ভুয়া গেজে ও সরকারি লোগো © টিডিসি সম্পাদিত
বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক একটি গেজেট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। ছড়ানো গেজেট ভুয়া বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেল থেকে ফেসবুকের একাধিক শিক্ষকদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপনের ভুয়া গেজেটটি ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই গেজেটটিকে আসল ভেবে ‘আলহামদুলিল্লাহ’-ও লিখেছেন। তবে ছড়িয়ে পড়া গেজেটটি ২০১৫ সালের বলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন। আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই-এর মাধ্যমে পুরোনো গেজেটটি এডিট করে নতুন বলে দাবি করা হচ্ছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘যে গেজেটটি ছড়ানো হয়েছে সেটি ভুয়া। গেজেটে যে যুগ্মসচিবের স্বাক্ষর রয়েছে ওই নামে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কোনো যুগ্মসচিব বর্তমানে নেই।’
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক গেজেট জারি নিয়ে কোনো ‘ভালো’ খবর দিতে পারছে না শিক্ষা মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারা অর্থ বিভাগের সাথে মৌখিক পরীক্ষা বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেও কোন প্রক্রিয়ায় গেজেট জারি হবে সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য জানাতে পারেনি শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের পৃথক পে-স্কেল জারি করতে হলে তিনটি অধিদপ্তরের অধীন কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীদের জন্য কত টাকা লাগবে সেই হিসেব করতে হবে। হিসেব শেষে সেটি অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। এরপর অর্থ মন্ত্রণালয়ের সম্মতি সংক্রান্ত চিঠি দেবে। চিঠি পাওয়ার পর শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। এটি আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া।
সূত্রের দাবি, ক্ষেত্র বিশেষে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার বাইরে গিয়েও পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা যায়। তবে এর জন্যও অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক ভাবে সম্মতি দিয়ে চিঠি দিতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি না দেওয়া পর্যন্ত এমপিওভুক্ত জনবলকে নবম পে-স্কেলে অন্তর্ভুক্ত করে পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা সম্ভব হবে না।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মন্ত্রণালয়ের উচ্চপর্যায়ের এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের পে-স্কেলের পৃথক প্রজ্ঞাপনের বিষয়ে উচ্চ পর্যায় থেকে এখনো কোনো নির্দেশনা পাইনি। পৃথক প্রজ্ঞাপন কীভাবে জারি হবে সে বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।’
নতুন পে-স্কেলে নিজের বেতন বৃদ্ধির হিসাব করবেন যেভাবে
নতুন জাতীয় বেতন স্কেল অনুযায়ী সরকারি চাকরিজীবীদের মূল বেতন কীভাবে নির্ধারিত হবে, তা নিয়ে অনেকের মধ্যেই হিসাব-নিকাশ চলছে। নতুন বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূলত একজন কর্মচারীর ৩০ জুনের মূল বেতন, বর্তমান গ্রেড এবং নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের নির্ধারিত স্কেলের তথ্যগুলো প্রয়োজন হবে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রজ্ঞাপনে বেতন নির্ধারণের জন্য দুটি পদ্ধতির কথা বলা হয়েছে। পুরোনো বেতন স্কেলের একেবারে শুরুতে থাকা কর্মচারীদের ক্ষেত্রে হিসাব অপেক্ষাকৃত সহজ। আর যারা স্কেলের মাঝামাঝি বা ওপরের কোনো ধাপে বেতন পাচ্ছেন, তাদের ক্ষেত্রে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান বেতনের ব্যবধান হিসাব করে নতুন স্কেলে তা সমন্বয় করতে হবে।
