নিরাপদ সড়ক আন্দোলন:
সড়কে অবস্থান নেয় শিক্ষার্থী © সংগৃহীত
নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে রোববারেও শিক্ষার্থীরা অবস্থান নিয়েছে । রীতিমত শিক্ষার্থীরা সড়কে নেমে চালক ও গাড়ির লাইসেন্স পরীক্ষা করে দেখছে এবং ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দেয়।
প্রতিনিধিদের থেকে খোজ নিয়ে জানা যায়, রোববার রাজধানীর উত্তরা, রামপুরা, আসাদ গেইট, বনানী ও কুড়িলে রাস্তায় অবস্থান নেয় শিক্ষার্থীরা।
সকাল সাড়ে ১১টার দিকে উত্তরা হাউজ বিল্ডিং এলাকায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী রাস্তায় নামে। প্রথমে বাংলাদেশ মেডিকেল কলেজের দিক থেকে মিছিল নিয়ে সড়কের মাঝে এসে অবস্থান নেয় একদল শিক্ষার্থী। এরপর আজমপুরের দিক থেকে আরও একটি মিছিল এসে তাদের সঙ্গে যোগ দেয়।
বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি, উত্তরা ইউনিভার্সিটি, ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলোজি, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভে দেখা গেছে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের বেশির ভাগই ইউনিফর্ম পরা এবং গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে রাখছে। আন্দোলনের মধ্যে নাশকতা ঘটাতে অন্য পক্ষ ঢুকছে বলে পুলিশের হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটে এই সতর্কতা। তারা সড়ক অবরোধ করে ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’ বলে স্লোগান দিচ্ছে । তাদের অবস্থানের কারণে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। টঙ্গী থেকে আসা বিআরটিসির বাসগুলো ঘুরিয়ে দিচ্ছে শিক্ষার্থীরা।
রোববার সকালে শিক্ষার্থীরা কুড়িলে যমুনা ফিউচার পার্কের সামনে অবস্থান নিয়েছে। ভাটারা থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান জানান, “সকাল সাড়ে ১০টার পর থেকে যমুনা ফিউচার পার্কের দুই পাশে তিন-চারশ শিক্ষার্থী বিক্ষোভ করছে।’’
শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, রোববার মালিবাগের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের উপর সরকার সমর্থক ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা হামলা চালিয়েছে।
বেলা ১১ টায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দুই শতাধিক শিক্ষার্থী আসাদ গেইটের আড়ং এর সামনে রাস্তায় জড়ো হয়ে বিক্ষোভ মিছিল করে। রামপুরায়ও দুপুরে শিক্ষার্থীরা অবস্থান নেয়। শাহবাগে সকালে একদল শিক্ষার্থী অবস্থান নিতে গেলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়।
মিরপুরে সড়কে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পাল্টায় অঘোষিত ধর্মঘটে থাকা পরিবহন শ্রমিকদের অবস্থান নিতে দেখা গেছে। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরাও মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে অবস্থান নিয়েছেন ।
প্রসঙ্গত, গত রোববার রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাসের চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হয়।এর পর এক সপ্তাহ ধরে নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন চলে আসছে।