বছরের প্রথম দিন নতুন পাঠ্যপুস্তক পেয়ে শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বাস © ফাইল ছবি
যথাসময়ে আগামী বছরের প্রথমদিন অনুষ্ঠিত হবে ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’। আগামী ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ওইদিনে ২০১৯ এ উৎসব পালনে অনিশ্চয়তা দেখা দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত দিনই উৎসব পালন করা হবে। তবে এক সপ্তাহ আগে এ উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে। আগামী ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন।
এ উৎসবে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ শিক্ষার্থীকে বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
জানা গেছে, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ, শতভাগ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আনা, দরিদ্র-নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার আওতায় আনতে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ্যপস্তক নিশ্চিত করতে বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ পালনের উদ্যোগ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিবছর ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ পালন করে আসছে সরকার। ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ২৬০ কোটি ৮৬ লাখ ৯১ হাজার ২৯০ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। সর্বশেষ, ২০১৮ সালের ১ জানুয়ারি ৪ কোটি ৪২ লাখ ৪ হাজার ১৯৭ শিক্ষার্থীর হাতে তুলে দেওয়া হয় বিনামূল্যে ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি নতুন বই।
রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রতিবছর ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এরপর ১ জানুয়ারি দেশব্যাপী বই উৎসব পালন করা হয়। বছরের প্রথম দিন দুই মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই উৎসবের সূচনা করেন। তবে এ বছর ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের কারণে ১ জানুয়ারি পাঠ্যপুস্তক উৎসব পালনে অনিশ্চয়তা দেখা দেয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বছরের প্রথম দিনই সারাদেশে একযোগে এ উৎসব পালনের প্রস্তুতি নিয়ে প্রস্তাব দেওয়া হয় প্রধানমন্ত্রীকে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী ২৪ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ১ জানুয়ারি সারাদেশে এ উৎসব পালনের সম্মতি দেন।
রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রতিবছর ১ জানুয়ারি রাজধানীতে আলাদা আলাদভাবে প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিক এবং মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসবে’র উদ্বোধন করা হয়। প্রাক-প্রাথমিক ও প্রাথমিকের অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী এবং ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুষ্ঠানে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী উপস্থিত থেকে এ উৎসবের উদ্বোধন করেন। তবে এবার নির্বাচনের কারণে এ দুই অনুষ্ঠানে মন্ত্রীরা উপস্থিত থাকতে না পারলেও সচিবরা এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, এবার প্রাক-প্রাথমিকের জন্য ৬৮ লাখ ৫৬ হাজার ২০ কপি, প্রাথমিকের জন্য ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৮২ হাজার ৮৯৯ কপি, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষায় ২ লাখ ৭৬ হাজার ৭৮৪ কপি, ইবতেদায়ীর জন্য ২ কোটি ২৫ লাখ ৩১ হাজার ২৮৩ কপি, দাখিল মাদ্রাসার জন্য ৩ কোটি ৭৯ লাখ ৫৮ হাজার ৫৩৪ কপি, মাধ্যমিক (বাংলা ভার্সন) ১৮ কোটি ৫৩ হাজার ১২২ কপি, ইংরেজি ভার্সনের ১২ লাখ ৪৭ হাজার ৮২৬ কপি, কারিগরির শিক্ষার্থীদের জন্য ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৯৪৮ কপি, এসএসসি ভোকেশনালের জন্য ১ লাখ ৪৩ হাজার ৮৭৫ কপি, ব্রেইল বই ৫ হাজার ৮৫৭ কপি ও সম্পূরক কৃষির জন্য (ষষ্ঠ থেকে নবম) ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬১ কপি বই ছাপা হচ্ছে।
তবে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান প্রফেসর নারায়ণ চন্দ্র সাহা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, অাগামী বছর ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ কপি পাঠ্যপুস্তক ছাপানো হয়েছে। ইতিমধ্যে এসব পাঠ্যপুস্তক দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পৌঁছে গেছে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২ কপি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-প্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আফরাজুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়াতে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যপুস্তক উদ্বোধনের সময় একটু এগিয়ে আসবে। তবে পাঠ্যপুস্তক উৎসব আগের মতোই হবে। নির্বাচনের কারণে এ উৎসবে মন্ত্রী অংশ নিতে না পারলেও সচিব উপস্থিত থাকবেন।
তিনি বলেন, আগামী ২৪ ডিসেম্বর সকালে গণভবনে চলতি বছরের জেএসসি-জেডিসি এবং সমাপনীর ফলাফল হস্তনান্তর অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যপুস্তক উদ্বোধনের সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওইদিনই আগামী বছরের আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠ্যপুস্তক উদ্বোধন করা হবে।