ফের বিবৃতি দিলেন ববি উপাচার্য, আল্টিমেটাম শেষ হচ্ছে কাল

০২ এপ্রিল ২০১৯, ১০:৩৯ PM
ববি উপচার্য

ববি উপচার্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান ছাত্র আন্দোলনের অষ্টম দিনে আবারো বিবৃতি দিয়েছেন উপাচার্য প্রফেসর ড. এস এম ইমামুল হক। মঙ্গলবার বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ে জনসংযোগ অফিস থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই বিবৃতি দেয়া হয়।

এতে উপাচার্য ড. এস এম ইমামুল হক বলেন, ‘গত ২৬ মার্চ ২০১৯ তারিখ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসে ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ডিবেটিং সোসাইটি’ কর্তৃক আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আমার প্রদত্ত বক্তব্যের মধ্যে অনুক্ত একটি শব্দ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হয়। এটির সুযোগ নিয়ে একটি স্বার্থান্বেষী মহল বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করে তোলার প্রয়াস নেয়। এরই ধারাবাহিকতার শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীসহ বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক নিরাপত্তাহীনতার সম্মুখীন হয়।’

তিনি বলেন, ‘উদ্ভুত পরিস্থিতিতে এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিশেষ করে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ করতে বাধ্য হই। এই সিদ্ধান্তটি নিতে আমার অনেক মানসিক কষ্ট করতে হয়, কারণ আমি নিজেও একজন শিক্ষক, শিক্ষাকার্যক্রম চালু রাখাই আমার কাজ। একই কারণে শিক্ষার্থীদের হল ছাড়ার নির্দেশনাও প্রদান করা হয়েছিলো। পরবর্তীতে গত ২৯ মার্চ প্রেস রিলিজের মাধ্যমে আমার বক্তব্যের কারণে কেউ আহত হয়ে থাকলে তার জন্য আমি দুঃখ প্রকাশও করি; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ও প্রচারিত হয়েছে।’

কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী এখন পর্যন্ত তাদের কর্মসূচি অব্যহত রাখার নামে একাডেমিক ও প্রশাসনিক ভবনসমূহ তালা মেরে রেখে শিক্ষাকার্যক্রমকে বাধাগ্রস্থ করেছে। এ অবস্থায় একাডেমিক কার্যক্রম চালু করাও সম্ভব হবে না। আমি আমার শিক্ষার্থীদের নিশ্চিত করতে চাই অতিদ্রুত বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম চালু হবে।

তিনি বলেন, ‘বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ বাংলার গর্ব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-এর স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয় তারই সুযোগ্য কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র সক্রিয় ফল। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অক্ষুন্ন রাখা আমাদের সকলের পবিত্র দায়িত্ব। বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম সচল রাখার দায়িত্ব আমাদের সকলের। এ লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সার্বিক সহযোগিতা কাম্য। একইসাথে আমি বরিশালের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষানুরাগী, সুশীল সমাজ, স্থানীয় প্রশাসন, গণমাধ্যমসহ সমগ্র সচেতন বরিশালবাসীর প্রতি উদাত্ত আহবান রেখে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান পরিস্থিতি নিরসনে সার্বিক সহযোগিতা কামনা করছি।’

এদিকে আন্দোলনের অষ্টম দিনে সকাল থেকে প্রশাসনিক ভবনের নিজ তলায় অবস্থান কর্মসূচি নেয় শিক্ষার্থীরা । বিকাল সাড়ে তিনটা থেকে শুরু হয় আল্পনা আঁকা ও দেয়াল লিখন। তাঁরা একাত্মতার দেওয়াল, ‘দাবায়ে রাখতে পারবে না,’ ‘বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তচিন্তার জায়গা, ক্যান্টনমেন্ট নয়’ ইত্যাদি শিরোনামে দেওয়াল লিখেন। এসময় তারা প্রশাসনিক ভবনের নিজ তলা, শহীদ মিনার, শেখ হাসিনা হলে আলপনা আঁকেন। 

আন্দোলনকারী লোকমান হোসেন আবারো উপাচার্যের বিবৃতি প্রসঙ্গে বলেন, এই বিবৃতিতেও উপাচার্য বিভিন্ন মিথ্যাচার করেছেন। আমাদের আল্টিমেটাম আগামীকাল ২ টায় শেষ হবে। এর মাঝেই উপাচার্যকে পদত্যাগ করতে হবে। না হলে আমরা আরো কঠোর ও মানবিক কর্মসূচি প্রদান করব।

উল্লেখ্য, গত ২৬ শে মার্চ উপাচার্যের গার্ডেন পার্টি আয়োজনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামলে শিক্ষার্থীদের রাজাকারের বাচ্চা বলে অবিহিত করেন বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। চলমান আন্দোলনে উপাচার্য বক্তব্যের ভুল বোঝাবুঝি নিয়ে দু:খ প্রকাশ করলেও শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে। পরে তারা সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পুড়িয়ে ফেলেন।

মঞ্চে ফিরছে ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, নতুন প্রযোজনায় তেজগাঁও কলেজ …
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
চট্টগ্রামে চোরাই স্মার্টফোনসহ চক্রের ৩ সদস্য গ্রেপ্তার
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে বিভিন্ন পদে চাকরি, আবেদন ১০ সেপ্ট…
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
‘সংকটের দায় কৃষকের হলে সরকার ও প্রশাসনের কাজ কী?’
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
সাতকানিয়ায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ইলেকট্রিশিয়ানের মৃত্যু
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬
নেপালে ভূমিধস ও বন্যায় নিহত বেড়ে ৯৫, নিখোঁজ ৫০০
  • ২৬ আগস্ট ২০২৬