প্রতিকূল সময়েই বঙ্গবন্ধুর নামে বিদ্যাপীঠ গড়েন আব্দুল হক

০৪ মার্চ ২০২০, ১০:৩৬ AM

© টিডিসি ফটো

বঙ্গবন্ধুর প্রতি ভালোবাসার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার লংগাইর ইউনিয়নের চাইরবাড়িয়া গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক আব্দুল হক (৭২)। ২০০৭ সালে জটিল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতেও তিনি নিয়েছিলেন এক সাহসী সিদ্ধান্ত। বিরূপ পরিবেশে তিনি নিজ এলাকায় বঙ্গবন্ধুর নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ শুরু করেছিলেন। প্রতিষ্ঠানের নাম দিয়েছিলেন ‘দ্য ফাদার অব দ্য নেশন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেমোরিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ’। তখন তাঁর পদক্ষেপে বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন আওয়ামী লীগেরই অনেক নেতাকর্মী।

আব্দুল হকের স্বপ্নের সেই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠদান শুরু হয় ২০১৭ সালের জানুয়ারিতে। গত জানুয়ারি মাসে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির বৈশিষ্ট্য হলো বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ—এসব বিষয়ে সময় পেলেই শিক্ষার্থীদের ধারণা দেন শিক্ষকরা। ঐতিহাসিক ৭ই মার্চকে স্মরণীয় করে রাখতে এ প্রতিষ্ঠানের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয় প্রতিবছরের ৭ মার্চ।

download

আব্দুল হক বলেন, ব্যক্তিগত একটি কাজে ২০০৭ সালের ১৬ জুলাই ভোরে বাড়ি থেকে বেরিয়ে ট্রেনে ময়মনসিংহে যাওয়ার উদ্দেশে গফরগাঁও রেলস্টেশনে গিয়ে চা-নাশতা খাওয়ার জন্য স্টেশনের পাশে একটি হোটেলে ঢোকেন। ওই সময় টিভিতে দেখাচ্ছিল বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা গ্রেপ্তার হওয়ার খবর। চা স্টলে থাকা কেউ কেউ তখন বলছিল, এবার আওয়াম লীগ শেষ। দেশে আর আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা বলে কিছু থাকবে না। এসব কথা শুনে চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বাড়ির পথ ধরেন আব্দুল হক। মনে মনে ভাবেন, বঙ্গবন্ধুর স্মৃতি কিভাবে বিলীন হয় তা তিনি দেখবেন। তিনি নিজেই বঙ্গবন্ধুর নামে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়বেন। এরপর ২০০৭ সালের ১৫ আগস্ট তিনি গফরগাঁও সোনালী ব্যাংকে প্রস্তাবিত প্রতিষ্ঠানের নামে টাকা জমা দিতে যান। পাঁচ হাজার ১০০ টাকা জমা দেওয়ার সময় ব্যাংকের ম্যানেজারসহ অন্য লোকজন তাঁকে নানা কথা বলেন। কেউ কেউ নিরুৎসাহিত করেন। কিন্তু তিনি শেষ পর্যন্ত টাকা জমা দিয়ে বাড়িতে ফেরেন। বঙ্গবন্ধুর নামে স্কুল ও কলেজ গড়ার কথা তিনি স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের জানান। তখন অনেকেই তাঁকে এড়িয়ে চলেন। কেউ কেউ ভয়ের কথাও বলেন। ২০০৭ সালের ২১ আগস্ট তিনি ঢাকাতে শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপ দেখান। বোর্ডের কর্মকর্তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নাম দেখে ভড়কে যান। সেখানেও তিনি কিছুটা বিরূপ পরিবেশের মুখোমুখি হন। বোর্ডের কর্মকর্তারা বিষয়টি নিষ্পত্তিতে একটু সময় চান। পরে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বোর্ড কর্তৃপক্ষ কথা বলে কাগজপত্র জমা রাখে।

বঙ্গবন্ধুর নামে গড়া প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে আব্দুল হক বলেন, এখানে বিশেষ দিনে নয়, পড়াশোনার মাঝেই শিক্ষার্থীদের মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু, শেখ হাসিনা সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। ক্লাস শুরু হওয়ার আগে অ্যাসেম্বলিতে প্রচলিত শপথবাক্যের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারণ করার শপথও নেয় শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়া ঐতিহাসিক ৭ই মার্চকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য প্রতিবছর ওই দিন বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

গফরগাঁওয়ের সংসদ সদস্য ফাহমী গোলন্দাজ বাবেল বলেন, প্রতিষ্ঠানটি এ অঞ্চলে শিক্ষার প্রসারে ভূমিকা রাখবে। তিনি প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানান।

আব্দুল হক সম্পর্কে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসেন বাবুল বলেন, ‘হক স্যার একজন ব্যতিক্রমী মুজিবভক্ত। রাজনৈতিক প্রতিকূল পরিবেশে তিনি বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে প্রতিষ্ঠান গড়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি নিজের সর্বস্ব দিয়ে চেষ্টা করেছেন প্রতিষ্ঠানটিকে দাঁড় করানোর জন্য।’

সাবেক স্কুল শিক্ষক আব্দুল হকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ছাত্রাবস্থা থেকেই তিনি আওয়ামী লীগের সমর্থক। ১৯৬৪ সালে এসএসসি পাস করেন। গফরগাঁও উপজেলার মাঝে মশাখালী, লংগাইর এলাকায় আওয়ামী লীগের অনেক পুরনো নেতা ছিলেন। স্বাধীনতার আগে ট্রেনযোগে যাতায়াতকালে বঙ্গবন্ধু মশাখালী রেলস্টেশনে বক্তব্য দিয়েছিলেন। আব্দুল হক তখন স্নাতক শ্রেণিতে পড়তেন। মশাখালী রেলস্টেশনের সেই সমাবেশে তিনিও ছিলেন শ্রোতা। বঙ্গবন্ধুর সেই স্মৃতি সব সময় তিনি মনে ধরে রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধকালে তাঁদের বাড়িতে রেডিও ছিল। সেই রেডিও শুনতে ভিড় করত গ্রামের মানুষজন। তথ্য দিয়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের সহায়তা করেছেন। যুদ্ধ শেষে শিক্ষকতা পেশায় জড়িত হন। ২০০৮ সালে শ্রীপুরের বৈরাগীর চালা হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক থাকাবস্থায় তিনি অবসরে যান।

সূত্র: কালের কন্ঠ

এবার দুদকের জালে সাংবাদিক আনিস আলমগীর, আরেক মামলায় গ্রেফতার…
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
ধানের শীষের বিপক্ষে প্রচারণা, ছাত্রদলের ৮ নেতা বহিষ্কার
  • ২৮ জানুয়ারি ২০২৬
‘ছাত্রশিবির জেগে উঠলে পালানোর জায়গা পর্যন্ত পাবেন না’
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
ভোটের আগেই পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হলেন ১১৮ কর্মকর্তা, …
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
সমাবর্তনের সামনে শিক্ষার্থীরা, পেছনে শিক্ষকরা— প্রশংসায় ভাস…
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬
জামায়াত নেতার গলা টিপে শূন্যে তোলা বিএনপির প্রার্থীর ছেলেকে…
  • ২৭ জানুয়ারি ২০২৬