মাউশি © ফাইল ছবি
বেসরকারি স্কুল-কলেজে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি আবেদনের সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন করে আবেদনের সময় বাড়ানোয় ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত অনেক শিক্ষক আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করেছেন। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে তারা বদলি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ পাবেন কিনা তা নিয়ে।
বিষয়টি জানতে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস কথা বলেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) দুই কর্মকর্তার সঙ্গে। তারা জানিয়েছেন, ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকদের বদলি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ নেই। পূর্বে যারা আবেদন করেছেন তাদের ভুল সংশোধনের জন্য বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি যারা এখনো আবেদন করেননি তাদের জন্য নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে।
নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে মাউশির এক কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষকদের বদলি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে ১৮ আগস্ট। ওই সময় যাদের চাকরিতে যোগদানের বয়স দুই বছর হয়েছে কেবল তারাই বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন। এরপর কারো চাকরির মেয়াদ দুই বছর হলেও তিনি আবেদনযোগ্য হবেন না। ফলে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্তদের আবেদনের সুযোগ নেই।’
এদিকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি বিজ্ঞপ্তিতে আবেদনের সুযোগ দাবি করেছেন ৫ম গণবিজ্ঞপ্তিতে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা। এ দাবিতে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বরাবর স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন তারা।
সম্প্রতি সচিবালয়ে শিক্ষামন্ত্রীর দপ্তরে মো. মোতাছিম বিল্লাহ, তানভীর হাসান, রুবা আক্তার এবং সন্দীপ রায় এ স্মারকলিপি জমা দেন।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি নীতিমালা-২০২৬ (সংশোধিত) জারির মাধ্যমে যে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তার জন্য আমরা আপনার প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। তবে এই নীতিমালার ন্যূনতম ২ বছর চাকরি পূর্ণ হওয়ার শর্তের কারণে মাত্র ১০-১৫ দিনের সামান্য সময়ের ব্যবধানে এক বিশাল অংশ বঞ্চিত হওয়ায়—৫ম গণবিজ্ঞপ্তির শিক্ষকদের মধ্যে একটি চরম বৈষম্য ও মানসিক কষ্টের সৃষ্টি হয়েছে।
তারা জানান, ‘৫ম গণবিজ্ঞপ্তি একটি একক ব্যাচ এবং একই দিনে আমাদের সকলকে চূড়ান্ত সুপারিশপত্র দেওয়া হয়েছিল, তাই মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং ব্যাচভিত্তিক সমতা বজায় রাখতে বদলি বিজ্ঞপ্তিতে ২ বছর পূর্তির সময়সীমা আগামী ১৫ অথবা ১৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ধিত বা শিথিল করার করার দাবি জানাচ্ছি। এই সামান্য ১০-১৫ দিনের যৌক্তিক সময়টুকু বিবেচনা করে ৫ম গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে। নিয়োগপ্রাপ্ত সকল ভুক্তভোগী শিক্ষককে বদলি আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করার সুযোগ দিয়ে আমাদের এই চরম মানসিক কষ্ট ও দূর-দূরান্তের কর্মজীবনের কষ্ট থেকে মুক্তি দেওয়ার দাবি জানান তারা।’