অধ্যাপক মো. আব্দুল হাই বাংলা ভাষার প্রথম ধ্বনি বিজ্ঞানী বলে দাবি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-প্রতিষ্ঠান 'ইন্সটিটিউট অব বাংলাদেশ স্টাডিজ' এর অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার।
আজ মঙ্গলবার ‘ভাষাবিজ্ঞানী অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল হাই এর জন্মশতবর্ষ’ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে তিনি এই দাবি করেন। বিকেল ৪টায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান সেমিনার কক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলা একডেমির সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। এসময় স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির পরিচালক অধ্যাপক হাবিবুল্লাহ সিরাজী। অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক গোলাম মোরশেদসহ অধ্যাপক আব্দুল হাইয়ের পরিবারে সদস্যরা।
অধ্যাপক স্বরোচিষ সরকার বলেন, ভাষার অবয়ব নির্ধারনে সচেতন প্রয়াস ভাষা-পরিকল্পনার মূল আলোচ্চ বিষয়। আব্দুল হাই ছিলেন বাংলা ভাষা-পরিকল্পনার অন্যতম একজন। তার বই পাঠ্যক্রম হিসেবে ব্যবহার করা হয় অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে।
তিনি আরও বলেন, তিনি বাংলা ধ্বনিকে বৈজ্ঞানিকভাবে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করেন। বাংলা ভাষার প্রথম ধ্বনি বিজ্ঞানি তিনি। ব্যক্তিজীবনে ধর্মপরায়ন পরিবারের সদস্য।কর্মজীবনে ছিলেন ধর্ম নিরপেক্ষ। ভাষাকে তিনি ধর্ম পরিচয়ের উর্দ্ধে ধরতে অভ্যস্ত ছিলেন। ভাষা তাত্ত্বিক হিসেবে তিনি বাংলা ভাষা নিয়ে ছিলেন দৃঢ়চিত্ত।
স্বাগত বক্তব্যে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল হাই বাংলা সাহিত্য এবং বাংলা ভাষার অগ্রগন্য পুরুষ। ঊষর সময়কালে, বিরুপ রাজনৈতিক অবস্থায় দাড়িয়ে বাঙালি চেতনার অন্যতম বাতিঘর হয়ে কাজ করেছিলেন তিনি। তার মূল পরিচিতি ভাষা বিজ্ঞানকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও তিনি সামগ্রিকভাবে বাংলা সাহিত্যের একজন গুরুত্বপূর্ণ লেখক।
জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বাংলা ভাষার সংস্কারে আব্দুল হাইয়ের ভুমিকা উল্লেখ করে বলেন, বাংলা ভাষা সংস্কারের জন্য আব্দুল হাইয়ের যে লেখা তা পরীক্ষামূলক লেখা। যদিও তিনি শিক্ষক ছিলেন বাংলা ভাষা ও সাহিত্যের। কিন্তু দায়িত্ব পালন করেছেন আরো বেশি। বাংলা সাহিত্য সংস্কৃতির উপর যা আক্রমন এসেছে তার বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, আব্দুল হাই আমাদের মাঝে নাই, কিন্তু তার রচনা পড়ে আলো নিয়ে সামনের দিকে পথ চলার আহবান জানাচ্ছি সবাইকে।
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক মুহাম্মদ আব্দুল হাই পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে ১৯১৯ সালের ২৬শে নভেম্বর জন্মগ্রহন করেন। তিনি বাংলা ভাষার প্রধানতম ধ্বনিবিজ্ঞানী এবং শিক্ষাবিদ। তিনি বাংলা ভাষার ব্যাকরণকে সর্বোচ্চ সহজ সরলভাবে উদ্ভাসিত করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মুসলিম ছাত্র ছিলেন তিনি। প্রবন্ধ ও গবেষণামূলক গ্রন্থ প্রনয়নের জন্য তিনি ১৯৬১ সালে বাংলা একাডেমি পুরষ্কার পান। তাঁর কর্মজীবনের বেশিরভাগ সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে অধ্যাপনা করেন।