স্কেলের শুরুতে থাকা কর্মচারীদের বেতন যেভাবে নির্ধারিত হবে
কোনো কর্মচারী যদি ৩০ জুন পর্যন্ত তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন বা প্রারম্ভিক ধাপে বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন বেতন কাঠামোয় সংশ্লিষ্ট গ্রেডের প্রারম্ভিক ধাপেই তার বেতন নির্ধারণ করা হবে।
ধরা যাক, ১৬তম গ্রেডের একজন কর্মচারী ৯ হাজার ৩০০ থেকে ২২ হাজার ৪৯০ টাকা বেতন স্কেলের শুরুতে ৯ হাজার ৩০০ টাকা মূল বেতন পেতেন। নতুন বেতন কাঠামোয় ১৬তম গ্রেডের স্কেল যদি ২১ হাজার ৯০০ থেকে ৫২ হাজার ৯০০ টাকা নির্ধারিত হয়, তাহলে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতন হবে ২১ হাজার ৯০০ টাকা।
অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপে থাকা কর্মচারীর ক্ষেত্রে পুরোনো বেতন ও নতুন বেতন স্কেলের শুরুর ধাপের মধ্যে সরাসরি সমন্বয় করা হবে।
স্কেলের মাঝামাঝি ধাপে থাকা কর্মচারীদের হিসাব
কোনো কর্মচারী যদি তার বর্তমান বেতন স্কেলের সর্বনিম্ন ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেয়ে থাকেন, তাহলে নতুন বেতন নির্ধারণের জন্য প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক বেতন এবং তার বর্তমান মূল বেতনের মধ্যে ব্যবধান বের করতে হবে।
এরপর সেই ব্যবধান নতুন জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ তার জন্য নির্ধারিত সংশ্লিষ্ট স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে। হিসাবের পর পাওয়া অর্থ যদি নতুন স্কেলের কোনো নির্ধারিত ধাপের সঙ্গে মিলে যায়, তাহলে সেই ধাপেই নতুন মূল বেতন নির্ধারিত হবে। আর হিসাবের অঙ্কটি যদি কোনো নির্ধারিত ধাপে না মেলে, তাহলে তার চেয়ে পরবর্তী উচ্চতর ধাপটি নিতে হবে।
ধরা যাক, ৩০ জুন পর্যন্ত একজন কর্মচারীর ইনক্রিমেন্টসহ মূল বেতন ছিল ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা। তার পুরোনো বেতন স্কেল ছিল ১২ হাজার ৫০০ থেকে শুরু হয়ে ১৩ হাজার ১৩০, ১৩ হাজার ৭৯০ টাকা এবং পরবর্তী ধাপগুলোতে বৃদ্ধি পেয়ে সর্বোচ্চ ৩০ হাজার ২৩০ টাকা পর্যন্ত।
নতুন বেতন কাঠামোয় তার সংশ্লিষ্ট স্কেল ধরা হলো ২৫ হাজার থেকে শুরু হয়ে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা, পরবর্তী ধাপগুলো অতিক্রম করে সর্বোচ্চ ৬০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত।
এখন প্রথমে পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপ থেকে তার বর্তমান মূল বেতনের পার্থক্য বের করতে হবে।
১৩,৭৯০ - ১২,৫০০ = ১,২৯০ টাকা।
অর্থাৎ পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে তার বর্তমান বেতন ১ হাজার ২৯০ টাকা বেশি।
এবার এই ব্যবধান নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক বেতনের সঙ্গে যোগ করতে হবে।
২৫,০০০ + ১,২৯০ = ২৬,২৯০ টাকা।
কিন্তু নতুন বেতন স্কেলে ২৬ হাজার ২৯০ টাকা নামে কোনো নির্ধারিত ধাপ নেই। সে ক্ষেত্রে কর্মচারীর বেতন ঠিক ২৬ হাজার ২৯০ টাকা করা হবে না; বরং এর পরের উচ্চতর নির্ধারিত ধাপে বেতন নির্ধারণ করা হবে। অর্থাৎ তার নতুন মূল বেতন হবে ২৬ হাজার ৩০০ টাকা।
নিজের নতুন বেতন জানতে যে তথ্যগুলো লাগবে
একজন চাকরিজীবী নিজের নতুন মূল বেতন হিসাব করতে চাইলে প্রথমে তিনটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে। সেগুলো হলো- ৩০ জুন তার মূল বেতন কত ছিল; তিনি কোন গ্রেডে কর্মরত ছিলেন এবং জাতীয় বেতন স্কেল-২০২৬-এ তার গ্রেডের জন্য নির্ধারিত নতুন বেতন স্কেল কত।
এরপর দেখতে হবে তিনি পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপে ছিলেন কি না। থাকলে নতুন স্কেলের প্রারম্ভিক ধাপই হবে তার নতুন মূল বেতন। আর প্রারম্ভিক ধাপের চেয়ে বেশি বেতন পেলে পুরোনো স্কেলের শুরু থেকে বর্তমান বেতনের ব্যবধান বের করে সেটি নতুন স্কেলের শুরুতে যোগ করতে হবে। পাওয়া অঙ্কটি নির্ধারিত কোনো ধাপে না থাকলে পরবর্তী উচ্চতর ধাপ গ্রহণ করতে হবে।