ঈদ কার্ড © ফাইল ফটো
পবিত্র ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, নববর্ষসহ উৎসবের দিনগুলোতে কার্ড বিতরণের রীতি বহু পুরনো। তবে এখন নানান দিবসে ডিজিটাল কার্ডের মাধ্যমেই শুভেচ্ছা বিনিময় করেন মানুষ। ঈদকে কেন্দ্র করে নেই সেই ‘ঈদ কার্ড’ বিতরণের চিরায়িত রীতি। ফলে প্রযুক্তির যুগে হারিয়ে যাচ্ছে ছাপা কার্ডে শুভেচ্ছা বিনিময়ের প্রচলন।
তথ্যমতে, ২০১৫-১৬ সালের দিকেও ছাপা কার্ড বিতরণের হিরিক থাকলেও এখন প্রযুক্তির যুগে এসে ছাপা কার্ড বিতরণে আগ্রহ হারিয়েছে মানুষ। এখন ডিজিটাল মাধ্যমে কার্ড বানিয়ে ই-মেইল কিংবা ফেসবুকে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন মানুষ। ফলে ঈদ কার্ডের মাধ্যমে দাওয়াত দেওয়ার যে কালচার সেটি হারিয়ে যাচ্ছে।
শৈশবে বন্ধু-বান্ধবকে একটা ঈদ কার্ড দেওয়ার পেছনে অনেক গল্প থাকত। কার্ড কেনার জন্য বাসা থেকে আলাদা টাকা নেওয়া হতো। বিভিন্নভাবে জমানো টাকা দিয়েই কেনা হতো কার্ড। কেনার পর বন্ধুবান্ধব কাউকেই দেখানো হতো না। যার উদ্দেশ্যে কেনা তাকে যদি আগেই বলে দেওয়া হয় তাহলে তো মজাটাই থাকে না! কত সব বিচিত্র অনুভূতি জমে থাকত একেকটি ঈদ কার্ডতে ঘিরে।
বর্তমান তারুণ্যর অধিকাংশই ভার্চুয়াল শুভেচ্ছা বিনিময়ে ঈদের আনন্দে মেতে উঠছে। ঈদের পূর্বক্ষণে একসময় ঈদ কার্ড বিনিময় হলেও বর্তমানে ইন্টারনেট থেকে ঈদের শুভেচ্ছা কার্ড ডাউনলোড করে খুব সহজেই বন্ধু,প্রিয়জন, আত্নীয়– পরিজনকে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে শুভেচ্ছা বিনিময়ের সুযোগ এসেছে। আর তাতেই ঈদ কার্ড এর ইতিহাস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, এখন ঈদ কার্ড বিক্রি হয় না বললেই চলে। অফিসিয়ালি প্রতিষ্ঠানগুলো যে শুভেচ্ছা জানাতো সেই কার্ডগুলো খুব সীমিত আকারে ছাপায়। আগে যেমন বিশাল পরিসরে ছাপাতো সেটা আর নেই। এখন একশো’ কিংবা ৫০টা কার্ড নিয়ে যেখানে না দিলেই নয় সেখানে হয়তো দিচ্ছে। ঈদ কেন্দ্রিক সেই ব্যবসা এখন আর নেই।
তারা জানান, বর্তমানে ডিজিটাল প্রযুক্তি এসে আমাদের অনেক কিছুই বিলীন হয়ে যাচ্ছে। আমাদের বিয়ের কার্ডও কমে যাচ্ছে। একজন শুভেচ্ছা বিনিময় করতে হলে সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করলে দেখা যাচ্ছে হাজার হাজার মানুষের কাছে চলে যাচ্ছে। তাই আমরা এখন ৫ হাজার ঈদ কার্ড ছাপালে দেখা যায় একশো কার্ডও বিক্রি হয় না। আগে আমরা বাসায় কার্ড দিয়ে আসতাম, স্কুল-কলেজে কার্ড দিতো। কিন্তু এখন বাসায় বসেই ডিজিটাল মাধ্যমে কার্ড পাঠাচ্ছে।