দীর্ঘ ২৮ বছর প্রতীক্ষার পর সচল হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল ছাত্র সংসদ। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মাঝে অনেক আশা ও প্রত্যাশা ছিল। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সাধারণ ছাত্রদের বিপদ-আপদে এগিয়ে আসবে। কিন্তু দায়িত্ব গ্রহণের একমাসের মাথায় এসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন ডাকসু ও হল ছাত্র সংসদের নেতারা।
জানা গেছে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছেলেদের আবাসিক হলগুলোতে প্রশাসনের ভূমিকায় সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের। তবে সেক্ষেত্রে বিজয় একাত্তর হল ভিন্ন। আর মেয়েদের হলে প্রশাসন সিট বন্টন করে থাকে। সাধারণ ছাত্রদের প্রত্যাশা ছিল ডাকসু নির্বাচন হলে হয়তো সব হলে সিট বন্টন প্রশাসনের হাতে ন্যাস্ত থাকতো। কিন্তু সেটির কোন প্রতিফলনই ঘটেনি। তার উল্টো ঘটেছে। সলিমুল্লাহ মুসলিম হলে বহিরাগত ও অছাত্র বের করে দিতে গিয়ে ছাত্রলীগের হাতে রক্তাক্ত হয় ডাকসু নির্বাচনে অংশ নেয়া এক স্বতন্ত্রপ্রার্থী। পরে বিষয়টির বিচার চাইতে গিয়ে ডাকসু ভিপি নুরসহ বেশ কয়েকজন ছাত্রী লাঞ্চিতও হয়।
জানা যায়, ছাত্রলীগ হলগুলোতে প্রশাসনের ভূমিকায় থাকায় হলে অনায়াসে বহিরাগত ও অছাত্র থাকছে। যে কারণে আবাসন সংকট দেখা দিচ্ছে। সিট পাচ্ছেন না বৈধ শিক্ষার্থী। ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনে অনেক প্রতিনিধি হলের গেস্টরুম-গণরুম নিয়ে অনেক ইশতেহার দিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর তা বাস্তবায়নে কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, তাদের দেওয়া ইশতেহার যেন কথার বুলি ছাড়া কিছুই ছিল না।
না প্রকাশে অনিচ্ছুক মহসীন হলের এক শিক্ষার্থী দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভেবেছিলাম ডাকসু হলে সকল সমস্যা সমাধান হবে কিন্তু সব আগের মত আছে। হলের সকল কিছুর ক্ষমতায় এখন ক্ষমতাসীন ছাত্র সংগঠনের হাতে রয়েছে।
চাইলে ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, হলে বর্তমানে যে অনিয়ম বিশৃঙ্খলাগুলো আছে এর জন্য অনেকাংশে দায়ী ক্ষমতাসীন ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ। মেধারভিত্তিতে সিট নিশ্চিত করা, গেস্টরুম-গণরুম বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না তাদের জন্যে। কারণ বহিরাগত-অছাত্ররা থাকে ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায়। গণরুম-গেষ্টরুম চালায় ছাত্রলীগ। তারা নির্বাচনের আগে বলেছিল এগুলো পরিবর্তন করবে। আমরাও বলেছিলাম, এটা ভাল উদ্যোগ।
তিনি বলেন, নির্বাচন যে প্রক্রিয়াতে হোক তারা যেহেতু ডাকসুতে আসছে। আমরা ভেবেছিলাম তারা তাদের নির্বাচনী যে ইশতেহার দিয়েছিল সেগুলো তারা বাস্তাবায়ন করবে। ডাকসু বা হল ছাত্র সংসদকে কার্যকর করতে কাজ কবে। ছাত্রলীগের আগের যে কার্যক্রম বা ধারা ছিল এখনো সেগুলো আছে। আমরা চেষ্টা করছি ছাত্রলীগের বাইরে যারা আছে তাদের নিয়ে কাজ করতে। তারা বলেছিল নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়ন করবে কিন্তু আমরা বাস্তবে তেমনটা দেখতে পারছি না।
তিনি আরও বলেন, হল থেকে বহিরাগত ও অছাত্রদের বের করার জন্যে আমরা একটি প্রদক্ষেপ নিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে ছাত্রলীগ আমাদের অসহযোগিতা করেছে এবং আমাদের হামলা করেছে। হলে যেহেতু ছাত্রলীগ আধিপত্য বিস্তার করেছে তারা যদি চায় এগুলো দূর করতে পারে। এই বিষয়গুলোতে সাধারণ শিক্ষাদের এগিয়ে আসতে হবে।
এ ব্যাপারে ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমরা চেয়েছি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যেন গেস্টরুম সংস্কৃতি পুরোপুরি উৎপাঠিত হয়। সবাই যেন সত্য, সুন্দর,নান্দনিকতার রাজনীতি করে। হল ছাত্র সংসদের যারা নির্বাচিত প্রতিনিধি রয়েছে তাদের কাছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। তারা যেন প্রত্যাশানুযায়ী কাজ করে।