জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫ © টিডিসি সম্পাদিত
দীর্ঘ ১১ বছর যাবৎ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত না হওয়ায় এবং দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। এ অবস্থায় আসন্ন জাতীয় বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ রাখার স্বার্থে ‘জাতীয় বেতন কমিশন-২০২৫’ এর চূড়ান্ত সুপারিশ দ্রুত প্রদানের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি।
মঙ্গলবার (১২ মে) সংগঠনটির আহ্বায়ক আব্দুল মালেক ও সদস্য সচিব আশিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আবেদন পত্রে এই দাবি জানানো হয়।
আবেদন পত্রে উল্লেখ করা হয়, ২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত ৯ম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ ও চিকিৎসা ব্যয় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন। অভাবের তাড়নায় অধিকাংশ কর্মচারী এখন ব্যাংক ঋণ ও প্রভিডেন্ট ফান্ডের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।
নেতৃবৃন্দ জানান, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৯ম পে-স্কেল নিয়ে নানা প্রচারণা চললেও সরকারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসেনি। এতে একদিকে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে, অন্যদিকে চাকরিজীবীদের মধ্যে বাড়ছে চরম উদ্বেগ। যদিও ২০১৫ সালের পে-স্কেলে দ্রব্যমূল্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে বেতন সমন্বয়ের কথা ছিল, বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।
এমতাবস্থায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে এবং আসন্ন জাতীয় বাজেটে অর্থের সংস্থান নিশ্চিত করতে সচিব পর্যায়ের সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাজেট অধিবেশন শুরুর আগেই পেশ করার জন্য বিনীত অনুরোধ জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় প্রশাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাসহ প্রতিটি ক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমান জীবনযাত্রার ব্যয়ের তুলনায় তাদের বর্তমান বেতন কাঠামো অত্যন্ত অপ্রতুল বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।