নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়
নোবিপ্রবি © ফাইল ছবি
পিএইচডি (ডক্টর অফ ফিলোসফি) গবেষকদের মাসিক ভাতা ৪০ হাজার থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষিত সুযোগ-সুবিধা দেখে পিএইচডি প্রোগ্রামে ভর্তি হওয়া গবেষকদের মধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (নোবিপ্রবি) প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তে তীব্র অসন্তোষ দেখা গেছে।
সংশ্লিষ্ট নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা যায়, ২০২৫-২৬ (জুলাই-ডিসেম্বর) শিক্ষাবর্ষের পিএইচডি প্রোগ্রামের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে যোগ্য গবেষকদের জন্য মাসিক ৪০ হাজার টাকা বৃত্তি ঘোষণা করা হয়েছিল। গত বছরের ৮ আগস্ট জাতীয় দৈনিকেও এ তথ্য প্রকাশিত হয়। তবে সম্প্রতি রেজিস্ট্রার দপ্তরের এক অফিস আদেশে জানানো হয়— ইউজিসির বাজেট অনুযায়ী নতুন পিএইচডি শিক্ষার্থীদের মাসিক ভাতা ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ এপ্রিল বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজ (BOAS), ৮ এপ্রিল একাডেমিক কাউন্সিল এবং ১১ এপ্রিল অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেটের ৯৮তম সভায় গবেষকদের ভাতা পরিবর্তনের এ সিদ্ধান্ত হয়। এদিকে ঘোষিত সুযোগ সুবিধার ওপর আস্থা রেখে ভর্তি হওয়া গবেষকরা আর্থিক অনিশ্চয়তা ও হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
পিএইচডি গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগের শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া ফেলোদের প্রতিমাসে ৪০ হাজার টাকা হারে ভাতা প্রদান করা হয়। কিন্তু ২০২৫–২৬ (জুলাই–ডিসেম্বর) শিক্ষাবর্ষের ১৮ জন গবেষককে ভর্তির ৪ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো ভাতা দেওয়া হয়নি। উপরন্তু প্রায় ৪০ শতাংশ তথা ১৫ হাজার টাকা ভাতা কমিয়ে ফেলা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসনের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ প্রকাশ করে গত ২০ এপ্রিল পিএইচডি গবেষকদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। যেখানে ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ঘোষিত ৪০ হাজার টাকা ফেলোশিপ বহাল রাখা, চলমান ভাতা সংকট দ্রুত নিরসন এবং ভবিষ্যতে ভর্তি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়— গবেষণার ব্যয় বৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে পূর্বঘোষিত ৪০ হাজার টাকা ভাতা বহাল রাখা জরুরি। অন্যথায় গবেষণা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা বাড়বে।
হতাশা ও উদ্বেগ প্রকাশ করে ২০২৫-২৬ (জুলাই ডিসেম্বর) সেশনে ভর্তি হওয়া পিএইচডি ফেলো মো. ইয়াসিন বলেন, ‘নয় মাস আগে পত্রিকার ৪০ হাজার টাকার পিএইচডি ফেলোশিপ এর বিজ্ঞপ্তি দেখে আবেদন করি। কিন্তু ইতোমধ্যে শোনা যাচ্ছে ৪০ হাজার টাকার পরিবর্তে ২৫ হাজার দেওয়া হবে। বিষয়টি নিয়ে পিএইচডি ফেলোরা চরম হতাশ ও উদ্বিগ্ন। তাছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে ৪০ হাজার টাকার কথা উল্লেখ থাকলেও Fellowship Acceptance Letter এ টাকার পরিমাণ উল্লেখ নেই। এ ধরনের অসংগতি হলে স্ব স্ব নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ থেকে ছুটিও নিতে অসুবিধে হবে এবং সবকিছুতে জটিলতা তৈরি হবে। আশাকরি প্রশাসন এ ধরনের অসংগতিপূর্ণ এবং জটিলতা দ্রুত সমাধান করে পিএইচডি ফেলোদের হতাশা দূর করবে।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন পিএইচডি গবেষক বলেন, ‘আমরা ভেবেছিলাম ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে যে ৪০ হাজার টাকার ফেলোশিপ ঘোষণা করা হয়েছে, সেটাই বাস্তবায়ন হবে। কিন্তু এখন হঠাৎ করে ভাতা কমানোর সিদ্ধান্ত আমাদের পুরো পরিকল্পনাকেই অনিশ্চয়তায় ফেলেছে। তিনি আরও বলেন, আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত এ সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করুক এবং পূর্বঘোষিত ভাতাই বহাল রাখুক। একই সাথে ভাতা প্রদানে যে বিলম্ব হচ্ছে সেটিও দ্রুত সমাধান করা প্রয়োজন। অন্যথায় গবেষণার গতি মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।’
জানতে চাইলে রিসার্চ সেলের পরিচালক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘অ্যাডভান্স স্টাডিস বোর্ড, একাডেমিক কাউন্সিল ও রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদনের পর ৪০ হাজার টাকার পিএইচডি ফেলোশিপের সিদ্ধান্ত নোটিশ আকারে আসে। পরে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে রিসার্চ সেল ও ফেলোশিপ কমিটির যৌথ মিটিংয়ে ৪০ হাজার টাকা বহাল রাখার সুপারিশ করে প্রশাসনের কাছে ফাইল নোট পাঠানো হয়, তবে উপাচার্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না দিয়ে বিষয়টি কমিটির ওপর ছেড়ে দেন। রিসার্চ সেলের অবস্থান হলো— যেহেতু শিক্ষার্থীরা ৪০ হাজার টাকার ভিত্তিতে ভর্তি হয়েছে, তাই তাদের ক্ষেত্রে এটা বহাল থাকা উচিত। নতুনদের জন্য ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হলে সেটি আলাদাভাবে কার্যকর করা যেতে পারে।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইসমাইল বলেন, ‘ইউজিসি কর্তৃক প্রদত্ত বরাদ্দের বাহিরে আমাদের টাকা দেওয়ার সুযোগ নেই। তাছাড়া যোগ্য পিএইচডি গবেষকদের প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট ফেলোশিপ দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল, সবাইকে না। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মিটিংয়ে বাজেট প্রাপ্তি সাপেক্ষে যোগ্যদের ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’