চলতি বছরের এসএসসির খাতা ও বাংলাদেশি টাকা © টিডিসি সম্পাদিত
পুনর্নিরীক্ষণসহ চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত প্রকাশ হলেও এখনও খাতা দেখার সম্মানী পাননি পরীক্ষকরা। আগামী নভেম্বর মাসের শেষ দিকে তাদের এই সম্মানী দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান।
সোমবার (১৮ অক্টোবর) দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে তিনি বলেন, ‘আজ এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার প্রশ্নপত্র যারা তৈরি করেছেন, তাদের সম্মানী ছাড় দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, তারা আগামী সপ্তাহে না হলেও পরের সপ্তাহে তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হয়ে যাবে। এরপরই যারা খাতা দেখেছেন, তাদের সম্মানীটা ছাড় দেওয়া হবে। সে হিসেবে আশা করছি নভেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহে টাকা পাবেন তারা।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খাতা প্রতি ৪৫ টাকা করে সম্মানী পাবেন পরীক্ষকরা। আর পুনর্নিরীক্ষণের জন্য খাতা প্রতি ১২ টাকা নির্ধারণ করা হলেও এবার তা বাড়তে পারে। কারণ হিসেবে বোর্ড বলছে, যেহেতু খাতাগুলো মূল্যায়ন করা হয়েছে, তাই সম্মানীটাও বাড়ানো হবে।
যেসব পরীক্ষক খাতা দেখেছেন ও মূল্যায়ন করেছেন সবাই একসঙ্গে নিজ নিজ ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা পাবেন। পাশাপাশি মূল্যায়নের খাতা যেসব শিক্ষকরা দেখেছেন, তাদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বোর্ড থেকে কত দূরে সে অনুযায়ী যাতায়াত ভাতাও পাবেন বলে জানা গেছে। এ ভাতাটি শিক্ষকভেদে ভিন্ন হতে পারে।
জানা গেছে, চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২১ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে চলে ২০ মে পর্যন্ত। আর ফল প্রকাশ হয় ১০ আগস্ট। এ বছর গড় পাসের হার ৬৪.০৫ শতাংশ। ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে পাস করেছে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পরে খাতা চ্যালেঞ্জের জন্য গত ১১ আগস্ট শুরু হয়ে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করার সুযোগ ছিল। এতে মোট ৪ লাখ ২ হাজার ৫১ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করে। তাদের মধ্যে ৩০ হাজারের বেশি জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীও ছিল।
একজন শিক্ষার্থী একাধিক বিষয়ের উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করতে পারেন। তাই পরীক্ষার্থীর তুলনায় পুনঃনিরীক্ষণের জন্য আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি। সব মিলিয়ে লিখিত পরীক্ষার ১০ লাখ ৫৬ হাজার ৪৫৫টি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার ২ লাখ ৩১ হাজার ৪৭১টি উত্তরপত্র পুনঃনিরীক্ষণের আবেদন করা হয়। অর্থাৎ মোট আবেদন করা উত্তরপত্রের সংখ্যা ১২ লাখ ৮৭ হাজার ৯২৬টি।
পরে গত বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) পুনঃনিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়। এতে ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাশ করেছে। এ ছাড়া নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৭৯ জন। গ্রেড পরিবর্তন ২৭ হাজার ৮৩৬ জন; নম্বর পরিবর্তন ৫৬ হাজার ২৫৯ জন।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পুনর্নিরীক্ষণে প্রায় ১৩ লাখ খাতার আবেদনে বোর্ডগুলো আয় করেছে ১৯ কোটি ৩১ লাখ ৮৮ হাজার ৯০০ টাকা। পুনর্নিরীক্ষণে আগে খাতাপ্রতি ফি ছিল ১২৫ টাকা। তখন পরীক্ষক বা শিক্ষককে দেওয়া হতো খাতাপ্রতি ৭ টাকা। এখন ফি বাড়িয়ে ১৫০ টাকা করা হলেও ১২ টাকা দেওয়ার প্রাথমিক চিন্তাভাবনা থাকলেও তা বাড়াতে পারে বলে জানা গেছে।