২০ বছরে পদার্পণ উত্তরাঞ্চলের একমাত্র প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের

০১ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৬:১৭ PM , আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০২৫, ০২:৫৫ PM

© টিডিসি ফটো

২০তম বর্ষে পদার্পণ করেছে বাংলাদেশের দ্বিতীয় প্রাচীনতম এবং উত্তরাঞ্চলের একমাত্র পাবলিক প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট)। আজ শুক্রবার (১ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন কর্মসূচি আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টির ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ও বিশ্ববিদ্যালয় দিবস।

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে সকাল ৯টায় প্রশাসনিক ভবন চত্বরে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ছাত্রদের কবরে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ এবং শহীদদের রুহের মাগফেরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। সকাল ১০টায় রুয়েটের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা কর্মচারীদের অংশগ্রহণে একটি বর্ণাঢ্য আনন্দরালী বের হয়। 

বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে প্রশাসনিক ভবন প্রাঙ্গণে পোস্টার প্রেজেন্টেশন এন্ড ইনোভেশন প্রজেক্ট আইডিয়া কনটেস্ট অনুষ্ঠিত হয়। উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম আইডিয়া কনটেস্ট পরিদর্শন করেন এবং বিজয়ীদের পুরস্কৃত করেন। পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা দেশ ও জাতির সম্পদ। তাদের দেশের মানুষের কল্যাণে সাশ্রয়ী ও সহজে ব্যবহারযোগ্য নিত্য নতুন টেকসই প্রযুক্তি উদ্ভাবনে আত্মনিয়োগ করতে হবে।

১৯৬৪ সালে পূর্ব পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলে শিল্প বিকাশ, প্রকৌশল শিক্ষার সুযোগ বৃদ্ধি এবং জাতীয় উন্নয়নের চাহিদার প্রেক্ষিতে স্নাতক পর্যায়ে প্রকৌশলী সৃষ্টির উদ্দেশ্যে ডিসেম্বরে ১২২ জন ছাত্র নিয়ে ‘রাজশাহী প্রকৌশল মহাবিদ্যালয়’ নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রকৌশল অনুষদ হিসেবে যাত্রা শুরু করে। তখন এখানে যন্ত্রকৌশল, পুরকৌশল এবং তড়িৎকৌশল বিভাগের অধীনে সম্মান ডিগ্রি প্রদান করা হতো। কিন্তু প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এর শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছিল। এ সমস্যা সমাধানের জন্য ১৯৭৩ সালে কয়েকটি কমিশন ও কমিটি গঠন করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় জাতীয় সংসদে বিশ্ববিদ্যালয় বিলটি পাশের মাধ্যমে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর এটিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) এ রূপান্তর করা হয়।

রুয়েট ক্যাম্পাসের আয়তন ১৫২ একর। এতে ডিপার্টমেন্ট ভবন, ল্যাবেরেটরি, ওয়ার্কশপ, লাইব্রেরী, জিমনেশিয়াম, কেন্দ্রীয় সাধারণ কক্ষ, ক্যাফেটেরিয়া, শিক্ষার্থীদের আবাসিক হল, শিক্ষক ও কর্মচারীদের আবাসিক এলাকা অবস্থিত। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষার বিকাশে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে।  

রুয়েটে বর্তমানে ৪টি পূর্ণাঙ্গ অনুষদের অধীনে মোট ১৪টি পূর্ণাঙ্গ বিভাগ ও চারটি সহযোগী বিভাগসহ মোট ১৮টি ডিগ্রি প্রদানকারী বিভাগ আছে। বর্তমানে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে প্রায় চার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করে। মোট শিক্ষকের সংখ্যা আড়াই শতাধিক। এখানে ৫ তলা লাইব্রেরী আছে। লাইব্রেরীতে সকল বিভাগের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য সহায়ক বইসমুহ রয়েছে।

এখানে একটি চিকিৎসা কেন্দ্র আছে। অসুস্থ শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ঔষধ সরবরাহ করা হয়। তাছাড়া জরুরি প্রয়োজনের জন্য মেডিক্যাল সেন্টারের নিজস্ব একটি অ্যাম্বুলেন্স রয়েছে। প্রত্যেক বিভাগীয় ভবনে একটি করে অত্যন্ত আধুনিক কম্পিউটার সেন্টার রয়েছে। 

রুয়েট প্রশাসনিক ভবনের পাশেই ৭০০ আসনবিশিষ্ট একটি আধুনিক মিলনায়তন রয়েছে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব অনুষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেমিনার ও কনফারেন্সগুলো অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও প্রতিটি ডিপার্টমেন্টের নিজস্ব সেমিনার রুম ও কনফারেন্স হল রয়েছে।

এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের আবাসিক সুবিধা নিশ্চিত করতে ছাত্রদের জন্য ৬টি এবং ছাত্রীদের জন্য ১টি আবাসিক হল আছে। হলগুলোর নামকরণে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ব্যতীত সকলেই উক্ত প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছিলেন এবং মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে শাহাদত বরণ করেন। 

কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটিজ হিসেবে বেশ কিছু সংগঠন ও প্রতিষ্ঠান সক্রিয়ভাবে কর্মকান্ড পরিচালনা করে থাকে রুয়েটে। 

বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে বিশেষ ভূমিকা ও কৃতিত্বের দাবিদার রুয়েট। কৃতি শিক্ষার্থীর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিরা হলেন- শহীদ মুক্তিযোদ্ধা লেফটেন্যান্ট সেলিম মো. কামরুল হাসান, বীর প্রতীক। তিনি ’৬৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী, ১৯৭১ সালের ৩১ মার্চ তিনি দ্বিতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে যোগ দিয়ে স্বাধীনতা যুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং ১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি অবরুদ্ধ মিরপুর মুক্ত করতে গিয়ে তিনি শাহাদাতবরণ করেন।

অন্যজন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ শহিদুল ইসলাম। তিনিও ’৬৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের করিমপুর গ্রামে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। ‘ঐশী জ্যোতিই আমাদের পথ প্রদর্শক’ শিরোনামের শ্লোগানকে বুকে ধারণ করে মাথা উঁচু করে শিক্ষা বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে রুয়েট।

এবার দুদকের জালে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, আরেক মামলায় গ্রেফতার…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ধানের শীষের বিপক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদলের ৮ নেতা বহিষ্কার
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
‘ছাত্রশিবির জেগে উঠলে পালানোর জায়গা পর্যন্ত পাবেন না’
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ভোটের আগেই পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন ১১৮ কর্মকর্তা, …
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
সমাবর্তনের সামনে শিক্ষার্থীরা, পেছনে শিক্ষকরা— প্রশংসায় ভাস…
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত নেতার গলা টিপে শূন্যে তোলা বিএনপির প্রার্থীর ছেলেকে…
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