ডিসিসিআই’র লোগো © সংগৃহীত
২০২৬ সালে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক গতি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সময়োপযোগী, কার্যকর এবং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ ও যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে সৃষ্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও ব্যবসায়িক আস্থা রক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) সংগঠনটির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা বলা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা দেশের অর্থনীতি ও বিনিয়োগ পরিবেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশীয় উদ্যোক্তা এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনর্গঠনে সহায়ক হবে এবং অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারকে আরও টেকসই করবে।
২০২৬ সালে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার ত্বরান্বিত করতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, শিল্পখাতে নিরবচ্ছিন্ন ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহ, ব্যবসা পরিচালনা সহজীকরণ, ব্যবসার ব্যয় হ্রাস, বিনিয়োগবান্ধব নীতিগত ও অবকাঠামোগত পরিবেশ সৃষ্টি, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং সম্ভাবনাময় খাতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ডিসিসিআই। বিশেষ করে কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই) খাতে সহজ ঋণপ্রাপ্তি ও দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেছে সংগঠনটি।
চলমান জ্বালানি সংকট ও উচ্চ জ্বালানি মূল্যের কারণে উৎপাদনমুখী শিল্প-কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে ডিসিসিআই দীর্ঘমেয়াদী ও পূর্বানুমেয় জ্বালানি মূল্য নির্ধারণ নীতির দাবি জানিয়েছে। পাশাপাশি দ্রুত নতুন গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধান, জ্বালানি আমদানির বিকল্প উৎস খোঁজা এবং দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি সরবরাহ চুক্তি সম্প্রসারণের ওপর জোর দিয়েছে তারা।
বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের চাপ ও মুদ্রার অবমূল্যায়নের ফলে আর্থিক খাতে সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে ডিসিসিআই প্রয়োজনীয় আমদানি ব্যয় নির্বাহে অগ্রাধিকারভিত্তিতে কারেন্সি সোয়াপ ব্যবস্থার বিবেচনা এবং প্রবাসী আয় প্রবাহ বাড়াতে আরও কার্যকর প্রণোদনার সুপারিশ করেছে। একই সঙ্গে সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা, উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে দক্ষতা বৃদ্ধি, ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতা কমানো এবং সুশাসন নিশ্চিতের মাধ্যমে তারল্য সংকট কমানো সম্ভব বলে মনে করে সংগঠনটি।
ডিসিসিআই সতর্ক করে জানিয়েছে, সরকারের অতিরিক্ত ব্যাংকঋণ গ্রহণের ফলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাজস্ব আহরণ বাড়াতে গিয়ে বিদ্যমান করদাতাদের হয়রানি না করে রাজস্ব ব্যবস্থার পূর্ণাঙ্গ অটোমেশন, কর আইনের আধুনিকায়ন ও নতুন রাজস্ব খাত সৃষ্টির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের প্রেক্ষাপটে যথাযথ প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ডিসিসিআই বলেছে, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে দ্রুত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) ও আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোটগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি সম্পাদন জরুরি।
ডিসিসিআই’র মতে, রপ্তানি পণ্যের বৈচিত্র্যকরণ, নিরবচ্ছিন্ন শিল্প উৎপাদন, স্থানীয় শিল্পের সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দক্ষ মানবসম্পদ সৃষ্টি, প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন, ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ শিল্পের সম্প্রসারণ এবং যুক্তিসংগত কর ও শুল্ক কাঠামো সংস্কার—এই বিষয়গুলোই ২০২৬ সালে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখার মূল চালিকাশক্তি হবে।