এএসপি পরিচয়ে প্রেম, বিয়ের পর জানা গেল বাদাম বিক্রেতা

২৬ জুন ২০২১, ০৮:২৩ AM
ভুয়া এএসপি

ভুয়া এএসপি © সংগৃহীত

মুঠোফোনে যোগাযোগ। এরপর নিজেকে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পরিচয় দিয়ে কলেজছাত্রীর (১৭) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এক যুবক। টানা দেড় বছর ধরে মুঠোফোনে যোগাযোগ চালিয়ে যান। একপর্যায়ে সেই সম্পর্ক বিয়ে পর্যন্ত গড়ায়। কিন্তু এক সপ্তাহের মাথায় জানা যায় তিনি ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) রাতে বগুড়া সদর উপজেলার গোকুল ইউনিয়নের পলাশবাড়ি গ্রাম থেকে আবদুল আলিম (৩২) নামের ওই যুবককে আটক করে পুলিশ। তিনি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার ঢাকিয়াপাড়া গ্রামের মৃত ফজলুল হকের ছেলে।

প্রতারণার মাধ্যমে বিয়ে করে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে শুক্রবার (২৫ জুন) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, বছর দেড়েক আগে বগুড়া সদরের গোকুল ইউনিয়নের বাসিন্দা ও ছাত্রীর সঙ্গে আলিমের মুঠোফোনে যোগাযোগ হয়। ওই সময়ে তিনি নিজেকে পুলিশের এএসপি পরিচয় দেন এবং রংপুর রেঞ্জে কর্মরত বলেন। নিজের নাম বলেন রাসেল (৩২) এবং বাসা রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায়। এরপর মুঠোফোনে ওই কলেজছাত্রীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

একপর্যায়ে বিয়ের কথা বলেন। ওই ছাত্রী তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে বাড়িতে আসতে বলেন। এরপর ১৮ জুন সকালে হঠাৎ করে ছাত্রীর বাড়িতে এসে হাজির হন ওই যুবক। তাঁর সঙ্গে ছিল পুলিশের মনোগ্রামসংবলিত একটি ব্যাগও। এ সময় তরুণীর পরিবারকে বলেন, পুলিশে নতুন চাকরি, বাহিনী থেকে এখনো বিয়ের অনুমতি মিলেনি। এ কারণে গোপনে বিয়ে করতে হবে। ওই যুবকের কথা বিশ্বাস করে ১৮ জুন রাতে মৌলভি ডেকে ঘরোয়াভাবে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে ছাত্রীর পরিবার।

এরপর কলেজছাত্রীর সঙ্গে স্বামী–স্ত্রী হিসেবে শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করতে থাকেন ওই যুবক। সপ্তাহ ঘুরতে না ঘুরতে ওই যুবকের কথাবার্তায় সন্দেহ হয়। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রতিবেশীরাও ওই যুবককে চ্যালেঞ্জ করে। চাপে পড়ে স্বীকার করেন তিনি ‘ভুয়া পুলিশ কর্মকর্তা’। পরে খবর দেওয়া হয় বগুড়া সদর মডেল থানায়।

সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক বেদার উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বগুড়া সদরের পলাশবাড়ি গ্রাম থেকে ওই যুবককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে তার নাম, ঠিকানা, পরিচয় সবই ভুয়া। জিজ্ঞাসাবাদে ওই যুবক আরও স্বীকার করেন, তিনি পেশাদার প্রতারক। মাঝেমধ্যে ফেরি করে বাদাম বিক্রি করেন। প্রতারণা করে কিশোরী ও তরুণীদের বিয়ে করা তার নেশা। এ পর্যন্ত প্রতারণার মাধ্যমে তিনি পাঁচটি বিয়ে করেছেন। প্রথম স্ত্রীর পক্ষে দুটি সন্তানও রয়েছে তার। তবে স্ত্রীর সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হয়েছে।

বগুড়া সদর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে বিয়ে করে ধর্ষণ এবং পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়ায় ওই যুবকের বিরুদ্ধে তরুণীর বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ছাড়াও প্রতারণার অভিযোগে শুক্রবার সদর থানায় মামলা করেছেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

অনির্দিষ্টকালের বন্ধ সিলেটে সব পেট্রোল পাম্প
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
সংসদ থেকে ওয়াক-আউট, যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
স্বামীর কাছে যাওয়ার আগের দিন ঝুলন্ত অবস্থায় মিলল গৃহবধূর লাশ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
ব্যক্তি উদ্যোগে মহাসড়ক থেকে ময়লার স্তুপ অপসারণ
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিস সূচি পরিবর্তনের বিজ্ঞপ্তিটি ভু…
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
দেশের ৯ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়-বৃষ্টির আভাস
  • ০২ এপ্রিল ২০২৬
×
  • Application Deadline
  • April 1, 2026
  • Admission Test
  • April 4, 2026
APPLY
NOW!
UNDERGRADUATE ADMISSION
SUMMER 2026!
NORTH SOUTH UNIVERSITY
Center of Excellence