মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে © টিডিসি সম্পাদিত
দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি নতুন নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ৯ম থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১৮টি ক্যাটাগরিতে ১১৩ জন প্রার্থীকে নিয়োগ দেওয়া হবে। অধিকাংশ পদেই হাইড্রোগ্রাফার নিয়োগের কথা উল্লেখ থাকলেও ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে ডিগ্রিধারীরা আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন না। এতে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা।
হাইড্রোগ্রাফাররা মূলত সমুদ্র, নদী ও জলাশয়ের ভৌত বৈশিষ্ট্য বিষয়ে অভিজ্ঞ। যেমন পানির গভীরতা, স্তর, জোয়ার-ভাটা, স্রোত, তাপমাত্রা ও লবণাক্ততা ইত্যাদি পরিমাপ ও বিশ্লেষণ করে থাকেন। তাদের কাজ নৌ-চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়াও সমুদ্র গবেষণা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরও পড়ুন: মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আয়োজন ও সফলতার বছর
গত ১৩ সেপ্টেম্বর (সোমবার) প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, প্রার্থীদের গণিত, পদার্থবিজ্ঞান বা ভূগোল বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকতে হবে। তবে সেখানে ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে কোনো উল্লেখ নেই। অর্থ্যাৎ, এ বিষয়ে ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়নি।
দেশের বেশ কয়েকটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ওশানোগ্রাফি ও হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে চার বছর মেয়াদি স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি প্রদান করে আসছে। এই কোর্সে সমুদ্র জরিপ, গভীরতা পরিমাপ, মানচিত্র তৈরি, ও হাইড্রোগ্রাফিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মতো বিষয় শেখানো হয়, যা আন্তর্জাতিকভাবে একজন পেশাদার হাইড্রোগ্রাফারের জন্য অপরিহার্য যোগ্যতা হিসেবে বিবেচিত।
তবে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে ঐতিহ্যবাহী সাধারণ বিজ্ঞান বিষয়ের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়ায় বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন ডিগ্রিধারীরা হতাশায় পড়েছেন। তাদের মতে, এটি দেশের বন্দর ও সামুদ্রিক খাতে যোগ্য জনশক্তি তৈরির পথে বড় প্রতিবন্ধকতা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) কাজী আবেদ হোসেন বলেন, আমাদের নিয়োগগুলো হয় মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ১৯৯১ অনুযায়ী। তখন হয়তো ওশানোগ্রাফি ও হাইড্রোগ্রাফি বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত ছিল না। প্রবিধান পরিবর্তন হলে অবশ্যই এই বিষয়গুলোকে যুক্ত করা হবে।
তিনি আরও জানান, আমরা প্রবিধানমালা পরিবর্তনের জন্য কাজ করছি। মংলা বন্দর আইন ২০২০ অনুযায়ী বিষয়টি পর্যালোচনায় আছে। যেহেতু এটি একটি সরকারি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান, তাই প্রতিটি পদ যুগোপযোগী করা কিছুটা সময়সাপেক্ষ।
শিক্ষার্থীদের দাবি, দেশের সমুদ্র অর্থনীতি ও বন্দর ব্যবস্থাপনাকে আধুনিক ও টেকসই করতে হলে দ্রুত নিয়োগবিধি পুনর্বিবেচনা করা জরুরি। ওশানোগ্রাফি অ্যান্ড হাইড্রোগ্রাফি বিষয়ে ডিগ্রিধারীদের নিয়োগে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।