শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন © সংগৃহীত
শিক্ষকদের মাঝে যারা প্রশাসনে ভালো করছেন, তাদের নিয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চালাচ্ছি বলে জানিয়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেন, শিক্ষা ক্যাডার থেকে এ বছর সর্বাধিক ২৫ জন কর্মকর্তা প্রশাসন ক্যাডারে এসেছেন। এ ছাড়া মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমেও শিক্ষা ক্যাডারের দক্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
আজ রোববার (৮ নভেম্বর) ৪৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডার কর্মকর্তাদের ওরিয়েন্টেশন প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
ৃবলেন, আপনারা শিক্ষা প্রশাসনে এসেছেন। স্বেচ্ছায় এই জায়গায় এসেছেন শিক্ষকতা করার জন্য। আগামী দিনে আপনাদের প্রশাসনিক দায়িত্বও নিতে হবে। আপনারা দেখেছেন, এ বছর আপনাদের বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার থেকে সর্বাধিক ২৫ জন বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে এসেছেন। তাছাড়া আমাদের মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন কার্যক্রমে আপনাদের মধ্য থেকে যারা প্রশাসনিক কাজে ভালো করছেন, তাদের নিয়েই আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করছি।
তিনি বলেন, আমরা চাই, সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে আগামী দিনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিচালনা করতে। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে যে আকাঙ্ক্ষা রয়েছে, তার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আমরা এ বছর সর্বাধিক বাজেট পেয়েছি। পাশাপাশি সবাই নতুন পে-স্কেল পেয়েছি। অর্থাৎ আমাদের শিক্ষকরা যে জায়গাটিতে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন, আমাদের এমপিওভুক্ত শিক্ষকসহ সবাই মিলে একই পে-স্কেল পেতে যাচ্ছি। শিক্ষার সার্বিক উন্নয়নে আমরা সবাই মিলে কাজ করব।
ভবিষ্যৎ শিক্ষাব্যবস্থাকে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামী দিনের শিক্ষা ব্যবস্থা একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ আমাদের মোকাবিলা করতে হবে। আমরা গ্লোবাল ভিলেজে বাস করছি। প্রতিনিয়ত আমাদের আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।
গবেষণায় বাংলাদেশের অগ্রগতির প্রসঙ্গ তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, আপনারা দেখেছেন, ইতিমধ্যে স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় বাংলাদেশ থেকে ৩৪৭ জন স্থান পেয়েছেন। এই বিজ্ঞানীদের নিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে একটি অনুষ্ঠানের কথা চিন্তা করছি।
তিনি বলেন, যাদের লেখা, গবেষণা ও রিসার্চ পেপার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে স্বীকৃতি পেয়েছে, তাদের নিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। তবে দুঃখজনকভাবে একটি বিশেষ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম উল্লেখ না করেই বলছি, তারা এসব গবেষণার ক্ষেত্রে অনেকটা প্লেজারিজমও করেছে। আমরা এ ধরনের চর্চা চাই না। শিক্ষা ব্যবস্থায় আপনারা সবাই গবেষণা করবেন, এটাই আমি চাই।
শিক্ষকদের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, আমি চাই, আপনারা কিছুদিন শিক্ষকতা করার পর সবাই গবেষণায় যুক্ত হবেন। এটি অত্যন্ত জরুরি। তবে এখনই নয়, আপনাদের লেকচারারশিপ শেষ করার পর যখন অধ্যাপক হবেন, তখন ধারাবাহিকভাবে সবাই গবেষণায় যুক্ত হবেন। কারণ, আপনারাই ভবিষ্যতে শিক্ষক হবেন।