হাবিপ্রবির নবীন শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো
উচ্চশিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন কার না থাকে। দীর্ঘ এক যুগ পড়াশোনার পাঠ চুকিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ভর্তি হওয়ার অনুভূতি স্বপ্নের মত। সারাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ইতোমধ্যে প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নবীনদের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় প্রাণবন্ত ক্যাম্পাসগুলো।
অন্যান্য ক্যাম্পাসের ন্যায় দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (হাবিপ্রবি) এসেছেন একঝাঁক নবীন শিক্ষার্থী। ক্যাম্পাস জুড়ে দেখা যায় তাদের প্রাণবন্ত পদচারণা। তাদের চোখেমুখে স্বপ্ন ছোঁয়ার অনুভূতি। প্রতিবছর উচ্চ মাধ্যমিক পেরিয়ে আসা কয়েক লাখ শিক্ষার্থী ভর্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জ্ঞান অর্জনের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে প্রবেশ করে।
এসময় নবীন শিক্ষার্থীরা জানান, নতুন স্বপ্ন নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের পথ চলা শুরু করেছেন তাঁরা। আকাশ ছোঁয়া স্বপ্ন ও বুক ভরা আশা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন এই বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ অনুভূতি হাবিপ্রবির প্রত্যেক নবীন শিক্ষার্থীর কাছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবীন ছাত্রী সৈয়দা নাহিয়ান মমতাজ বলেন, ২০২২-২৩ সেশনে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে স্বপ্নের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছি। ছোটবেলা থেকেই আমার স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় ছিল হাবিপ্রবি। দেশের অন্যতম সেরা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও উত্তর বাংলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীঠ হাবিপ্রবির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়েছি বারবার।
তিনি আরও বলেন, স্ব-গৌরবে দাঁড়িয়ে থাকা লাল ইটের সাম্রাজ্যের একজন শিক্ষার্থী হতে পেরে আমি অতন্ত্য আনন্দিত। মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক এর সময় থেকেই প্রিয় ক্যাম্পাসে পদচারণা করার স্বপ্ন মনের মধ্যে বাসা বাধতে শুরু করে, সেই স্বপ্ন আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শান্ত পরিবেশ, শিক্ষকগণের অসাধারণ বিনয়ী আচরণ পড়ালেখা মনোযোগী হতে উদ্বুদ্ধ করে।
ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদের ছাত্র মহিন হাসান তুর্য বলেন, হাবিপ্রবি উত্তরবঙ্গের সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ যেখানে সর্বোচ্চ সংখ্যক বিদেশি শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি ইচ্ছুক শিক্ষার্থীর সবচেয়ে বড় স্বপ্ন একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় চান্স পাবার। এই ক্যাম্পাসের পরিবেশ অনেক মায়াবী যা আমাকে মুগ্ধ করেছে। ওরিয়েন্টেশনের দিনে আমাদের রেডিও ফ্রিকুয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন কার্ড দেওয়া হয়। এই আইডি কার্ড পেয়ে আমরা ২৩ বর্ষের শিক্ষার্থীরা অনেক প্রফুল্ল। এই ক্যাম্পাসে ভর্তি হতে পেরে মহান আল্লাহর নিকট অশেষ কৃতজ্ঞতা।
কৃষি অনুষদের ছাত্রী ইশরাত জাহান নিশি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় হলো এমন একটি প্রতিষ্ঠান যেখানে উচ্চশিক্ষা প্রদান করাসহ বিভিন্ন ধরনের গবেষণামূলক কার্যক্রম হয়ে থাকে। গুচ্ছভুক্ত অনেক বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও আমি এই বিশ্ববিদ্যালয়কে আমার চয়েস লিস্টের প্রথমেই রেখেছিলাম। স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়ার। কিন্তু সে স্বপ্ন পূরণে আমি ব্যর্থ হলেও থেমে যাইনি, নতুন করে পড়াশোনা শুরু করি। যেহেতু মেডিকেল প্রস্তুতি নিয়েছিলাম তাই বায়োলজিকাল সাবজেক্টে পড়ার ইচ্ছা ছিল। অবশেষে আমার এ স্বপ্ন পূরণ হয়, আলহামদুলিল্লাহ। আমি আমার পছন্দের বিশ্ববিদ্যালয় এবং বিষয় নিয়ে পড়ার সুযোগ পেয়েছি এর চেয়ে আনন্দের আর কি হতে পারে? লাল ইটের এ শহরের ক্ষুদ্র একক হতে পেরে নিজেকে সত্যিই ধন্য মনে হচ্ছে।
ডক্টর অব ভেটেরিনারি মেডিসিন (ডিভিএম) অনুষদের ছাত্রী যারীন তাসনীম বলেন, উচ্চমাধ্যমিক শেষে সব শিক্ষার্থীর মতো আমিও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম। আমি আগে থেকেই হাবিপ্রবি সম্পর্কে জেনেছিলাম; হাবিপ্রবির সৌন্দর্যের কথা, লাল ইটের দালানের কথা, এখানকার বন্ধুসুলভ শিক্ষকদের কথা শুনেছিলাম। আমাদের ওরিয়েন্টেশনে যখন ভিসি স্যার, প্রক্টর স্যার ও আমার অনুষদের শিক্ষকদের বক্তব্য শুনলাম তখন মনে হলো আমি শুধু শিক্ষক পাইনি বরং একটি পরিবার পেয়েছি।