তিনদিন ঠাঁই দাঁড়িয়ে আছেন ঢাবি শিক্ষক

২৮ নভেম্বর ২০১৯, ০৬:১৯ PM
সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী

সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী

টানা তিনদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে ঠাঁয় দাঁড়িয়ে রয়েছেন সহকারী অধ্যাপক ড. রুশাদ ফরিদী। প্ল্যাকার্ডে লেখা ‘আমি শিক্ষক আমাকে ক্লাসে ফিরে যেতে দিন।’ প্রায় আড়াই বছর বাধ্যতামূলক ছুটিতে থাকার পর ক্লাসে ফিরতে চান তিনি। কিন্তু বিভিন্ন আইনি জটিলতার অযুহাত দেখিয়ে কর্তৃপক্ষ তাকে ক্লাসের বাইরে রাখছে বলে অভিযোগ ওই শিক্ষকের। এখন পর্যন্ত তার সঙ্গে কেউ দেখা করতে আসেনি। গত মঙ্গলবার থেকে তিনি এই কর্মসূচি পালন করছেন।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের সামনে প্ল্যাকার্ড নিয়ে একা দাঁড়িয়ে রয়েছেন। বিভাগের কোন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে এসময় তার পার্শে দেখা যায়নি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে তাঁর কর্মসূচিতে সমর্থন জানিয়ে পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করতে দেখা গেছে। ক্লাসে ফিরতে না দেওয়া পর্যন্ত তাঁর কর্মসূচি চলবে বলে জানান রুশাদ ফারিদী।

তিনি দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার কাছে এখন পর্যন্ত কেউ আসেনি। মূলত আমাকে হয়রানি করার জন্য এমনটা করা হচ্ছে। আদালতের রায় হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় চাইলে আমাকে নিতে পারে কিন্তু তারা আমাকে নিচ্ছে না। তাদের উদ্দেশ্য, যদি তারা আমাকে এখন না নেয়, তাহলে পরবর্তী সেমিস্টারে আমি ক্লাস পাচ্ছি না। যার কারণে আমাকে ছয় মাস বসে থাকতে হবে। এই ছয় মাসের মধ্যে যদি অন্য কোন ইস্যু সৃষ্টি করে আমাকে আরও কিছুদিন ছুটিতে রাখা যায় এটাই কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্য।

২০১৭ সালের ১২ জুলাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকের সভাপতিত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সভায় ড. রুশাদ ফরিদীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় রুশাদ ফরিদীর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩১ জন শিক্ষক অভিযোগ দিয়েছিলেন। এরপর রুশাদ ফরিদীকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল।

ড. রুশাদ ফরিদী জানান, বিশ্ববিদ্যালয় সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্তে তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। এর এক সপ্তাহ পর ১৯ জুলাই এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে রিট করেন তিনি। চলতি বছরের ২৫ আগস্ট বাধ্যতামূলক ছুটির বিষয়টি অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।

তিনি জানান, রায় পাওয়ার পর সার্টিফাইড কপির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তিনি। কিন্তু হাইকোর্টের বিভিন্ন আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কপি পেতে সময় লাগতে পারে। তাই উকিল সার্টিফিকেটসহ 'বাধ্যতামূলক ছুটি অবৈধ' হাইকোর্টের এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিভাগে যোগ দেওয়ার জন্য গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিভাগীয় অফিসে যান তিনি।

তখন অফিসের কর্মকর্তা এবং কর্মচারীরা জানান, ‘চেয়ারম্যান স্যার জানিয়েছেন উনার অনুমতি ছাড়া কোন চিঠি রিসিভ করা যাবে না’।

পরে ড. রুশাদ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. শফিক উজ জামানের সঙ্গে দেখা করলে, বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমতি ব্যতীত এ ব্যাপারে কোন চিঠি গ্রহণ করতে পারবেন না বলে চেয়ারম্যান জানান।

