খাবার নিয়ে অভিযোগ করায় ‘ তুই আমারে চিনস’ বলেই শাবিপ্রবি ছাত্রকে মারধর ছাত্রদলের দুই নেতার

১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ AM , আপডেট: ১৯ জুলাই ২০২৬, ১১:২৫ AM
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদলের লোগো

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও ছাত্রদলের লোগো © টিডিসি সম্পাদিত

আবাসিক হলের ক্যান্টিনের খাবার নিয়ে হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে অভিযোগ করায় এক শিক্ষার্থীকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতার বিরুদ্ধে। শনিবার (১৮ জুলাই) রাত পৌনে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। মারধরের শিকার শিক্ষার্থী সিলেট নগরীর মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান।

এ ঘটনার প্রতিবাদ এবং অভিযুক্তদের বিচারের দাবিতে রাত ৩টার দিকে উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। পরে রাত সাড়ে ৩টার দিকে উপাচার্য অধ্যাপক খায়রুল ইসলাম সেখানে উপস্থিত হয়ে তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত করে ন্যায্য বিচার নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন।

জানা যায়, মারধরের শিকার হওয়া শিক্ষার্থী খাইরুল খন্দকার বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। মারধরের অভিযোগে অভিযুক্ত দুই শিক্ষার্থী হলেন- পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছাত্রদলের যোগাযোগ সম্পাদক হাসিবুর রহমান ও পরিসংখ্যান বিভাগের একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী খায়রুল খন্দকার বলেন, ১৬ জুলাই বৃহস্পতিবার আমি হলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ক্যানটিনের খাবারের বাজে অবস্থা নিয়ে প্রভোস্টকে ‘মেনশন’ দিয়ে অভিযোগ করি। এর পরের দিন ১৭ জুলাই শুক্রবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে তারেক ও হাসিবুর আমাকে প্রভোস্টের কাছে ‘স্যরি’ বলতে বলেন। শনিবার রাতে গেটে খাবার খেতে গেলে হাসিবুর আমাকে ডেকে পাঠান। তখন আমি কেন প্রভোস্টের কাছে স্যরি বলি নাই, তা জানতে চায় হাসিবুব। আমাকে সে হুমকি দেয়। এ সময় তারেক বলে, ‘এই ব্যাটা তুই আমারে চিনস? থাপড়িয়ে দাঁত ফেলে দিব।’

আরও পড়ুন: ‘চাঁদা না পেয়ে’ যুবদল নেতাকে পেটালেন ছাত্রদলের ৩ নেতা

তিনি আরো বলেন, তখন হাসিবুর ও তারেক আমাকে বেধড়ক মারধর করেন। আমি বললাম কিছু বলার থাকলে হল প্রভোস্ট আমাকে বলবে, আপনারা কেন বলবেন। তখন হাসিব আমাকে জোরে বুকে লাথি মারে ও তারেক মাথার পিছনে, মুখে আমাকে এলোপাতাড়ি মারতে থাকে। এরপর আশপাশ মানুষ আসলে কয়েকজন সিনিয়র ভাই ও বন্ধুরা আমাকে হাসপাতালে নিয়ে আসে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সহ দপ্তর সম্পাদক তারেক রহমান বলেন, হলের গ্রুপে খাবারের বিষয়ে কথা বলায় প্রভোস্ট স্যার একটু মন খারাপ করছেন। তখন আমরা এ নিয়ে খায়রুলকে বুঝাচ্ছিলাম। কিন্ত সে জুনিয়র হয়েও আমাদের সাথে খুব বাজে আচরণ করে। যেটা আমাদের কাছে সিনিয়র হিসেবে খুব খারাপ লাগছে। এবং কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সে তেড়ে এসে আমার শরীরে তার হাত টাচ করছে। তখন হাসিব বাধা দিতে গিয়ে হাতাহাতি পর্যায়ে চলে গেছে। এতে হাসিবের চশমা ভেঙ্গে গেছে, তার হাত কেটে গেছে। তার ফোন পুরোটা ভেঙে গেছে।

এ বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত হাসিবুর রহমানকে কল দিলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি রাহাত জামান বলেন, এটি সম্পূর্ণভাবে সংশ্লিষ্ট হলের প্রাধ্যক্ষ ও তিনজন শিক্ষার্থীর মধ্যকার একটি বিষয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. ইফতেখার আহমদ বলেন, এখানে আমার কোন সংশ্লিষ্টতা নেই। কাউকে মারার জন্য মদদও দেইনি, দায়িত্বও দেইনি। হলের সমস্যা নিয়ে কোন শিক্ষার্থী অভিযোগ করলে আমি আমার রুমে ডেকে তার সাথে কথা বলে সমাধান করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের  সকল শিক্ষার্থী আমার কাছে সমান। এ বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। ঘটনার যথাযথ তদন্তের মাধ্যমে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করা হবে।

এবতেদায়ী শিক্ষকদের দুই মাসের বেতনের চেক ছাড়
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
নিশ্চিত মৃত্যুর রোগ জলাতঙ্কের ঝুঁকিতে শিশুরা: একটি নীরব জনস…
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
কেন গোটা পৃথিবীর ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার ঠিকাদারি নিয়েছে যুক্…
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
পুলিশের পোশাক পরে মহাসড়কে ডাকাতি, র‍্যাবের অভিযানে গ্রেপ্তা…
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
স্টুডেন্ট ভিসা আবেদন বাতিল হতে পারে যেসব ভুলে
  • ১৯ জুলাই ২০২৬
তিন বিভাগে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
  • ১৯ জুলাই ২০২৬