নোবিপ্রবি
বাম দিক থেকে- নোবিপ্রবি ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন ও সভাপতি জাহিদ হাসান © টিডিসি ফটো
কোরাম ভিন্ন হওয়ায় নিজ দলের সিনিয়র সহ-সভাপতির সীট বাতিলের জন্য হল প্রভোস্টের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়েছেন নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) শাখা ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদ হাসান। বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুরে প্রশাসনিক ভবন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। যার একটি অডিও রেকর্ড ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে।
জানা যায়, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মালেক উকিল হল প্রভোস্টের সঙ্গে তুমুল বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তাহীনতার কথা উল্লেখ করে উপাচার্য বরাবর অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী হল প্রভোস্ট ড. মো. তসলিম মাহমুদ।
অভিযোগ উঠেছে, মূলত নিজেদের কোরামের বাইরে থাকা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেনের আবাসিক সিট বাতিল করার জন্য বেশ কিছুদিন ধরে চাপ প্রয়োগ করে আসছিলেন শাখা ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসান। তবে হলের সিট বাতিলের যথাযথ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করার জন্য তা বিলম্বিত হয়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন থেকেই ছাত্রদলের নিজেদের মধ্যকার কোন্দলের ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে কিছুদিন আগে হল থেকে বের করে দেওয়া নোবিপ্রবি শাখা ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বিরকে।
এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার হল প্রভোস্ট ড. মো. তসলিম মাহমুদের কাছে সাব্বির হোসেনের সীট বাতিল সম্পর্কে জানতে চাইলে কথোপকথনের একপর্যায়ে ছাত্রদল সভাপতি জাহিদ হাসান উত্তেজিত হয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অডিও ক্লিপে যা শোনা গেল:
ছাত্রদল সভাপতি: আমরা আমাদের দাবি বলছি, আপনি গিয়া স্যারকে বলেন।
হল প্রভোস্ট: অবৈধ কি? আমাদের একটা গতি আছে।’
ছাত্রদল সভাপতি: ‘বললাম অবৈধভাবে কেউ থাকতে পারবে না।’
হল প্রভোস্ট: তোমরা স্যারকে বলো।
ছাত্রদল সভাপতি: আপনি যান, আপনি যাইয়া বলেন। আমাদের কথা তো আপনাকে বলছি।
হল প্রভোস্ট: তুমি তো এভাবে কথা বলতে পারো না।
ছাত্রদল সভাপতি: আপনারা বাধ্য করেন এভাবে কথা বলতে।
হল প্রভোস্ট: কিভাবে বাধ্য করি?
ছাত্রদল সভাপতি: একটা ছেলে হলে অবৈধভাবে থাকে আপনাকে জানাইছি, সাড়ে তিনমাস হইছে আপনাকে জানায়ছি। ঐ মিয়া একটা হলের...।
হল প্রভোস্ট: ঐ মিয়া কি? আমি কি মিয়া? আমি কি তোমার জন্য মিয়া?
এদিকে হলের সিট বাতিল করা-না করা ইস্যুকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণের ঘটনায় হলের প্রশাসনিক কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী হল ঐ প্রভোস্ট। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে দাবি করে তিনি এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।
জানতে চাইলে আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. মো. তসলিম মাহমুদ বলেন, ‘কারও কথায় তো হল প্রশাসন চলবে না। আমাদের একটা নিয়ম আছে। সে নিয়মেই আমরা চলছিলাম, সেটা তার পছন্দ হয়নি। আমি ভিসি স্যারের সাথে কথা বলেছি, স্যার বলেছেন উনি বিষয়টা দেখবেন।’
কাদের সিট বাতিলের জন্য ছাত্রদল সভাপতি আগে জানিয়েছিলেন জিজ্ঞেস করলে তিনি জানান, ‘এদের কিছু অপছন্দের লোক আছে তাদের সিট ক্যান্সেল করতে বলে। আমরা বলেছি আমাদের একটা প্রক্রিয়া আছে। প্রক্রিয়া মেনেই যদি ক্যান্সেল হয় তাহলে করবো।
ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি সাব্বির হোসেন বলেন, ‘হ্যাঁ, ঘটনাটি আমার হলের সিটকে কেন্দ্র করেই ঘটেছে। গত ১৫ মে জাহিদ ভাই কয়েকজন ছেলে পাঠিয়ে আমার অবর্তমানে সিটের সকল জিনিসপত্র উঠিয়ে ফেলে দেয়। রুমমেটদের থেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম যে ছেলেগুলো আসছিলো তার মধ্যে পরিসংখ্যান বিভাগের ২০২৩-২৪ সেশনের জাবেরকে চিনতে পেরেছে। বাকীদেরকে তারা চিনতে পারেনি। আমি বিষয়টি হল প্রভোস্টকে অবগত করেছিলাম।’