ভাষা সৈনিক অধ্যাপক হালিমা খাতুন আর নেই

০৩ জুলাই ২০১৮, ০৫:২০ PM
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও ভাষা সৈনিক অধ্যাপক ড. হালিমা খাতুন আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়াইন্নাইলাইহি রাজিউন)। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মুত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৬ বছর।

সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা জ্ঞাপনের জন্য বুধবার দুুপরে তার মরদেহে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। পরে বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা শেষে বিকালে মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে দাফন করা হবে।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কমিউনিকেশন ও মার্কেটিং বিভাগের প্রধান সাগুফা আনোয়ার জানান, শনিবার হৃদরোগ, কিডনি জটিলতা, রক্তদূষণের মতো নানা জটিলতা নিয়ে হালিমা খাতুন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর ১টা ৫৬ মিনিটে সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

ড. হালিমা খাতুনের নাতনী অন্তরা বিনতে আরিফ প্রপা জানান, বৃহস্পতিবার গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় তাকে রাজধানীর গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তিনি বলেন, হালিমা খাতুনের মরদেহ মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নিয়ে যাওয়া হবে ধানমন্ডিতে নাতনীর বাসায়। সেখানে রাখা হবে ফ্রিজিং ভ্যানে। তারপর বুধবার সকাল ১১টায় মরদেহ নিয়ে যাওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে। সেখানে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের ব্যানারে হবে নাগরিক শ্রদ্ধা নিবেদন পর্ব।

ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অধ্যাপক অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। মঙ্গলবার এক শোকবাণীতে ভিসি বলেন, হালিমা খাতুন বিশ্ববিদ্যালয়ের শুধু একজন নিবেদিতপ্রাণ শিক্ষকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও কথাসাহিত্যিক।

এদিকে, ড. হালিমা খাতুনের মৃত্যুতে গণ বিশ্ববিদ্যালয় পরিবার গভীরভাবে মর্মাহত ও শোকাহত। গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্ট, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর পক্ষ থেকে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করা হয়েছে। ২০১৭ থেকে তিনি গণ বিশ্ববিদ্যালয় ট্রাস্টি বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করছিলেন এবং ২০০৮ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. হালিমা খাতুন ১৯৩৩ সালের ২৫ শে আগস্ট বাগেরহাট জেলার বাদেকাড়াপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাদেকাড়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়, মনমোহিনী গার্লস স্কুল, বাগেরহাট প্রফুল্ল চন্দ্র কলেজে পাঠ শেষে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে এমএ এবং পরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় এমএ পাস করেন। ১৯৬৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব নর্দান কলোরাডো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা বিষয়ে পিএইচ ডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

হালিমা খাতুন ভাষা আন্দোলনে অনন্য অবদানের জন্য তিনি শিল্পকলা একাডেমি থেকে ‘ভাষা সৈনিক’ সম্মাননা লাভ করেন। হালিমা খাতুনের একমাত্র মেয়ে দেশের অন্যতম আবৃত্তিশিল্পী প্রজ্ঞা লাবণী।

১৯৫৩ সালে খুলনা করোনেশন স্কুল এবং আরকে গার্লস কলেজে শিক্ষকতার মধ্যদিয়ে হালিমা খাতুনের কর্মজীবনের শুরু। কিছুদিন রাজশাহী গার্লস কলেজে শিক্ষকতার পর যোগ দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে। এখান থেকে অধ্যাপক হিসেবে ১৯৯৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন তিনি।

মদের বারে তর্কাতর্কির জেরে যুবক খুন, আটক ১
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
যৌন হয়রানির অভিযোগ আমলে না নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে ব্…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
আর্জেন্টিনার গোলরক্ষককে দলে ভেড়াল চেলসি
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
ফেনীর নতুন জেলা প্রশাসক মাহবুবউল করিম
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
৩ মাস পর নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে ট্রেজারার নিয়োগ, দায়িত্বে অধ্…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের এলএলবি ফাইনাল কোর্সের রেজিস্ট্রেশন কা…
  • ২৮ আগস্ট ২০২৬