টেকসই কৃষিতে নতুন দিগন্ত, সাড়ে ৮ হাজারের পরিবারের ক্ষমতায়নে ব্র্যাক ব্যাংক

১২ আগস্ট ২০২৫, ১১:১৪ AM , আপডেট: ১৪ আগস্ট ২০২৫, ১০:১৭ PM
পরিবারের ক্ষমতায়নে ব্র্যাক ব্যাংক

পরিবারের ক্ষমতায়নে ব্র্যাক ব্যাংক © টিডিসি

বাংলাদেশে কৃষি অর্থায়নের ধারায় এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে ব্র্যাক ব্যাংক। গত দুই বছরে সাড়ে ৮ হাজারেরও বেশি কৃষক পরিবারের মাঝে মোট ৫৯ কোটি ৩৯ লাখ টাকা ঋণ বিতরণের মাধ্যমে তাঁদের সহায়তা করেছে ব্যাংকটি। এ উদ্যোগের প্রায় পয়ত্রিশ হাজার গ্রামীণ মানুষের জীবন ও জীবিকা সরাসরি উপকৃত হয়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং বিশেষ করে প্রান্তিক ও জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এ উদ্যোগ দৃশ্যমান প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়েছে।

এসএমই-কেন্দ্রিক ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই ব্র্যাক ব্যাংক আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবার বাইরে থাকা প্রান্তিক ও ছোট কৃষকদের প্রাধান্য দিয়ে কাজ করে আসছে। ব্যাংকটির নিজস্ব ডিজিটাল কৃষিঋণ প্ল্যাটফর্ম ‘সুবিধা’-এর মাধ্যমে কৃষকরা মাত্র ২০ মিনিটেই ঋণসুবিধা নিতে পারছেন। শাখায় না গিয়ে নামমাত্র কাগজপত্রের মাধ্যমে এই ঋণসুবিধা পাওয়ার ফলে তাঁদের জীবন ও জীবিকায় এসেছে ইতিবাচক পরিবর্তন।

এই ফিনটেক-কেন্দ্রিক মডেলটি শুধুমাত্র অর্থায়ন নয়, প্রযুক্তি ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রেও সেতুবন্ধন তৈরি করেছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে অর্থনীতিতে নীরবে অবদান রেখে যাওয়া কৃষকদের জন্য এটি আত্মবিশ্বাস ও আর্থিক সক্ষমতার এক নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে।

এরকম পরিস্থিতিতে আরও বিস্তৃত পরিসরে কৃষকদের কাছে পৌঁছাতে ব্র্যাক ব্যাংক সিনজেনটা, আইফার্মার, পেট্রোকেম, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরসহ বহু অ্যাগ্রিটেক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে কৌশলগত চুক্তি করেছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে ব্র্যাক ব্যাংকের এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের কাছে ডিজিটাল টুল, মার্কেট লিংকেজ এবং উন্নত কৃষি উপকরণ সহজলভ্য হয়েছে।

এছাড়াও প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে যৌথভাবে ব্যাংকটি ২২টি জেলার ৩,২৫৬ জন কৃষকের মাঝে ১৫ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে, যেখানে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের মানুষদের প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল। ডিজিটাল ফার্ম ম্যানেজমেন্ট ও মার্কেটিং টুলসের সহায়তায় এই ঋণ গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ ও হলুদ চাষসহ নানা কৃষি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হয়েছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের সহায়তায় আরও এক হাজার ৮৪৪ জন কৃষক ৮ কোটি ৭৩ লাখ টাকার ঋণসুবিধা পেয়েছিলেন, যা তাঁদের ফসলের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মাধ্যমে টেকসই জীবিকা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ২৫১ জন কৃষককে ভুট্টা, পেঁয়াজ, আলু ও ধান চাষে ১ কোটি ৬১ লাখ টাকার অর্থায়ন সুবিধা দেওয়া হয়েছে। চরাঞ্চলের প্রাকৃতিক দুর্যোগপ্রবণ জেলা গাইবান্ধায় ৭০ জন গবাদিপশু খামারিকে পরীক্ষামূলকভাবে ৫১ লাখ টাকা ঋণ দেওয়া হয়েছে। খুলনা ও সাতক্ষীরার মতো দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় ১৩৪ জন কৃষক জলবায়ু-সহনশীল কৃষি অর্থায়ন সুবিধা পেয়েছেন। 

শুধু তা-ই নয়, গবাদিপশু ও দুগ্ধ খাতেও গতি এসেছে। ৫৫২ জন কৃষকের মাঝে ৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা বিতরণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তায় কৃষকদের সমবায় প্রতিষ্ঠানগুলোও।

ব্র্যাক ব্যাংকের এই প্রচেষ্টার প্রভাবও লক্ষণীয়। ধান চাষে ২,৪১৩টি, গরু মোটাতাজাকরণে ১,৭১১টি, ভুট্টা চাষে ১,১১২টি, আলু চাষে ৮৫১টি, দুগ্ধ খাতে ৮৪০টি, পেঁয়াজ চাষে ৬৮৯টি, হলুদ চাষে ২১২টি, বাদাম উৎপাদনে ১৮৩টি, সয়াবিনে ১৬২টি, দারিদ্র্য বিমোচনে ১১২টি, মরিচ চাষে ৭৪টি এবং রসুনে ৫৩টি ঋণসুবিধা দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগে ব্যাংকটির বিতরণকৃত মোট ৮,৪১০টি কৃষিঋণের মাধ্যমে বাংলাদেশের কৃষকের জীবন ও জীবিকায় এসেছে আমূল পরিবর্তন। এখানে উল্লিখিত প্রতিটি সংখ্যাই এক একটি সংগ্রামের গল্প। এগুলোর মধ্যে আবার কিছু গল্প অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়নের দৃষ্টান্ত হিসেবে উঠে এসেছে। এরকম কয়েকটি গল্প শোনা যাক।

