© টিডিসি ফটো
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল রানার রুম লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) রাত দুইটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
ঘটনার পরে আতঙ্কে রাত পার করেন হল এবং শাখা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে জুয়েল রানা বলেন, ‘রাতে কামাল উদ্দিন হলে আমার ২৫১ নম্বর রুম লক্ষ্য করে কারা যেন গুলি ছুড়েছে। এরপর থেকে আমি আতঙ্কিত এবং নিরাপত্তাহীনতায় আছি। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সবকিছু অবহিত করা হয়েছে।
কারা এ কাজ করতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘গত কিছুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একটি অংশ তাদের মত কার্যক্রম চালাচ্ছে। কেন্দ্রীয় কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের নিয়ন্ত্রণ তারা মানছে না। তাদের কেউ এ কাজে জড়িত থাকতে পারে। আমি কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে সব জানিয়েছি তারা ব্যবস্থা নেবে।’
আ ফ ম কামাল উদ্দিন হল ছাত্রলীগ নেতারা অভিযোগ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়কে অস্থিতিশীল করতে ছাত্রলীগের বিদ্রোহীদের কেউ এ ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে বিদ্রোহী নেতারা বলছেন, তাদের কেউ এ ধরনের কাজের সাথে জড়িত নয়। তাদেরকে ফাঁসানোর জন্য সভাপতি নিজেই এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।
এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, ‘ঘটনাটি শুনলাম। যে বা যারা এ কাজটি করেছে তারা অত্যন্ত খারাপ কাজ করেছে। ছাত্রলীগের কোনো অংশ এর সাথে জড়িত থাকলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন সাধারণ সম্পাদক নেই। এ অবস্থায় নতুন কমিটি অথবা ভারপ্রাপ্ত কমিটি দেওয়ার কথা ভাবছি।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও আ ফ ম কামাল উদ্দিন হলের প্রাধ্যক্ষ আ স ম ফিরোজ-উল-হাসান বলেন, ‘বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানানো হবে। এভাবে একটা বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারেনা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
প্রসঙ্গত, প্রায় ছয়মাস ধরে সাধারণ সম্পাদক ছাড়া চলছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ। এছাড়া কিছুদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ সভাপতিকে ক্যাম্পাস ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে ছাত্রলীগের একাংশের নেতাকর্মীরা। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি, ছয় মাস আগে সাধারণ সম্পাদকের লাপাত্তা হয়ে যাওয়া, সংকটে সভাপতিকে পাশে না পাওয়া ও একনায়কতান্ত্রিক মনোভাবের অভিযোগ এনে সভাপতি জুয়েল রানার প্রতি অনাস্থা জানান তারা।