পরীক্ষা কেন্দ্রে শিক্ষার্থীরা © টিডিসি ফটো
কোন প্রকার অনিয়ম, ভর্তি জালিয়াতি বা প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ছাড়াই অনুষ্ঠিত হয়েছে ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের (ঢাবি) সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদভুক্ত ‘ঘ’ ইউনিটের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা।
শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা থেকে ১১:৩০টা পর্যন্ত সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভর্তি পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও ক্যাম্পাসের বাইরে মোট ৮৬টি কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর ‘ঘ’ ইউনিটে ১৫৬০টি আসনের জন্য ভর্তিচ্ছু আবেদনকারীর সংখ্যা ৯৭,৫০৫ জন ।
পরীক্ষা চলাকালীন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. নাসরীন আহমাদ, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ সামাদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দীন এবং সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও কর্মকর্তাবৃন্দ পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, ‘আমাদের এই ইউনিটে অনেক শিক্ষার্থী পরীক্ষা দিচ্ছে। কিন্তু আসন সীমিত। তাই এটি খুবই প্রতিযোগিতামূলক হবে। আমরা ইতিমধ্যে একটি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শন করেছি। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বললাম প্রশ্নপত্রের গুণগত মান সম্বন্ধে। সামগ্রিকভাবে একটি সুষ্ঠু-সুন্দর পরিবেশ প্রতিটি হলেই দেখলাম।
ভর্তি পরীক্ষা সহজ হয়েছে বলে জানিয়েছে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা
এবারের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন সহজ ও পরিক্ষার এমন প্রশ্নে তারা সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা । তবে, প্রশ্নপত্র সহজ হলেও সময়ের অভাবে অনেক শিক্ষার্থী লিখিত অংশ লিখতে পারেনি। শিক্ষার্থীরা জানান, এবারে প্রথম লিখিত পরীক্ষা হওয়ার কারণে তারা সময়ের সাথে সমন্বয় করতে পারেনি। এসময় তারা অভিযোগ করে বলেন, অনেক পরীক্ষা কেন্দ্রে ঘড়ি ছিল না, আবার ঘড়ি থাকলেও নষ্ট ছিল অন্যদিকে তাদের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘড়ি নিতে দেয়নি প্রশাসন। যে কারণে তারা পরীক্ষার সাথে সময়ের সমন্বয় করতে পারেনি।
প্রশ্নপত্র কেমন হয়েছে জানতে চাইলে মহসীন নামে ভর্তিচ্ছু এক শিক্ষার্থী বলেন, এবারের প্রশ্ন সহজ হয়েছে তবে, সময়ের জন্য লিখিত অংশ ভাল করে লিখতে পারিনি । মশিউর নামে আরেক শিক্ষার্থী বলেন, পরিক্ষার প্রশ্ন সহজ হয়েছে। লিখিত লিখতে পেরেছি কোন রকম ।
ভর্তিচ্ছুদের পাশে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা
ভর্তিপরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সারাদেশ থেকে আসা পরিক্ষার্থীদের সহায়তা করতে সারাদিনই সক্রিয় ছিলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থী ও বিভন্ন ছাত্রসংগঠনের সদস্যরা । ডাকসু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন এবং জেলা ও উপজেলাভিত্তিক সংগঠনগুলো পরিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে।
ডাকসুর পক্ষ থেকে সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন শতাধিক সদস্যের বিশেষ স্বেচ্ছাসেবী টিম গঠন করে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন পয়েন্টে শিক্ষার্থীদের সেবা দেয়। ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পরীক্ষার্থীদের পরিবহনের জন্য ‘জয় বাংলা বাইক সার্ভিস’ পরিচালনা করে। এছাড়াও হলভিত্তিক বুথ বসিয়ে শিক্ষার্থীদের তথ্য সহায়তা, ফ্রি মেডিকেল সার্ভিস, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের জন্য সুপেয় পানির ব্যবস্থা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য হুইল চেয়ারের ব্যবস্থা ও অভিভাবকদের জন্য বসার ব্যবস্থা করে সংগঠনটি। পরীক্ষা শুরুর আগে ছাত্রলীগের বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি পরিক্ষার্থীদের মাঝে কলম ও পানি বিতরণ করেন।