করোনা সংকট

বোর্ড পরীক্ষা হবে না, বার্ষিক পরীক্ষাও কি বাতিল?

২৮ আগস্ট ২০২০, ০৪:১৯ PM

© প্রতীকী ছবি

প্রাণঘাতী নভেল করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের মধ্যে চলতি বছরের প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষা হচ্ছে না। বার্ষিক পরীক্ষা নাকি অটো পাসের মাধ্যমে এসব শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ করা যায়, সে চিন্তাভাবনা করছে শিক্ষার দায়িত্বে থাকা সরকারের দুই মন্ত্রণালয়।

জানা গেছে, চলতি শিক্ষাবর্ষ দীর্ঘ না করে বছরের মধ্যেই শিক্ষার্থীদের শ্রেণিভিত্তিক লেখাপড়া শেষ করার চিন্তাভাবনা চলছে। সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া সম্ভব হলে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে ডিসেম্বরে বার্ষিক পরীক্ষা নেয়া হবে।

আর ডিসেম্বরের মধ্যে তা সম্ভব না হলে শিক্ষার্থীদের পরবর্তী শ্রেণিতে অটো পাস দিয়ে তুলে দেয়া হবে। এই উভয় ক্ষেত্রেই পাঠ্যবই বা সিলেবাসের যে অংশটুকু পড়ানো সম্ভব হবে না তার অত্যাবশ্যকীয় পাঠ পরের শ্রেণিতে দেয়া হবে।

এজন্য জাতীয় পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) ‘কারিকুলাম ম্যাপিং’ করে দেবে। এ লক্ষ্যে এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞরা কাজ করছে। এছাড়া জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমিও (নেপ) কাজ করছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, করোনা মহামারীর মধ্যে পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা না নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তবে অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরবর্তী ক্লাসে উত্তীর্ণ হওয়ার ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে, সে বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে।

এর আগে মহামারীর মধ্যে এবার কেন্দ্রীয়ভাবে পিইসি পরীক্ষা না নিয়ে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা নেওয়া হবে বলে জানায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়।

এ ব্যপারে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জাকির হোসেন বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে পিইসি পরীক্ষা গ্রহণ না করার বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী সম্মতি দিয়েছেন। অতএব আমরা পিইসি পরীক্ষা নিচ্ছি না। তবে সমাপনী পরীক্ষা না হলেও বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

কী উপায়ে পরীক্ষা নেয়া হবে, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, পরীক্ষা পদ্ধতি কেমন হবে সে সিদ্ধান্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা গ্রহণ করবেন।

এনসিটিবির সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, ডিসেম্বরে বর্তমান শিক্ষাবর্ষ শেষ করে দেয়ার পরিকল্পনা তৈরির জন্য ক্লাস রুম শিক্ষক ও কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের নিয়ে আমরা বসতে যাচ্ছি। নভেম্বরের মধ্যে খুলতে পারলে সিলেবাসের কতটুকু পড়াতে হবে, কিভাবে পড়াতে হবে, পরীক্ষা কী করে নেয়া হবে- এসবই নির্ধারণ করা হবে। সিলেবাস সংক্ষেপের কারণে আগামী বছরের জন্য নতুন পাঠ পরিকল্পনা করা হবে।

করোনা সংক্রমণের মধ্যে গত ১৬ মার্চ সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার বন্ধের ঘোষণা করা হয়। এরপর ১৭ মার্চ থেকেই বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। কয়েক দফায় এ ছুটি বাড়ানোর পর সর্বশেষ আগামী ৩ অক্টোবর পর্যন্ত সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

এদিকে, মহামারী এই ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের আগেই চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষা হয়ে যাওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় ফল ঘোষণা করে এখন অনলাইনে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রম চলছে। এছাড়া স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় টেলিভিশন ও অনলাইনে ক্লাস নেওয়ার ব্যবস্থা হয়েছে। যদিও নানা সমীক্ষায় উঠে এসেছে, শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ এখনো দূর শিক্ষণ কার্যক্রমের বাইরে রয়ে গেছে।

পদত্যাগপত্র জমা দিলেন জাকসু নেতা জিসান
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
চুয়াডাঙ্গা সীমান্ত দিয়ে তিনজনকে বিএসএফের পুশইনের চেষ্টা, বি…
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
জামায়াত-এনসিপি জোটের রাষ্ট্রপতি প্রার্থী কর্ণেল অলি আহমদ
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
মুস্তাফিজকে নিয়ে দুবাই ক্যাপিটালসের রহস্যময় পোস্ট
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে বিভিন্ন গ্রেডে ২৩ পদে চাকরি, আবেদ…
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬
মায়ের সঙ্গে অভিমান করে রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায় কিশোর, সকা…
  • ০৯ আগস্ট ২০২৬