বিনামূল্যে ৩৫ কোটি বই বিতরণ
১০ বছরে বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণের তালিকা © টিডিসি ফটো
নতুন বইয়ের ঘ্রাণ মিলবে আজ মঙ্গলবার| ৩৫ কোটিরও বেশি ক্ষুদে শিক্ষার্থী নতুন বইয়ের ঘ্রাণ শুকবে বছরের প্রথম দিন। সারা দেশের বিদ্যালয়গুলোতে বই উৎসবে মাতবে শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর হাতে এবার ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২ বই ও শিক্ষা উপকরণ বিতরণ করা হবে। এ যেন নতুন বছরে দেশের কোমলমতি শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে দামি উপহার।
টানা দশমবারের মত প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সব শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণে সব প্রস্তুতি এরই মধ্যে শেষ করেছে সরকার। গত ২৪ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে কয়েকজন শিক্ষার্থীর হাতে নতুন বই তুলে দিয়ে ২০১৯ সালের বিনামূল্যে পাঠ্যপুস্তক বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মাধ্যমিক স্তরের কেন্দ্রীয় বই বিতরণ উৎসব অনুষ্ঠান হবে রাজধানীর আজিমপুর সরকারি বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় এই উৎসবের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, প্রাথমিক স্তরের বই উৎসবের কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় এই উৎসবের উদ্বোধন করার কথা প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমানের। দুইজনই রবিবারের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।
সোমবার বিকেলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা রবীন্দ্রনাথ রায় দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, প্রতি বছরের ন্যায় আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে প্রাথমিক স্তরের বই উৎসবের কেন্দ্রীয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করবেন।
তিনি জানান, সারাদেশে এবার প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ২ কোটি ৫ লাখ ৩৭ হাজার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে ৯ কোটি ৮৮ লাখ ৯৯ হাজার ৮৪০টি পাঠ্যবই এবং পঠন-পাঠন সামগ্রী বিতরণ করা হবে। এর মধ্যে প্রাক-প্রাথমিকের ৪৪ লাখ ২৮ হাজার ১০টি আমার বই এবং সমান সংখ্যক অনুশীলন খাতা দেয়া হবে।
সোমবার বিকেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপপ্রধান তথ্য অফিসার মোহাম্মদ আফরাজুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এ বছর প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হবে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি নতুন বই। এর মধ্যে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ব্রেইল বই এবং ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী জাতির শিশুদের তাদের নিজস্ব ভাষার বই দেয়া হবে।
তিনি বলেন, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টায় আজিমপুর গভর্নমেন্ট গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে কেন্দ্রীয়ভাবে এ উৎসবের উদ্বোধন করবেন শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ। উৎসবে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।
জানা গেছে, শিক্ষার্থী ঝরে পড়া রোধ, শতভাগ শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ে আনা, দরিদ্র-নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার আওতায় আনতে বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে প্রাক-প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের সব পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে দেয়ার উদ্যোগ নেয়। পাশাপাশি সকল শিক্ষার্থীর জন্য পাঠ্যপস্তক নিশ্চিত করতে বছরের শুরুতে ১ জানুয়ারি ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ পালনের উদ্যোগ নেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি থেকে প্রতিবছর ‘পাঠ্যপুস্তক উৎসব’ পালন করে আসছে সরকার। ২০১০ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত সর্বমোট ২৬০ কোটি ৮৬ লাখ ৯১ হাজার ২৯০ কপি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়।
এদিকে, আগামীকাল বছরের প্রথমদিন ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ শিক্ষার্থীর হাতে বিনামূল্যে তুলে দেওয়া হবে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি নতুন বই।
রেওয়াজ অনুযায়ী, প্রতিবছর ৩০ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বই উৎসবের উদ্বোধন করেন। এরপর ১ জানুয়ারি দেশব্যাপী বই উৎসব পালন করা হয়। বছরের প্রথম দিন দুই মন্ত্রণালয়ের দুই মন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে এই উৎসবের সূচনা করেন। তবে এ বছর ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এক সপ্তাহ এগিয়ে ২৪ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বই উৎসবের উদ্বোধন করেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশে বিনামূল্যে ২০১০ সালে বই ও শিক্ষা উপকরণের সংখ্যা ছিল ১৯ কোটি ৯০ লাখ ৯৬ হাজার ৫৬১টি, ২০১১ সালে ২৩ কোটি ২২ লাখ ২১ হাজার ২৩৪টি, ২০১২ সালে ২২ কোটি ১৩ লাখ ৬৬ হাজার ৩৮৩টি, ২০১৩ সালে ২৬ কোটি ১৮ লাখ ৯ হাজার ১০৬টি, ২০১৪ সালে ৩১ কোটি ৭৭ লাখ ২৫ হাজার ৫২৬টি, ২০১৫ সালে ৩২ কোটি ৬৩ লাখ ৪৭ হাজার ৯২৩টি, ২০১৬ সালে ৩৩ কোটি ৩৭ লাখ ৬২ হাজার ৭৭২টি, ২০১৭ সালে ছিল ৩৬ কোটি ২১ লাখ ৮২ হাজার ২৪৫টি এবং ২০১৮ সালে ছিল ৩৫ কোটি ৪২ লাখ ৯০ হাজার ১৬২টি। সব মিলেয়ে বিনামূল্যে ৯ বছরে মোট ২৬০ কোটি ৮৮ লাখ ১ হাজার ৯১২টি বই বিতরণ করেছে সরকার।