উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ © টিডিসি
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী জাতীয় মেকানিক্যাল ফেস্টিভ্যাল ইগনিশন-২০২৬। ‘ইগনাইট ইয়োর পটেনশিয়াল’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয় শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টার প্রাঙ্গণে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুয়েটের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মদ মাছুদ। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ফেস্টিভ্যালের কনভেনর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ইনাম, কো-কনভেনর অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সুলতান মাহমুদ এবং পরিচালক (ছাত্রকল্যাণ) প্রফেসর ড. মো. হাসান আলীসহ বিভাগের শিক্ষকবৃন্দ। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আগত শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন। পুরো আয়োজন সমন্বয়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে কাজ করছেন চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আওরঙ্গ আলিফ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভাইস চ্যান্সেলর বলেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। ‘ইগনাইট ইয়োর পটেনশিয়াল’ স্লোগানটি তরুণদের ভেতরের সৃজনশীল শক্তিকে জাগিয়ে তুলতে সহায়ক হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন, টিমওয়ার্ক ও শিল্প খাতের সঙ্গে সংযোগ তৈরিতে সহায়তা করে বলেও তিনি মত দেন।
তিনি আরও বলেন, কুয়েট দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক শিক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে আসছে এবং এই ফেস্টিভ্যাল শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্ঞান আদান-প্রদান ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে।
তিন দিনব্যাপী এই উৎসবে দেশের ২২টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। এবারের আয়োজনকে ঘিরে রাখা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ টাকার প্রাইজপুল, যা অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বাড়তি উৎসাহ যোগ করেছে।
ফেস্টিভ্যালে থাকছে বিভিন্ন ধরনের প্রতিযোগিতা, যার মধ্যে রয়েছে লাইন ফলোয়ার রোবট, সকার বট, বিজনেস কেস স্টাডি, অ্যাড-মেকিং, ক্যাড ডিজাইন, প্রজেক্ট শোকেসিং, পোস্টার প্রেজেন্টেশন, থ্রি মিনিট থিসিস, মেকানিক্স ও অটোমোবাইল অলিম্পিয়াড, কন্টেন্ট রাইটিং ও গেমিং কনটেস্ট।
ফেস্টিভ্যালে অংশগ্রহণকারী মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক আয়োজনে অংশ নিতে পেরে তিনি গর্বিত। তার মতে, এই ধরনের উদ্যোগ শুধু বিভাগের নয়, বরং পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম দেশব্যাপী তুলে ধরতে সহায়ক। তিনি আরও বলেন, একটি প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত হওয়া উচিত, কারণ এটি শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও মেধা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আয়োজকদের আশা, এই আয়োজন তরুণ প্রকৌশলীদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও দক্ষতা বিকাশে ভূমিকা রাখবে এবং ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুত করবে।
উৎসবের সমাপনী অনুষ্ঠান আগামী ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হবে।