সাতক্ষীরা জেলার আমাদির ৩৬ বছর বয়সী কৃষক স্বপ্না পারভিন ব্র্যাক ব্যাংকের কাছ থেকে নেওয়া ৫১,০০০ টাকার ঋণ দিয়ে ছোট পরিসরে কাঁকড়া চাষ শুরু করেছিলেন। মাত্র ছয় মাসেই তিনি ঋণ পরিশোধ ও ব্যবসা সম্প্রসারণের পাশাপাশি আরও দুইজন নারীর কর্মসংস্থানেরও সুযোগ করে দিতে সক্ষম হন। এমন সাফল্যের পর স্বপ্না বলেন, ‘এখন আমাকে আমার এলাকায় লিডার হিসেবে দেখছে সবাই। আমি এখন বছরজুড়েই আয় করছি। ফলে, আমাকে আর সিজনাল কাজে নির্ভরশীল থাকতে হচ্ছে না।’

উন্নত বীজ ও সেচ ব্যবস্থার কারণে রংপুরের মো. নাজমুল ইসলামের ফলন এখন এক মৌসুমেই দ্বিগুণ হয়ে যায়। নাজমুল বলেন, ‘ঋণের কিছু অংশ শোধ করেছি, পানি তোলার একটা মেশিন কিনেছি এবং মেয়েকেও কলেজে ভর্তি করিয়েছি। ব্র্যাক ব্যাংক আমাকে আত্মমর্যাদা ও ভবিষ্যৎ দিয়েছে।’ বর্তমানে নাজমুল দুগ্ধ খামার প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছেন এবং অন্যদেরও ফরমাল উৎস থেকে অর্থায়ন সুবিধা নিতে উদ্বুদ্ধ করছেন।

প্রতিটি ক্ষেত্রেই ব্র্যাক ব্যাংকের এই মডেল প্রমাণ করে যে, সময়োপযোগী, সহজলভ্য এবং অভিজ্ঞতাভিত্তিক অর্থায়ন সুবিধা কেবল আর্থিক সমাধানই নয়, বরং এটি টেকসই উন্নয়নের চালিকা শক্তিও।

বর্তমানে ব্র্যাক ব্যাংক ভবিষ্যতের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক রিস্ক স্কোরিং এবং রিয়েল-টাইম ডিসিশন টুল নিয়ে কাজ করছে। এটি বাস্তবায়িত হলে গ্রাহকরা আরও দ্রুত ও কার্যকর সেবা উপভোগ করতে পারবেন। এই উদ্যোগে ব্র্যাক ব্যাংকের লক্ষ্য হলো, কৃষকদের অ্যাগ্রি-এন্টারপ্রাইজ গঠন, রপ্তানি মার্কেটে প্রবেশ এবং ভ্যালু-চেইন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।

ব্র্যাক ব্যাংকের এই কৃষি অর্থায়নের উদ্যোগ এসেছে ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠাতা স্যার ফজলে হাসান আবেদের আদর্শ থেকে। তাঁর ‘ব্যাংকিং দ্য আনব্যাংকড’ দর্শন ব্যাংকটির পথচলার অনুপ্রেরণা।

বাংলাদেশ যখন জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সাথে সংগ্রাম করছে, তখন ব্র্যাক ব্যাংকের এই অন্তর্ভুক্তিমূলক কৃষি অর্থায়ন মডেলটি কৃষকদের সামনে খুলে দিয়েছে টেকসইতা, ক্ষমতায়ন ও সম্ভাবনার নতুন দুয়ার, যা গ্রামীণ অর্থনীতির পুনর্জাগরণের বার্তা দিচ্ছে। 

মাদ্রাসা শিক্ষাবোর্ডের কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ হিসাববিজ্ঞনের শিক…
  • ১৯ মে ২০২৬
‎সাতছড়ি বনে গাছ চুরি, তদন্তে বন বিভাগ
  • ১৯ মে ২০২৬
শিক্ষাব্যবস্থা ঢেলে সাজাতে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে তিন প্রত্যাশ…
  • ১৯ মে ২০২৬
বাংলাদেশের টেস্টসহ টিভিতে আজকের খেলার সময়সূচি
  • ১৯ মে ২০২৬
লাশবাহী খাটিয়া নিয়ে কবরস্থানে যাওয়ার পথে পিকআপ ভ্যানের ধাক্…
  • ১৯ মে ২০২৬
হজের খুতবা দেবেন শায়খ আলী আল-হুজাইফি, জানা গেল পরিচয়
  • ১৯ মে ২০২৬
×
ADMISSION
GOING ON
SPRING 2026
APPLY ONLINE
UP TO 100% SCHOLARSHIP
UNIVERSITY OF ASIA PACIFIC 🌐 www.uap.ac.bd
Last Date of Application:
21 June, 2026
📞
01789050383
01714088321
01768544208
01731681081