উটপাখি সহ বিভিন্ন প্রজাতির মুরগি হাবিপ্রবির সৌন্দর্য। © আব্দুল মান্নান
দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) উদ্যোগে দেশে আমিষের জোগানে নতুন মাত্রা যোগ ও গরুর মাংসের ওপর চাপ কমিয়ে আনতে বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়াম-২ এর পাশে গড়ে তোলা হয়েছে উটপাখি সহ বিভিন্ন প্রজাতি মুরগির খামার। এসব মুরগি এবং উটপাখির খামার যুক্ত হওয়াতে একদিকে যেমন বেড়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য অন্যদিকে বেড়েছে দর্শনার্থীদের ভিড়। প্রতিনিয়ত দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাখি ও প্রকৃতি প্রেমী লোকেরা এসব এক নজর দেখতে ছুটে আসেন ক্যাম্পাসে।
ক্যাম্পাসের এই খামারে উটপাখির পাশাপাশি আছে বিভিন্ন প্রজাতির মুরগী। যেগুলো খামারকে করে তুলেছে আরো আকর্ষণীয়। মুরগীর মধ্যে ফিজেন্ট মুরগী যেগুলো, সেগুলো দেখতে সোনালী আকারের এবং পিছনের লেজ দেহের তুলনায় অনেক বড়। এরা হাঁটাচলার পাশাপাশি উড়তেও পারে। এসবের পাশাপাশি আরো দুই জাতের ময়ূর আছে। এছাড়া আছে খরগোশ এবং রিং ,হোমার ,গিরিবাজ ,মিয়াজি,আউলফেস ,বোখারা ও লাক্ষাসহ বিভিন্ন প্রজাতির কবুতর ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেটেরিনারি এন্ড এনিম্যাল সাইন্স অনুষদের জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল গাফফার মিয়ার তত্ত্বাবধানে এসব নিয়ে গবেষণা করছেন পিএইচডির ছাত্র আহসান হাবীব মিজান। তিনি জানান, বাংলাদেশের আবহাওয়া উটপাখির জন্য কতটুকু উপযোগী সেটা দেখতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। আমরা এতে অনেকটা সফল হয়েছি বলতে পারি। উটপাখি আমাদের দেশের না হলেও তারা আমাদের আবহাওয়ার সাথে বেশ খাপ খাইয়ে নিয়েছে।
তিনি আরো জানান, কয়েকদিন আগে আমরা এসব উটপাখি থেকে ডিমও পেয়েছি। সেগুলো কৃত্রিম প্রজনের জন্য সংরক্ষিত করা হয়েছে। উটপাখির প্রতিটি ডিম প্রায় দেড় কেজি হয়। বছরে একেকটি উটপাখি ৭০-১০০টি পর্যন্ত ডিম দিয়ে থাকে। উটপাখির শারীরিক বৃদ্ধি ও প্রজনন গরু কিংবা ছাগলের থেকে দ্রুততর হয়। পূর্ণবয়স্ক একটি উটপাখি থেকে প্রায় আড়াই মণ মাংস দিয়ে থাকে। এখানে এখন পর্যন্ত উটপাখিগুলোর মাঝে কোনো রোগবালাই দেখা যায়নি।
আহসান হাবীব আরো জানান, এখানে যেসব জাতের মুরগী রাখা আছে, এদের মূলত কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে সংরক্ষণাবেক্ষণ করার জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। ব্রাহ্মা জাতের আমাদের দেশে বিলুপ্ত প্রায় বলা চলে। আমরা সেগুলো বংশবিস্তার করে বিলুপ্তির হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ের প্রধান গবেষক ও জেনেটিক্স অ্যান্ড অ্যানিম্যাল ব্রিডিং বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আব্দুল গাফফার মিয়া বলেন, ‘উটপাখি নিয়ে গবেষণায় আমরা আশাবাদী। বাংলাদেশের আবহাওয়ায় তাদের বৃদ্ধি ঠিকমতোই হচ্ছে। বছরে একটি উটপাখি ৬০-১০০টি ডিম পাড়ে। এর থেকে শতকরা ৫০ ভাগ ডিম থেকে সফলভাবে বাচ্চা উৎপাদন করা যায়। আর একটি উটপাখির বাচ্চার দাম ৩০-৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়। অনেকেই এরই মধ্যে উটপাখির খামার করার জন্য যোগাযোগ করছে।’
তিনি বলেন, একটি গরু থেকে বছরে মাত্র একটি বাচ্চা পাওয়া যায়। ফলে গরু পালনের চেয়ে উটপাখি পালনে বেশি লাভ করা সম্ভব। এছাড়া উটপাখির জীবনকালও বেশি। ফলে বাণিজ্যিকভাবে উটপাখি পালন আমাদের দেশে লাভজনক হবো।