সংগৃহীত © সংগৃহীত
প্রায় দুই যুগ ধরে সিঅ্যান্ডএফ (ক্লিয়ারিং অ্যান্ড ফরওয়ার্ডিং) এজেন্ট লাইসেন্স পরীক্ষার আয়োজন হয়নি। গত সরকারের আমলে কয়েক দফা উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হয়নি কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমির (সিইভিটিএ) পক্ষে। দীর্ঘ বিরতির পর সম্প্রতি লাইসেন্স পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও এবার ফল প্রকাশ নিয়েই দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।
সূত্র বলছে, নানা কারণেই ফল প্রকাশ আটকে আছে। অথচ বিধি অনুযায়ী লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ফল প্রকাশের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। গত ১৬ মে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও আট দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি। কেন ফল আটকে রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যাও পাওয়া যাচ্ছে না। এতে পুরো প্রক্রিয়া ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও রহস্য তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ আছে, শুধু তদবির নয়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে নতুন সিএনএফ লাইসেন্স না দেওয়ার পেছনে প্রভাবশালী একটি চক্র সক্রিয় রয়েছে। প্রায় দুই যুগে নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান সিএনএফ এজেন্টের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, বিদ্যমান সিএনএফ এজেন্টদের একটি সংগঠন নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে নতুন লাইসেন্স প্রদানে নানাভাবে বাধা দিয়ে আসছে। এতে একদিকে যেমন খাতটির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে নতুন লাইসেন্স না দেওয়ায় সরকার প্রতিবছর শত কোটি টাকার সম্ভাব্য রাজস্ব থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীনস্থ সংস্থা কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট ট্রেনিং একাডেমি (সিইভিটিএ) চট্টগ্রামে এ পরীক্ষাটি আয়োজন করে। আবেদন যাচাই-বাছাই, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, পরীক্ষা পরিচালনা ও ফল প্রকাশের জন্য ৬ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়। আমদানি-রপ্তানি, পণ্য খালাস ও জাহাজিকরণ কার্যক্রমে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা কাস্টমসের সহায়ক প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন।
পরীক্ষা আয়োজক কমিটির তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ মে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য বিবেচিত ২ হাজার ৯৮৭ জন আবেদনকারীর মধ্যে অংশ নেন ২ হাজার ৫২১ জন। ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায় ৪০ বা তার বেশি নম্বর পেয়ে উত্তীর্ণ হন ২১০ জন। সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বিধিমালা-২০২৬ অনুযায়ী, লিখিত পরীক্ষায় ৫০ শতাংশ নম্বর না পেলে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) এক কর্মকর্তা বলেন, বর্তমানে জাতীয় বাজেট প্রণয়ন ও রাজস্ব আহরণসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম নিয়ে এনবিআর অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছে। এ কারণে সিএনএফ লাইসেন্স পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশে সাময়িক বিলম্ব হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলেই খুব শিগগির ফলাফল প্রকাশ করা হবে বলে তিনি জানান।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকার রাজস্ব বাড়াতে গুরুত্ব দিচ্ছে। নতুন করে সিএনএফ এজেন্টের লাইসেন্স দেওয়া হলে একদিকে যেমন কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে, তেমনি খাতটিতে স্বচ্ছতাও বৃদ্ধি পাবে। পাশাপাশি প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অতিরিক্ত রাজস্ব আদায় করা সম্ভব হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এই বিষয়ে সিইভিটিএর মহাপরিচালক ম. সফিউজ্জামান অনৈতিক তদবিরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তবে কতজন পরীক্ষার্থী পাস করেছেন ও কেন ফলাফল প্রকাশ না করে এনবিআরের মতামতের জন্য পাঠানো হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেননি। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের পরামর্শের জন্য বিষয়টি এনবিআরে পাঠানো হয়েছে। এনবিআর চেয়ারম্যান এই বিষয়ে অর্থমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার অপেক্ষায় আছেন।