ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদভুক্ত ‘গ’ ইউনিটের স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষার ফলাফণ প্রকাশ করা হয়েছে। এবছর ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় সমন্বিতভাবে ১৫.৪৯ শতাংশ শিক্ষার্থী পাশ করেছেন যা গত বছরের চেয়ে ৪.৫১ শতাংশ বেশি।
এবছর ‘গ’ ইউনিটে ১২৫০ টি আসনের বিপরীতে ২৯ হাজার ৬৬ জন ভর্তিচ্ছু আবেদন করেছিলেন। এদের মধ্যে ভর্তি পরীক্ষায় ২৮ হাজার ১৬৯ জন শিক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করেন। তন্মধ্যে ৬২ জন পরীক্ষার্থীর খাতা বাতিল করা হয়। এবছর এমসিকিউ পরীক্ষায় মোট ৬ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী পাশ করেন যা মোট পরীক্ষার্থীর প্রায় ২৪.১৫ শতাংশ। এদের মধ্য থেকে লিখিত পরীক্ষায় পাশ করেন মোট ৪ হাজার ৩৬২ জন যা মোট পরীক্ষার্থীর ১৫.৪৯ শতাংশ।
গত বছর (২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে) ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ২৫ হাজার ৯৫৮ জন ভর্তিচ্ছু পরীক্ষা দিয়েছিলেন। তন্মধ্যে ২ হাজার ৮৫০ জন পরীক্ষার্থী পাশ করেছিলেন যা ছিল মোট পরীক্ষার্থীর ১০.৯৮ শতাংশ।
এবছর, ‘গ’ ইউনিটের এমসিকিউ অংশে ২৪.১৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছেন যা গতবারের চেয়ে প্রায় ১৩.২৭ শতাংশ বেশি। আর এমসিকিউ এবং লিখিত মিলিয়ে সমন্বিতভাবে এবছর ১৫.৪৯ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাশ করেছেন যা গত বছরের চেয়ে ৪.৫১ শতাংশ বেশি।
এবছর, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে স্নাতক প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা নতুন নিয়মে অনুষ্ঠিত হয়েছে। আগে যেখানে এক ঘন্টার ১২০ নম্বরের শুধু এমসিকিউ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হতো, এবার নতুন নিয়মে ৭৫ নম্বরের নৈর্ব্যক্তিক ও ৪৫ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষার জন্য ৫০ মিনিট এবং লিখিত পরীক্ষার জন্য ৪০ মিনিট করে মোট দেড় ঘন্টার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
এবছর, ‘গ’ ইউনিটের পরীক্ষার মাধ্যমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্মি পরীক্ষা শুরু হয়েছিল। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরই অনেকে দাবি করেছিলেন নতুন নিয়মে পরীক্ষা হওয়ায় এবছর নৈর্ব্যক্তিক অংশের প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেছিলেন, নতুন নিয়মে পরীক্ষা দিয়ে শিক্ষার্থীদের সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে।
এদিকে, নতুন নিয়মে পরীক্ষা হওয়ার পরও পাশের হার তুলনামূলক অনেক বেশি হওয়ার কারণ জানতে ‘গ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সমন্বয়ক ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াতুল ইসলাম বলেন, ‘প্রত্যেক বছরের প্রশ্ন এক রকম হয় না। একেক বছরের প্রশ্ন একেক রকম হয়। তাছাড়া, ছাত্র-ছাত্রীদের প্রস্তুতি হয়তো এবার ভালো ছিল।’
এবছরের প্রশ্ন তুলনামূলক সহজ ছিল কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশ্নের মান ঠিকই ছিল। কিন্তু এবছর প্রশ্ন কম ছিল তো। আগে ৬০ মিনিটে একশোটা প্রশ্নের উত্তর দিতে হতো, এবার ৫০ মিনিটে ৬০ টি প্রশ্নের উত্তর দিতে হয়েছে। তাই পরীক্ষার্থীরা চিন্তা ভাবনা করে উত্তর দিতে পেরেছে। আগে তাড়াহুড়োতে ভুুল বেশি হতো।’