অর্থনীতি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপিক ড. শফিকুজ্জামান বলেন, মামলা চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে, আমাদের সাথে নয়। মামলার রায়ের কোন কাগজ আমরা এখনো হাতে পাইনি। মামলার রায় হয়েছে দাবি করে তিনি একটি প্রত্যয়ন পত্র ও পত্রিকার একটি নিউজ অফিস বরাবর জমা দিয়েছেন। কিন্তু আমরাই কাগজ গ্রহণ করিনি। কারণ এটিতো মামলার রায় নয়। আর যদি কোন কাগজ গ্রহণ করতে হয় তাহলে গ্রহণ করবে বিশ্ববিদ্যালয়। কারণ মামলা চলছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে। উনি বলছেন মামলার রায় হয়েছে অথচ তিনি দেখাচ্ছেন উনার আইনজীবীর একটি প্রত্যয়ন পত্র।

তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের যা বলে আমরা তাই করব। সে ক্লাসে ফেরার বিষয়ে আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই। আমাদের আইনের বিরুদ্ধে যাওয়ার কোন ক্ষমতা নাই। আইনের মীমাংসা না হলে আমাদের কিছু করার নাই।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘এই বিষয়টি একটি আইনি প্রক্রিয়া। যা করতে হবে আইনের মধ্য দিয়ে করতে হবে। তবে আমরা বিষয়টি দেখছি।’

২০১৭ সালে কোন অভিযোগে অধ্যাপক রুশাদ ফরিদীকে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল, তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তখন আমাকে শুধু একটি চিঠি দেওয়া হয়েছিল। সেখানে বলা ছিল বিভাগের কিছু শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে আমাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানো হয়। তবে অভিযোগটা কী ছিল সেটা একেবারেই লেখা ছিল না। অভিযোগ সম্পর্কে আমি মামলা শুরু হওয়ার প্রায় এক বছর পর জেনেছি। ‘

তিনি বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল আমি নাকি বিভাগের শিক্ষকদের ফোন দিয়ে হুমকি দিয়েছি, তাদেরকে ভেড়ার পাল বলেছি, দুর্নীতিপরায়ণ বলেছি।’

তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা ছিল বলে দাবি করেন অধ্যাপক রুশাদ ফরিদী। তিনি বলেন, ‘আমি তখনকার বিভাগের চেয়ারম্যান নাজমা বেগমকে বিভাগের বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে ৭টি চিঠি লিখি। এতে অনেক শিক্ষক আমার প্রতি ক্ষুব্ধ হন।’

অধ্যাপক ফরিদী জানান, তাকে বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠানোর ৫ দিন আগে (২০১৭ সালের ৭ জুলাই) একটি জাতীয় দৈনিকে তার একটি কলাম ছাপানো হয়। কলামটির শিরোনাম ছিল ‘উল্টোপথে কি শুধুই বাস’।

তিনি বলেন, তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস নিয়মিত উল্টোদিকে চলত। তখন আমি সেই কলামে লিখেছিলাম এটা প্রতীকী চিত্র। আসলে পুরো বিশ্ববিদ্যালয়ই উল্টোপথে চলছে। তখনকার প্রশাসন এ বিষয় নিয়ে প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়েছিল। ‘

বিভাগের কিছু শিক্ষক তখন এই সুযোগটিই নিয়েছিলেন মনে করেন অধ্যাপক ফরিদী।

সিট বরাদ্দে অনিয়মের প্রতিবাদে ঢাকা কলেজে বিক্ষোভের ডাক
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
সাংবাদিকতায় স্নাতকোত্তর কোর্সে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছ…
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
১১ দিন ডেঙ্গুর সঙ্গে লড়ে না ফেরার দেশে যবিপ্রবির আদিবা
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় ঘোষণা আজ
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
ত্রিদেশীয় সিরিজের জন্য দল ঘোষণা করল জিম্বাবুয়ে
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬
জনবল নিয়োগ দিচ্ছে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ডিগ্রি কলেজ
  • ২৫ আগস্ট ২০২৬