দেশে ২৪ ঘন্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত আরও ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে মোট মৃত্যু হলো ৮৪ জনের। একইসময়ে নতুন করে ৩০৬ করোনায় আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ১৪৪ জন।
প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের বিস্তাররোধে দেশের অধিকাংশ এলাকা লকডাউন ঘোষণা করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তারপরও দেখা যাচ্ছে, অনেকে লকডাউন না মেনে বিনা প্রয়োজনে চলাফেরা করছেন। এতে ভাইরাসের বিস্তারের ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছে। যারা লকডাউনের নিয়ম বা আইন লঙ্ঘন করবেন তাদের ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান নির্ধারিত হয়েছে।
জনস্বাস্থ্য-সংক্রান্ত জরুরি অবস্থা মোকাবিলা এবং স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি হ্রাসকরণের লক্ষ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি, সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে ২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। এ আইন লঙ্ঘন করলে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেয়ার বিধান রয়েছে।
এরইমধ্যে এই আইনের ক্ষমতা বলেই করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে ‘পুরো দেশকে ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর।
২০১৮ সালে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইনের ২৪ ধারায় বলা হয়েছে-
২৪ (১) : যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা বিস্তার ঘটাতে সহায়তা করেন বা জ্ঞাত থাকা সত্ত্বেও অপর কোনো ব্যক্তি সংক্রমিত ব্যক্তি বা স্থাপনার সংস্পর্শে আসিবার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি তাহার নিকট গোপন করেন তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তির অনুরূপ কার্য হইবে একটি অপরাধ।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন কোনো অপরাধ সংঘটন করেন, তাহা হইলে তিনি অনূর্ধ্ব ৬ (ছয়) মাস কারাদণ্ডে বা অনূর্ধ্ব ১ (এক) লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) ডিএমপির নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন থানা এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় রমনা বিভাগের নিউমার্কেট থানা এলাকায় ৭টি মামলায় ১৫ হাজার জরিমানা করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। লালবাগ বিভাগের সূত্রাপুর থানা এলাকার ৬টি মামলায় ১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা করা হয়।
মতিঝিল বিভাগের মুগদা থানা এলাকায় ৫ জনকে ১ হাজার ৫০০ টাকা ও উত্তরা বিভাগের উত্তরা পূর্ব থানা এলাকায় ১৩ মামলায় ১৩ হাজার ৭০০ টাকা জরিমানা করে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত।