শান্তা (বামে) এবং মানসুরা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে হল সংসদের ছাত্রদল ভিপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ ভিপি প্রার্থীর অপপ্রচারের অভিযোগ উঠছে। বৃহস্প্রতিবার এই অভিযোগ করেন শামসুন নাহার হলের ছাত্রদলের ভিপি প্রার্থী মানসুরা আক্তার।
জানা যায়, ছাত্রদল প্রার্থী মানসুরা ও হলের অন্যান্য স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ‘আজকের বার্তা’ নামক একটা পত্রিকায় নিউজ করান ছাত্রলীগ ভিপি প্রার্থী শান্তা। আবার তিনি সেই পত্রিকা হলের কর্মচারীদের দিয়ে রুমে রুমে বিলি করান বলে অভিযোগ অন্য প্রার্থীদের।
পত্রিকাটিতে দেখা যায়, মানসুরা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নামে বিভিন্ন ধরনের অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ ভিপি প্রার্থী শান্তা। তার নিজের ফেসবুক আইডি রিপোর্ট করে বন্ধ করে দেয়ার অভিযোগ করে এই দুই প্রার্থীর বিরুদ্ধে। এছাড়াও সেখানে তিনি মানসুরার বিরুদ্ধে চুরির দায়ে হল থেকে বহিস্কৃত হওয়ার অভিযোগ করেন, যেটাকে মানসুরা মিথ্যাচার বলে উল্লেখ করেছেন।
ডাকসু নির্বাচনের আচরণবিধির ৯(ক) অনুযায়ী, নির্বাচনী প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত চরিত্র বা সংগঠনকে লক্ষ করে আক্রমণাত্মক বক্তব্য প্রদান, গুজব ছড়ানো বা কোনো ধরনের তিক্ত বা উস্কানিমূলক বা মানহানিকর কিংবা লিঙ্গ সাম্প্রদায়িকতা, ধর্মানুভুতিতে আঘাত লাগে এমন কোন বক্তব্য প্রদান করা গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তা প্রচার করা যাবে না।
আচরণবিধির ১৫(খ) তে বলা হয়েছে, কোন প্রার্থী বা তার পক্ষে কেউ নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করলে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা, প্রার্থীতা বাতিল অথবা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার অথবা রাষ্ট্রীয় বা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুযায়ী যেকোন দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে মানসুরা দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে জানান, এই ধরনের ঘটনা খুব দু:খজনক। একজন প্রার্থী কি করে এভাবে আচরণবিধি ভঙ্গ করতে পারেন তা আমার জানা নেই। এর আগেও তার কর্মী হলের ফেসবুক গ্রুপে আমাকে নিয়ে আজেবাজে কথা লিখেছে। তারপরও আমি সহনশীলতার সাথে বিষয়গুলো এড়িয়ে গেছি। এসময় তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ করবেন বলে জানান।
ইমি বলেন, শান্তা বিষয়টা বলেও অস্বীকার করার চেষ্টা করছে। সে আমার নামে রুমে রুমে উল্টাপাল্টা বলার জন্য তার কর্মীদের বলে দিয়েছে। এরমধ্যে পেপারে আমাদের নামে বাজে কথা চাপিয়েছে। হলে প্রতিদিনই সে নতুন ভাবে ঝামেলা করার চেষ্টা করতেছে। এছাড়া ভুয়া সংবাদ চাপিয়ে বিনামূল্যে ছাত্রদের মাঝে বিলি করা হয়েছে।
বিষয়টি শান্তা অস্বীকার করে বলেন, মানসুরা আমার বিরুদ্ধে না জেনে প্রমাণ ছাড়া অভিযোগ করেছে। আমাকে এক সাংবাদিক ফোন দিয়ে জানতে চেয়েছিল আমি কোন প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হচ্ছি কি না। আমি বলছি, আমি সরাসরি কোন প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হই নাই। তবে সোশাল মিডিয়ার প্রতিবন্ধকতার স্বীকার হয়েছি। ২৮ ফেব্রয়ারি আমাদের পাঁচ জনের আইডি ডিজেবল করে দেওয়া হয়েছে। এক সাংবাদিক যখন আমার কাছে জানতে চায়, কারা আপনার আইডিতে রিপোর্ট করে ডিজেবল করেছে। আমি বলেছি, নিশ্চই আমার বন্ধু কেউ করে নাই, আমার প্রতিপক্ষ কেউ করেছে। কিন্তু আমি ওই সাংবাদিককে মানসুরার নাম বলি নাই। এই কথাটা সাংবাদিক অন্যভাবে লিখেছে কিন্তু এর দায়ভার তো আমার নয়।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চিফ রিটার্নিং অফিসার অধ্যাপক ড. এস এম মাহফুজুর রহমান দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, আমার কাছে শান্তার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ এসেছিল। আমি অভিযোগ পত্র হল অফিস পাঠিয়েছি। হল কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবে।