ছয় বছরেও প্রকাশ হয়নি মাউশির নিয়োগের ফল, অনিশ্চয়তায় সাড়ে ৬ হাজার প্রার্থী

০৮ জুলাই ২০২৬, ০৬:০২ PM
ফল প্রকাশের দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা

ফল প্রকাশের দাবিতে আন্দোলনরত চাকরিপ্রার্থীরা © ফাইল ছবি

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ২০২০ সালের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় ১০ম গ্রেডের চারটি পদের চূড়ান্ত ফলাফল ছয় বছরেও প্রকাশ না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন প্রায় সাড়ে ৬ হাজার চাকরিপ্রার্থী। দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটাতে দ্রুত ফল প্রকাশের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি দিলেও ফল প্রকাশের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ চাকরিপ্রার্থীদের।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির আওতায় প্রদর্শক, গবেষণা সহকারী, সহকারী লাইব্রেরিয়ান-কাম-ক্যাটালগার এবং ল্যাব সহকারী পদের জন্য লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা অনেক আগেই শেষ হয়েছে। তবে কোটা-সংক্রান্ত জটিলতা এবং প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতার কারণে এখনো চূড়ান্ত ফলাফল প্রকাশ করা হয়নি।

ফল প্রকাশে দীর্ঘ বিলম্বে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রার্থীরা। তাদের ভাষ্য, ছয় বছরের অপেক্ষায় অনেকের সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা শেষ হয়ে গেছে। ফলে শুধু চাকরির স্বপ্নই নয়, পারিবারিক ও আর্থিক ভবিষ্যৎও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

চাকরিপ্রার্থীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরও অযৌক্তিকভাবে ফল প্রকাশে বিলম্ব করা হচ্ছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন থাকার পরও কেন ফলাফল প্রকাশ করা হচ্ছে না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তারা কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা পাননি। তারা দ্রুত ফল প্রকাশের মাধ্যমে মেধার যথাযথ মূল্যায়নের দাবি জানান।

কপেল আহম্মেদ নামে একজন ফলপ্রত্যাশী বলেন, ‘আমি বগুড়ায় জন্মগ্রহণ করেছি বলে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় চাকরি পাইনি। প্রধানমন্ত্রী আশার পর ভেবেছিলাম এইবার প্রদর্শকের রেজাল্ট হবে। কিন্তু শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, মাউশির ডিজিকে হাতে হাতে স্মারক লিপি দিয়েছি। বিভিন্ন সময় শিক্ষামন্ত্রীর অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন গনমাধ্যম প্রদর্শকের রেজাল্ট নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। কিন্তু উনারা বারবার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়েছেন। তাই বাধ্য হয়ে গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ডাকযোগে খোলা চিঠি পাঠানো হয়েছে। মাউশির নিয়োগের ফল প্রকাশের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছি। এর মধ্যে রেজাল্ট প্রকাশিত না হলে ১০ জনের প্রতিনিধির সাক্ষাৎ চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আমারা ৭০০০ হাজার প্রার্থী চিঠি পাঠাব।’

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী খাদিজা আক্তার বলেন, ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা  ইনস্টিটিউট এর  অধ্যাপক মোহাম্মদ মুজিবুর রহমান বলেছেন যেখানে প্রদর্শক ১০ জন থাকার কথা সেখানে ২ জন করেও নেই। এডুকেশন ম্যানেজমেন্টে ইনফরমেশন সিস্টেম সেল থেকে আমি ৯ বিভাগের ৪ বিভাগের ১০১ টি কলেজ থেকে তথ্য নিয়ে দেখলাম ৫৮টি কলেজে প্রদর্শক পদ ফাঁকা;  বাকিগুলোতে ১ জন। দু:খের বিষয় ১ টা কলেজেও পরিপূর্ণ প্রদর্শক নাই। শিক্ষামন্ত্রীর কাছে অনুরোধ, আমাদের চূডান্ত রেজাল্ট প্রকাশ করে ৬ বছরের যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করুন। আমাদের নিয়োগ নিয়ে প্রশ্নফাঁস বা ডিভাইস কেলেংকারি কোন অভিযোগ নেই।’

দেশের সব বেসরকারি দাখিল ও আলিম মাদ্রাসার জন্য জরুরি নির্দেশ…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
লিখিত-ভাইভায় এগিয়েও ‘আউট’, পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগে নম্বর …
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
এনআইডি তৈরির কথা বলে শহরে নিয়ে তরুণীকে ধর্ষণ, গ্রেপ্তারের প…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
দেশে ১০ হাজারের বেশি ডায়াগনস্টিক ল্যাব, আন্তর্জাতিক স্বীকৃত…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
আগামী বছর থেকেই ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজে ভর্তি শুরু: মির্জা …
  • ০২ আগস্ট ২০২৬
জুলাই আন্দোলনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত ছাত্রদল: ছাত্রদল সেক…
  • ০২ আগস্ট ২০২৬