নোবিপ্রবি শিবিরের স্মারকলিপি © টিডিসি ফটো
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) চলমান মেগা প্রকল্প অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এর নির্মাণকাজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে দুই দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচির ভিত্তিতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছে ছাত্রশিবির, নোবিপ্রবি শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল ১১টায় উপাচার্য বরাবর এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। স্মারকলিপির সাথে সাধারণ শিক্ষার্থীদের দুই দিনব্যাপী গণস্বাক্ষর কর্মসূচির সহস্রাধিক গণস্বাক্ষরযুক্ত ব্যানার প্রশাসনিক ভবনের সামনে প্রদর্শন করা হয়।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফুর রহমান সৈকত বলেন, গত ২২ জুন আমাদের ক্যাম্পাসে মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী আসলে শিক্ষার্থীরা অ্যাকাডেমিক ভবন-৩ এর কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পাদনের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তরের দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের এই দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা গণস্বাক্ষর কর্মসূচি পালন করি এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যাপক সাড়া পাই। পরবর্তীতে গণস্বাক্ষরসহ উপাচার্য মহোদয় বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হলে তিনিও আমাদের দাবির সাথে একাত্মতা পোষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তাদের ইতিবাচক সাড়া পাওয়ায় ধন্যবাদ জানাই। আমরা প্রত্যাশা করি তিনি দ্রুত এই সুসংবাদ দিবেন। একইসাথে সকল শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানাই যেন এই দাবি আদায় করতে পারি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের বক্তব্য চলাকালীন একই দাবিতে সাধারণ ও বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা অডিটোরিয়ামে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন ও স্লোগান দেন। সে সময় মেগা প্রকল্পের কাজ সেনাবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের দাবির বিরোধিতা করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল পাল্টা স্লোগান দিলে দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা, ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে শিক্ষামন্ত্রী নিজে হস্তক্ষেপ করে ছাত্রদলকে শান্ত ও সুশৃঙ্খল হওয়ার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এরই ধারাবাহিকতায়, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবির প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করে গত ২৩ ও ২৪ জুন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উন্মুক্ত গণস্বাক্ষর কর্মসূচির আয়োজন করে নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রশিবির। এতে বিভিন্ন বিভাগের সহস্রাধিক শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়ে তাদের সমর্থন ব্যক্ত করেন।