লান্তিহীন পরিশ্রম আর অদম্য ইচ্ছাশক্তির পর এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ এখন আমার জন্য আক্ষরিক অর্থেই এক নতুন স্বপ্নের ঠিকানা।’

আরও পড়ুন: বিভাগের ৩ অ্যাকাউন্টের ২৪ লাখ টাকার হিসাব না দিয়ে অব্যাহতিপ্রাপ্ত রাবি অধ্যাপক ফিরলেন প্রোভিসি হয়ে

তিনি আরও বলেন, ‘উচ্চশিক্ষার এই আঙিনা আমার জন্য কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানার্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি স্বাধীনভাবে চিন্তা করার এক উন্মুক্ত শিক্ষাঙ্গন। এখানে যেমন উন্মোচিত হবে সম্ভাবনার নতুন পথ, তেমন নিজ যোগ্যতাকে প্রমাণ করার সুযোগ। এই ক্যাম্পাস এখন আমার কাছে কেবল ইটের দালান নয়,  এটি আমার নতুন স্বপ্নের সূতিকাগার। বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানার্জনের এক উন্মুক্ত আকাশের সন্ধান পেয়েছি । এখানে স্বাধীনভাবে জ্ঞান চর্চা করব, নতুন মানুষের সঙ্গে মিশব, এবং আগামী দিনের জন্য নিজেদের প্রস্তুত করব।’

‘স্বপ্ন ছোঁয়ার প্রথম পদক্ষেপ’
রসায়ন বিভাগে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থী নীলিমা হক হীরা বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি আনন্দিত ও গর্বিত। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম দিন মনে হয়েছে, জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু হলো। নতুন পরিবেশে শুরুতে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও শিক্ষক, সহপাঠী ও সিনিয়রদের আন্তরিক সহযোগিতায় খুব দ্রুত মানিয়ে নিতে পেরেছি। আমার সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা হলো ভালোভাবে পড়াশোনা করে নিজেকে একজন দক্ষ ও যোগ্য মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা। পাশাপাশি নতুন অভিজ্ঞতা ও বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে চাই। চার বছর পর নিজেকে একজন আত্মবিশ্বাসী ও দায়িত্বশীল গ্র্যাজুয়েট হিসেবে দেখতে চাই। বিশ্ববিদ্যালয় জীবন থেকে ভালো ফলাফল, জ্ঞান, দক্ষতা এবং অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি অর্জন করতে চাই।’

‘সততা, জ্ঞান আর মানবিকতায় গড়তে চাই নিজেকে’
সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সজিব হোসেন বলেন, ‘শুরুতেই সৃষ্টি কর্তার প্রতি বিশেষ শুকরিয়া আদায় করছি। অসংখ্য স্বপ্ন, নিরলস পরিশ্রম, ত্যাগ, সংগ্রাম এবং দীর্ঘ প্রতীক্ষার প্রহর শেষে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হয়ে উচ্চশিক্ষার এক নতুন দিগন্তে পদার্পণ করেছি। এই অর্জন শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আসন নিশ্চিত করা নয়, বরং আমার ভবিষ্যৎকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। বহু প্রতিকূলতা অতিক্রম করে স্বপ্নপূরণের পথে এটি আমার জীবনের এক অনন্য মাইলফলক।’

আরও পড়ুন: একদিনে ১৯ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫ শীর্ষ পদে নিয়োগ দিল সরকার

তিনি বলেন, ‘শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে পরিবার, শিক্ষক ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উৎসাহ, দোয়া ও সহযোগিতা আমাকে সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করেছে। ভর্তি পরীক্ষার সময় নানা চ্যালেঞ্জ এলেও কখনো লক্ষ্য থেকে বিচ্যুত হইনি। আজ সেই কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, এই বিশ্ববিদ্যালয় আমার স্বপ্নপূরণের শক্ত ভিত্তি হয়ে উঠবে। এখান থেকে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি নৈতিকতা, নেতৃত্বের গুণাবলি ও মানবিক মূল্যবোধে সমৃদ্ধ একজন মানুষ হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে চাই। অর্জিত শিক্ষা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগাতে পারাই হবে আমার সবচেয়ে বড় সাফল্য। মহান আল্লাহর কাছে দোয়া করি, তিনি যেন আমাকে সততা, অধ্যবসায় ও নিষ্ঠার সঙ্গে এই পথচলায় অটুট রাখেন এবং আমার স্বপ্নকে অর্থবহ করে তোলার তাওফিক দান করেন।’

‘বাবার গর্ব হতে পেরেছি, এবার বিশ্ববিদ্যালয়ের গর্ব হতে চাই’
লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হওয়া তানহা আমিন রাহা বলেন, “গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়া আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টার্নিং পয়েন্ট। এই অর্জনে প্রথমবারের মতো বাবাকে গর্বিত করতে পেরেছি, আর সেটিই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ক্যাম্পাসের নিজস্ব বাস আমার কাছে সবচেয়ে প্রিয়। বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যেই আমাকে একটি সুন্দর পরিচয় দিয়েছে। তাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম রক্ষায় নিজের সর্বোচ্চটা দিতে চাই। নবীনবরণ অনুষ্ঠানে সিনিয়রদের একটি কথা—‘Today you are a fresher, tomorrow you'll inspire others’—আমাকে ভীষণ অনুপ্রাণিত করেছে। চার বছর পর এমন একজন গ্র্যাজুয়েট হতে চাই, যার কাজ ও অর্জন ভবিষ্যতের অনুজদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।”

পরীমনির খামচিকাণ্ডের পর ভ্যাকসিন নিলেন সাংবাদিক সিয়াম
  • ০৯ নভেম্বর ২০২৬
ঢাবির জগন্নাথ হলে বিশ্বের সবচেয়ে বড় সরস্বতী প্রতিমার ভিত্তি…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
ময়মনসিংহে ভেজাল পশুখাদ্য উৎপাদনের অভিযোগে এক প্রতিষ্ঠানকে ৪…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
সরকারি সেবা নিতে গিয়ে কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
শেরপুরে জমি বিরোধে চাচাকে পিটিয়ে হত্যা, ভাতিজার বাড়িতে আগুন…
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
জেলা প্রশাসকের বিপ্লব ও সংহতি দিবসের বক্তব্য ঘিরে বিতর্ক
  • ০৮ নভেম্বর ২০২৬
×
NORTH SOUTH
UNIVERSITY Center of Excellence
UNDERGRADUATE
ADMISSION
SPRING 2027
APPLY NOW
APPLICATION DEADLINE
NOVEMBER 22, 2026
ADMISSION TEST
NOVEMBER 28, 2026
WORLD RANKINGS 2027#801-1000
WORLD RANKINGS 2027#901-950