ওদের নিয়েই চলে গেলাম, সন্তানসহ আত্মহত্যা করা মায়ের চিঠি

১৭ অক্টোবর ২০২০, ১০:০৭ AM
ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করা মা আরিফা বেগম ও দুই সন্তানের মরদেহ

ঠাকুরগাঁওয়ে পুকুর থেকে উদ্ধার করা মা আরিফা বেগম ও দুই সন্তানের মরদেহ © সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে মা আরিফা বেগম ও দুই সন্তানের মরদেহ উদ্ধারের পর একটি চিঠি উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই পৃষ্টার চিঠিটি লেখা আরিফা বেগমের। সেখানে আত্মহত্যার কারণ লিখে রেখে গেছেন তিনি। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মেয়ের পড়ার টেবিল থেকে চিঠিটি উদ্ধার করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রানীশংকৈল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ ইকবাল। তিনি বলেন, মেয়ের টেবিলে বই-খাতা দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় চিঠিটি খুঁজে পাওয়া গেছে।

চিঠিতে আরিফা বেগম লিখে গেছেন, ‘সংসারের অভাব অশান্তি আর ভালো লাগে না। একাই চলে যেতাম, কিন্তু একা গেলে বাচ্চারা মা মা বলে হাহাকার করবে। এজন্য ওদের নিয়েই চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম। আমি নিজেই আত্মহত্যা করলাম।’ তার মৃত্যুর জন্য কেউ দায়ী না বলেও উল্লেখ করেন তিনি। 

স্বামী আকবরকে উদ্দেশ্য করে আরিফা লিখেছেন, ‘তোমার প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই। বিয়ের মোহরানা মাফ করে দিলাম। তুমি ভালো থেকো।’ এছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে উদ্দেশ্য করে লিখেছেন, ‘আপনাদের সঙ্গে অনেক খারাপ আচরণ করেছি, এর জন্য মাফ চাই।’

আকবর আলী বলেন, ‘অভাব-অনটনের সংসারে ঝগড়া-বিবাদ হয়েই থাকে। একটি সংস্থা থেকে ১৪ হাজার টাকা ঋণ নেয়ায় আরিফার সঙ্গে বুধবার সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। আরিফা সব সময় বলত, ‘আমি তোমার বাসায় থাকব না। যেখানে যাই, ছেলে-মেয়েকে সঙ্গে করেই নিয়ে যাব। কিন্তু ছেলে-মেয়ে নিয়ে এভাবে চলে যাবে বুঝতে পারিনি।’

ওসি এসএম জাহিদ ইকবাল বলেন, অভাব-অনটন ও সংসারে অশান্তি ছিল আরিফার বলে পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে। এ কারণে হতাশা ও বিষণ্নতায় ভুগছিলেন তিনি। সেজন্য মেয়ে ও ছেলেকে বিষাক্ত কিছু খাইয়ে পরে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন। ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে সবটা জানা যাবে। বলে তিনি জানান।

মরদেহ উদ্ধারের পর স্বামী আকবর আলী, শ্বশুর সিরাজুল ইসলাম, শাশুড়ি মনোয়ারা বেগম ও দেবর বাবর আলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে পুলিশ। পরে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হেফাজতে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয় বলে জানান ওসি।

ঠাকুরগাঁও জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মুহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, উদ্ধার করা চিঠিটি আরিফার নিজের লেখা কিনা তা নিশ্চিত হতে যাচাই করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করছে পুলিশ।

গত বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) উপজেলার ধর্মগড় ইউনিয়নের ভরনিয়া শিয়ালডাঙ্গী গ্রামের একটি পুকুর থেকে আরিফা বেগম (৩২), তার মেয়ে আখলিমা আখতার আঁখি (১০) ও ছেলে আরাফত হোসেনের (৪) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

চাঁদা না পেয়ে কলেজ শিক্ষককে মারধর, বিএনপি কর্মী আটক
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
মৃত্যু নিয়ে লাইভ: যুবদল নেতার বহিষ্কার নিয়ে যা জানা গেল
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
আসামের 'মিঞাঁ মুসলমানদের' বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দিতে বললেন মু…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করতে পারবে যুক্তরাজ্যের নাগরিকেরা, ১৫…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
ইনস্টাগ্রাম, ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপে সাবস্ক্রিপশন পরীক্ষায় যা…
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬
পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হলেন ৪০ কর্মকর্তা
  • ৩০ জানুয়ারি ২০২৬